![]() |
| রাজশাহীতে পুরোদমে চলছে খেজুর রস সংগ্রহ প্রস্তুতি | সময় সংবাদ |
উৎপাদিত গুড় বিক্রয় সম্ভাবনা মূল্য ৯৬ কোটি
ওবায়দুল ইসলাম রবি রাজশাহী:
রাজশাহীতে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে কৃষক ও গুড় ব্যবসায়ীরা। শীতের আগমনে জেলার ৯টি উপজেলায় তাদের প্রস্তুতী চলছে।
আগামী এক মাসের মধ্যে শীতের শুরু হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এই মৌসুমে ৯৬ কোটি ১৪ লক্ষ এবং ২০ হাজার টাকা মূল্যের খেজুরের গুড় বিক্রেয়র সম্ভাবনা রয়েছে। রাজশাহী কৃষি অধিদপ্তর তথ্যমতে, জেলায় ৫৯৩.৪৭ হেক্টর জমিতে মোট ১২ লক্ষ ১৭৭৫টি খেজুর গাছ রয়েছে এবং সংগ্রহকৃত রস থেকে ৯ হাজার ৬১৪ মেট্রিকটন গুড় উৎপাদন করা সম্ভব বলে জানান জেলা উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন।
শীতের পিঠা বাঙালিদের ঐতিহ্যবাহী মজাদার খাবার। এটি খেজুরের গুড়ের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। খেজুরের গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় রস, তা থেকে তৈরি হয় গুড়। তবে খেজুরের রস ও সুস্বাদু পানীয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাকৃতিকভাবে এই গাজ গুলো বেড়ে উঠছে। কিন্ত এই গাছ চাষ করেছ না কৃষক। বাংলাদেশের কৃষি দপ্তর খেজুর গাজ চাষের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ দেয় না। যার কারনে রাজশাহীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দিন দিন বিলুপ্ত হচ্ছে এই গাছ।
গত কয়েক বছর যাবত শীতকালের অনুভূতি ব্যাপক প্রভাব পরছে না। ভৌগোলিকভাবে এটি আবহাওয়ার পরিবর্তন। যার কারনে এই দেশেও দুর্যোগের সমস্যায় ভুগছে। মূলত বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ। কিন্তু, গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত ছাড় অন্য মৌসুম গুলো বুঝা যাচ্ছে না। ৬টি ঋতুর মধ্যে শীতকাল সেরা ঋতু। এই ঋতু নিয়ে আসে খেজুরের রস, গুড় সহ পিঠা পায়েসের উৎসব। এটি চাহিদা মেটায় খেজুরের রস। খেজুরের রস ছাড়া কিছুই তৈরি করা যায় না এবং শীতকালে পিঠা দিয়ে অতিথিদের সম্মান জানানো হয়।
এ বিষয়ে কৃষকরা জানান, তারা রস সংগ্রহ এবং গুড় উৎপাদনে উৎসুক নয়। উৎপাদনের জন্য কৃষি বিভাগের নেই কোন জোড়াল ততপরতা। তারা অর্থা দিয়ে কোন সাহায্য করে না। যার কারনে তারা গাছ কেটে ফেলছেন। হয়ত এক সময় জেলার আশেপাশে একটি গাছও আর জীবিত থাকবে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তর তাদের চাহিদা পূরণে সহয়তা করলে কৃষক খেজুর রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদন করতে পারবে। কৃষকের দাবি যথাযথ পরামর্শ, গাছের চারা ও আর্থিক সাহায্য পেলে এই ঐতিহ্যবাহী খাবার বিলুপ্ত থেকে বেচেঁ যাবে।
বাগমারা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে খেজুর রস ও গুড় তৈরী করা হয়। তবে খেজুরর গাছের পুঠিয়া, বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। চারঘাট উপজেলার ৩০ হেক্টর জমিতে মোট ৪৫০০ টি গাছ রয়েছে। সে অনুযায়ী ১৫৭.৫ মেট্রিকটন গুড় প্রস্তুত করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার। পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামছুন নাহার ভূঁইয়া সংবাদ পত্রকে বলেন, ৪২৮৫ হেক্টর জমিতে মোট ৭ লক্ষ ২০ হাজার গাছ রয়েছে। গুড়ের লক্ষ্যমাত্রা ২০০০ মেট্রিকটন। অপরদিকে বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান, দুর্গাপুর ইউএও রাজিয়া সুলতানা ও বাগমারা ইউএও আব্দুল রাজ্জাক জানান, কৃষি অফিস খেজুরের গুড় প্রস্তুত করার জন সকল প্রকার পরামর্শ কৃষকদের দেয়া হচ্ছে।
সময় সংবাদ/ এনটি

