নানা জটিলতায় রাজশাহীর সরকারী প্রকল্পের ১১টি মসজিদের কাজে ধীরগতি | সময় সংবাদ - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, এপ্রিল ০৬, ২০২২

নানা জটিলতায় রাজশাহীর সরকারী প্রকল্পের ১১টি মসজিদের কাজে ধীরগতি | সময় সংবাদ

নানা জটিলতায় রাজশাহীর সরকারী প্রকল্পের ১১টি মসজিদের কাজে ধীরগতি 


ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী:

রাজশাহীর ৯টি উপজেলার মডেল মসজিদের কাজ নিয়ে গড়িমশি। ঠিকাদারদের গাফলতি, অর্থ সঙ্কট এবং মসজিদ নির্মাণের নির্ধরিত স্থান বুঝে না পাওয়ার কারণে শেষ হচ্ছে না মডেল মসজিদের কাজ। রাজশাহীতে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১১টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। 


অনুসন্ধানে দেখা গেছে ০৩টি মসজিদের কাজ শুরুই হয়নি অপর ০৩ টি মসজিদের কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে। ০১ টির কাজ বন্ধ হয়ে আছে ০১ বছরের বেশি সময়। তবে ১১টি মসজিদের মধ্যে কাজ শেষ করে উদ্বোধনের অপেক্ষায় ০১ টি, অপরটির ৩০ ভাগ কাজ বাকি রয়েছে এবং গত বছরের নভেম্বরে উদ্বোধন করা হয়েছে আর ০১টির। সরকারের নেওয়া দেশব্যাপী মসজিদ নির্মাণে বৃহৎ এই প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে চরম হতাশাও সৃষ্টি হয়েছে খোদ গণপূর্ত অধিপ্তরের কর্মকর্তাদের মাঝেই। আবার এলাকার মুসল্লিরা আধুনকি মডেল মসজিদে নামাজ আাদয়ের অধির আগ্রহ নিয়েই দিন কাটাচ্ছেন। কোথাও কোথাও মসজিদ ভেঙে নতুন মসজিদের কাজ শুরু হওয়ায় ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে মুসলমান র্ধমপ্রাণ মানুষের। এতে স্থানীয়দের মাঝে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় ৯টি এবং রাজশাহী সদরে দুটি মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য মোট ১১টি দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০১৯ সালের মার্চ থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে। একেকটি মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১৩-১৩ কোটি টাকার মধ্যে। উপজেলা পর্যায়ে তিন তলা এবং রাজশাহী সদরের দুটি হবে চারতলা মসজিদ। সদরের দুটিতে প্রায় ১৩ কোটি টাকা করে ব্যয় ধরা হয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে জেলা সদর মডেল মসজিদ এবং অপরটি হচ্ছে নগরীর উপশহর মডেল মসজিদ।


সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে জানাগেছে ০২টি মসজিদের মধ্যে উপশহর মডেল মসজিদের কাজ শুরু হলেও শেষ হতে আরও বছর খানেক লাগতে পারে। আর জেলা সদর মডেল মসজিদ হওয়ার কথা রয়েছে হেতেম খাঁ এলাকায়। হেতেম খাঁ বড় মসজিদ ভেঙে সেখানে এই আধুনিক মসজিদ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এখনো পুরনো মসজিদটিই ভাঙা হয়নি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে মসজিদটি ভাঙার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে গত ডিসেম্বরে। কিন্তু এখনো ভাঙার কাজ শুরু না হওয়ায় নতুন মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজে হাত দিতে পারেননি ঠিকাদার জাকির হোসেন। একইভাবে মসজিদ নির্মাণের স্থান বুঝে পেতে দেরি হওয়ায় এখনো কাজ শুরু হয়নি জেলার মোহনপুর ও বাগমারায়। ফলে এ তিনটি মসজিদের নির্মাণকাজ আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ করতে না পারলে নির্মাণ প্রকল্পই হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও শঙ্কা করছেন শংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।


জেলার দুর্গাপুরের মসজিদটিরও নির্মাণকাজ পেয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘কে এ এন্ড এমবিসি’র সত্বাধিকারী জাকির হোসেন। কিন্তু এখানেও তিনি কাজটি শেস করতে পারেননি গত প্রায় দুই বছরেও। এ মসজিদটির কেবল এক তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ হয়েছে। চুক্তিপত্রের সময়মতো গত বছরের অক্টোবরের মধ্যে কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে ২০ ভাগ কাজও শেষ করতে পারেননি ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। ফলে গণপূর্ত বিভাগ থেকে কাজের মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম দাবি বলেন, ‘যে গতিতে কাজ চলছে-তাতে আগামী দুই বছরেই কাজ শেষ হবে বলে মনে হচ্ছে না।’ এদিকে জেলার পুঠিয়াতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। এই মসজিদটিরও এক তলার ছাদ ঢালাই পর্যন্ত হয়েছে। তার পরেও ঢিমে-তালে কাজ চলছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় মুসল্লি নাদের আলী। তিনি বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে বসে আছি সরকারের উদ্যোগে গড়ে তোলা আধুনিক মসজিদে নামাজ আাদয় করবো। কিন্তু যে গতিতে কাজ হচ্ছে, তাতে করে আমার জীবদ্দশায় মনে হয় আর এ মসজিদে নামাজ পড়া হবে না।’


জেলার বাঘা মসজিদটির কাজের জন্য চুক্তিপত্র হয়েছে ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র পাইলিং করে পিলারের প্রস্তুতি চলছে। গত এক বছর ধরে এই মসজিদটির কাজ থমকে আছে বরাদ্দ না থাকায়। ঠিকাদারের গাফিলতি আর স্থান বুঝিয়ে দিতে দেরি হওয়ায় ভবন নির্মাণের জন্য বাকি কাজ গত এক বছরেও শুরু করা যায়নি। ফলে গবে নাগাদ কাজটি শেষ হবে, তা বুঝে উঠতে পারছেন না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাজিন এন্টারপ্রাপইজও। প্রতিষ্ঠানটির মসজিদ নির্মাণের স্থানে উপজেলা সদরের একটি ভবন এবং গাছপালা থাকায় সেগুলো অপসারণ করতে দেরি করেছে গণূপূর্ত বিভাগ। ফলে কাজটি শুরু করতেই দেরি হয় অনেক। তবে আমরা দ্রুত কাজ শুরু করবো বলে জানায় প্রযেক্ট প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ। 



চারঘাট মডেল মসজিদ নির্মানকাজ কেবল দোতালা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। এটিও চলছে কচ্ছপ গতিতে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ২য় তালা ছাদ ঢালাই কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ শেষ হওয়ার বিষয়ে কিছু জানযাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন। পবা ও গোদাগাড়ী মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ দুটি শেষ হয়েছে। তবে তানোরের মসজদিটির ৩য় তলার ছাদ ঢালাইও হয়ে গেছে। দ্রুতই এটির নির্মাণকাজ শেষ হবে। আগামী জুনের মধ্যে গোদাগাড়ী ও তানোর মসজিদটি উদ্বোধন করা হবে। আর পবা মসজিদটির উদ্বোধন এরই মধ্যে হয়ে গেছে। কিন্তু বাকি ছয়টি মসজিদ নির্মাণকাজ নিয়ে রাজশাহী গণপূর্ত দপ্তরের কর্মকর্তারা রয়েছেন বেকায়াদায়। প্রসঙ্গত, একই প্রকল্পের আওয়াতায় দেশব্যাপী ৫৬০টি মডেল মসজদি নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। ২০১৯ সালে এসব মসজিদ নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে ৫০টির উদ্বোধন হয়েছে। আরও ১২৯টি উদ্বোধন হবে আগামী জুনে। এদিকে নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী কাজ শেষ করতে না পারায় কোনো কোনো ঠিকাদারকে চুক্তি বাতিলের হুমকি দেওয়া চিঠিসহ তাগাদাপত্র দিয়েও তেমন লাভ হচ্ছে না। আবার যেসব মসজিদের কাজ এখনো শুরু হয়নি, সেগুলোও বর্ধিত সময়নুযায়ী আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ হবে না বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


জানতে চাইলে রাজশাহী গণপূর্ত-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, ‘দ্রুত কাজ শেষ শুরু করার তাগিদ দিয়ে আমরা একজন ঠিকাদারকে কাজ বাতিলের চিঠি দিয়েও হুমকি দিয়েছি। অন্যদের কাজ শেষ করতে তাগাদাপত্র দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অর্থ ছাড়া না হওয়া এবং নির্দিষ্ট সমেয়র মধ্যে স্থান বুঝে দিতে না পারার কারণেও মসজিদগুলো সময়মতো নির্মাণ করা যায়নি। তার পরেও আমরা সময় বর্ধিত করে নিয়েছি মন্ত্রণালয় থেকে। এখন চেষ্টা করছি বর্ধিত সময়ের মধ্যে যেভাবে হোক কাজগুলো শেষ করার। নানা জটিলতায় আমার তত্বাবধানে নির্মাণাধীন ৬টি মসজিদের কাজ এখনো শেষ করা যায়নি। এর মধ্যে দুটি মসজিদের কাজ শুরুই করা যায়নি। তবে আমরা দ্রুত কাজ শুরু ও শেষ করার চেষ্টা করছি। ঠিকাদারদের সহযোগিতা পেলে আশা করছি আগামী সময়ের মধ্যে সেগুলো শেষ করে ফেলবো বলে জানান রাজশাহী গণপূর্ত অধিপ্তর-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজ লাভলু। 


Post Top Ad

Responsive Ads Here