ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুর-২ আসনের উপনির্বাচনে প্রায় দশ সহস্রাধিক মানুষ ও কয়েকশত গাড়ি নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন মিয়া। সোমবার বেলা ১২টার দিকে সালথা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে সালথা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: তেলায়েত হোসেনের নিকট তিনি এ মনোনয়নপত্র জমা দেন। তার মনোনয়ন জমাদানকে কেন্দ্র করে সালথা উপজেলা এলাকা স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
এসময় সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো: ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক ভাইস চেয়ারমান লেবু মোল্যা, সালথা উপজেলার রামকান্তুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: ইশারত হোসেন, সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও গট্টি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার রেজাউর রহমান চয়ন, আনোয়ার হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক মো: নুরুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: খোরশেদ খা সহ সালথা উপজেলা আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের দশ সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় জামাল হোসেন বলেন, আমি নৌকার বিপক্ষে নয় আমি ব্যক্তি লাবু চৌধুরীর ও তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিপক্ষে নির্বাচন করে এই এলাকার মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য প্রার্থী হয়েছি। আমি আওয়ামী লীগের লোক আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বার্তা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছি। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারাজীবন আওয়ামী লীগ করে যাব।
তিনি আরো বলেন, আমি নগরকান্দা-সালথার জনগণের ইচ্ছায়ই রাজনীতি করি। তাদের ভালবাসা ও সমর্থন আমাকে এই পর্যন্ত এনেছে। আমি বরাবরই জনগণকে নিয়ে রাজনীতি করি এবং করতে চাই। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনও আমার রাজনীতির একমাত্র শক্তি। জনগণ সেটা ভোটের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিবে বলে আশা করি।
এর আগে মনোনয়নপত্র জমাদান উপলক্ষে প্রায় দশ সহস্রাধিক মানুষ ও কয়েক শত গাড়ির বহর নিয়ে নগরকান্দার তালমা ইউনিয়নের বাড়ি থেকে সালথা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার অফিসে আসেন জামাল হোসেন। এতে তার নির্বাচনী এলাকা সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ছাড়াও সাধারণ মানুষ অংশ নেয়।
সালথা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: তেলায়েত হোসেন জানান, ফরিদপুর ২ আসনের এই নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট হবে। এই আসনের মোট ভোটার ৩ লক্ষ ১৮ হাজার ৪৭৯ জন ।
উল্লেখ্য, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ফরিদপুর-২ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ নভেম্বর। নির্বাচন কমিশন ২৬ সেপ্টেম্বর এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১০ অক্টোবর, বাছাই ১২ অক্টোবর ও প্রার্থীতা প্রত্যাহার ১৯ অক্টোবর।
এ উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে ১১ সেপ্টেম্বর ওই আসন শূন্য হয়।



