কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশা,নেই চিকিৎসক | সময় সংবাদ - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২০, ২০২২

কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশা,নেই চিকিৎসক | সময় সংবাদ

কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশা,নেই চিকিৎসক | সময় সংবাদ


কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি  :  

দেশের অন্যতম গুরুত্বপুর্ন পর্যটন নগরী কুয়াকাটা সৈকত ঘেঁষা কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নামেই শুধু ৫০শয্যার হাসপাতাল। প্রকৃতপক্ষে ৩১শয্যার সেবাও নেই এই হাসপাতালে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও অপারেশন থিয়েটার কক্ষ এখন তালাবদ্ধ।


অস্ত্রোপচার চিকিৎসক না থাকায় প্রসূতি সেবা কার্যক্রম রয়েছে বন্ধ। এ্যানেসথিয়া চিকিৎসক থাকলে থাকেন না গাইনি চিকিৎসক। সিজার করতে হলে এ দুইজন চিকিৎসক অবশ্যই থাকতে হবে। একজন দিয়ে কোনো ভাবেই সিজার সম্ভব নয়। অর্ধযুগেও ধরে হাসপাতালে এ দুইজন চিকিৎসক এক সঙ্গে আসছেন না। তাই অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা থাকার ফলেও সিজার করা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে গর্ভবর্তী প্রসুতি রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গরিব ও মধ্যবিও শ্রেনীর মানুষ। এ উপজেলার প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারিয়ানের মতো অপারেশন, আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হলে ও এ হাসপাতালেতার কোনো সুফলই মিলছে না। এ কারনে অপারেশন, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষা করতে ডায়াগোনস্টিক সেন্টারে গিয়ে সাধারন মানুষকে হয়রানিসহ মোটা অংকের টাকা গুনতে হচ্ছে।


এ উপজেলা ব্যাঙের ছাতার মতো গ্রাম গঞ্চে হাফ ডজন রয়েছে ডায়াগোনস্টিক সেন্টার। সিভিল সার্জন অফিস সনদপত্র দেখানোর নির্দেশ দিয়ে লাপাত্তা হয়ে পড়েন প্রাইভেট ডায়ানস্টিক কর্তৃপক্ষ। কিন্তু হাসপাতাল পয়েন্টে অবস্থিত বিভিন্ন প্রাইভেট ডায়ানস্টিক সেন্টারে চলছে সিজার।


বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলাপাড়ায় তিন লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সরকার স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়ে ১৫ ফেব্রæয়ারী ৩১ শয্যার এ হাসপাতাল আধুনিকায়ন করে ২০১২ সালে এ হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। মুল ভবনের পাশে আরও একটি দৃষ্টিনন্দন দু‘তলা ভবন নির্মান করে এর দু‘তলায় রয়েছে অপারেশনের সুবিধা সংবলিত একাধিক এয়ারকন্ডিশনার (এসি) যুক্ত একটি সজ্জিত অপারেশন থিয়াটার। হাসপাতাল গাইনি কনসালটেন্ট ডা. মান্নান ২০১৬ সালে কলাপাড়া হাসপাতালে যোগদান করে ২০১৭ সালে আবার বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যান। কিš‘ সেই থেকে অপারেশন থিয়েটার অর্ধযুগ বন্ধ রয়েছে। যার ফলে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কেনা অপারেশনের যন্ত্রপাতি নষ্ট হতে চলছে। প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা করার সুযোগ থাকা সত্বেও বেশ কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম বিকল থাকায় প্রায় তিনগুন টাকা দিয়ে বাইরের ক্লিনিক থেকে রোগীদের এসব পরিক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে। এতে করে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গরিব ও মধ্যবিও শ্রেনীর রোগীদের। এর মধ্যে গাইনি কনসালটেন্টের ও এনেসথেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন জটিল ও প্রসূতি রোগীরা ভিড় করলেও মিলছে না চিকিৎসাসেবা। রোগীদের অন্যত্র যেতে হচ্ছে। 


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য সূত্রে জানা যায়, সেপ্টেম্ভর মাসে নরমাল ডেলিভারি হয়েছে ৩০টি। ৫ বছরেরও অধিক সময় ধরে হাসপাতালে গর্ভবতী মহিলাদের কোনো সিজার (অপারেশন) হচ্ছে না। নষ্ট হওয়ার পথে মূল্যবান যন্ত্রপাতি। কক্ষের ভেতর ধুলোবালির স্তপ। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। কর্তৃপক্ষ বলছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের চিকিৎসক সংকটের কারণে হচ্ছে না সিজার। উপজেলা স্বাস্থ্য রকমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত গর্ভবতী মহিলাদের সিজারের ২টি কক্ষ। কক্ষের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। দীর্ঘদিন ধরে সিজারের কাজ নেই। তাই সেখানে নেই মানুষের পদচারণা। অপারেশন কক্ষের ভেতরে দুর্গন্ধ। মেঝেতে তেলাপোকা ও টিকটিকির পায়খানার স্তুুপ। মেশিন ও যন্ত্রপাতিগুলোতেও পড়ে আছে ধুলো-ময়লা। সুন্দর সুন্দর মেশিন রয়েছে, নেই ডাক্তার। গর্ভবতী মেয়েদের অপারেশন হয় না। সরকার দিলেও ভাগ্যে নাই। জরুরি মুহূর্তে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে কোন নারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেলে পটুয়াখালী-বরিশাল হাসপাতালে প্রেরন করছেন। যার কারণে যাতায়াতের ভোগান্তির পাশাপাশি বিপুল অর্থ ব্যয় হয় রোগীর স্বজনদের। হাসপাতালের বিভিন্ন্ ওর্য়াডে বেশ কিছু বৈদ্যুতিক ফ্যান ও বাল্ব নষ্ট। শয্যাগুলোয় বিছানার চাদরে দুর্গন্ধ ও মশারি না থাকায় সন্ধ্যার পর মশার উৎপাতে অতিষ্ট হয়ে উঠেন রোগীরা। মশার কয়েল কিনে এনে রোগীদের ঘুমাতে হয়। বাথরুম অপরিস্কার থাকে, দরজা ভাঙ্গা, লাইটও নেই। সব মিলিয়ে হাসপাতালে ভুতুড়ে পরিবেশ। হাসপাতালের আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি ৬ বছর ধরে নষ্ট রয়েছে। গর্ভাবস্থায় মায়ের পেটের বাচ্চার বৃদ্ধি ও অবস্থান, বাচ্চাার কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কি না সহজেই আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে বোঝা যায়। গর্ভাবস্থার শুরুতেই অর্থাৎ মাসিক বন্ধের দুই মাস বা ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে আলট্রাসনেগ্রাফি করানো উচিত। টেস্টটিউব বেবির ক্ষেত্রে ভ্রƒণ প্রতি স্থাপনের চার সপ্তাহ পর। আলট্রাসনেগ্রাফির মাধ্যমে অনেক তথ্য জানা যায়। যেমন জরায়ুর অভ্যন্তরে সঠিক স্থানে হৃৎস্পন্দন ও গর্ভসঞ্চার হয়েছে কি না নিশ্চিত করে। ভ্রƒণের সংখ্যা নির্ণয় করে। সঠিকভাবে প্রসবের তারিখ নির্ণয় করে। তবে আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে সঠিক তথ্য পাওয়ার জন্য ভালো মানের মেশিনের প্রয়োজন। পাশাপাশি যিনি আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা করাবেন, তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাও সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তৃ উপজেলা স্বাস্থ্য রকমপ্লেক্সের আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি ৬ বছর ধরে নষ্ট রয়েছে। হাসপাতালে আসা রোগীদের আলট্রাসনোগ্রাম করার প্রয়োজন হলে হাসপাতাল পয়েন্টে অবস্থিত বিভিন্ন প্রাইভেট ডায়ানস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে রোগীদের। 


নীলগঞ্জ ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা পেতে আসা রোগী স্মৃতি রহমান ও তার স্বজনা জানায়, ফাতিমা অসুস্থ্য হলে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে এসে শুনে যে হাসপাতাল গাইনি কনসালটেন্টের ও এনেসথিয়া চিকিৎসক নেই। এর রোগীকে নিয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রাইভেট ডায়ানস্টিক সেন্টারে সিজার করতে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এতে অনেক খরচ হয়। উপজেলায় হাসপাতালে যদি গাইনি কনসালটেন্টের ও এনেসথিয়া চিকিৎসক থাকতো তাহলে আমাাদের এতো টাকা ও খরচ হতো না। 


কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিন্ময় হাওরাদার জানান, এখানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স খুবই গুরুত্বপুর্ন এড়িয়া। ২৫০ রোগী সব সময় চিকিৎসা নিয়ে থাকে। সরকারের উন্নয়নমুলক কাজ চলছে এ অঞ্চলে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, পর্যটন এলাকা হিসেবে সব সময় লোক সমাগম থাকে তাদের কিছু হলে এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে থাকে। হাসপাতাল গাইনি কনসালটেন্ট ও এনেসথিয়া চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে চিকিৎসক সঙ্কট। মাননীয় সংসদ সদস্য ডিউ লেটার কয়েক বার জমা দেয়া হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কয়েক বার জানানো হয়েছে কিন্তু কোন ফল দেখতেছিনা। 


পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম কবির হাসান বলেন, শুধু কলাপাড়া হাসপাতালে গাইনি কনসালটেন্ট ও এনেসথিয়া চিকিৎসক সংকট নয়, পটুয়াখালী জেলারই কোন হাসপাতালে এ ডাক্তার নেই। চেষ্টা করছি ডাক্তার দেওয়ার জন্য।




সময় সংবাদ/এনটি


Post Top Ad

Responsive Ads Here