কলাপাড়ায় প্রশাসনের নিরবতায় খাস পুকুর দখল | সময় সংবাদ
কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি:
কলাপাড়ায় প্রশাসনের সরব নিরবতায় মহিপুর ভুমি অফিসের পাশেই খাস খতিয়ানভুক্ত শতবর্ষী সরকারী পুকুর জবর-দখলে অবৈধ স্থাপনা নির্মান ও ময়লা আর্বজনার ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে।
দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় পুকুরটি প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। এ সুযোগে ভূমি অফিসের এক শ্রেনির অসাধূ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশে স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে। এটি বাজার পুকুর নামে বেশ পরিচিতি। পয়:বর্জ্য, গ্রহস্থালি বর্জ্য, হোটেল ও বাজারের ময়লা, আবর্জনা ফেলার কারনে পুকুরটি ক্রমে ক্রমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
এভাবে চললে অচিরেই অস্তিত্ব সংকটে পড়বে এক সময়ের দৃষ্টিনন্দন শতবর্ষী এ পুকুরটি। সরকারি ভুমি অফিসের পাশে নিবিঘেœ দখলদারদের স্থাপনা নির্মানে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার কথা উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মহিপুর ভুমি অফিসের ২৫-৩০ গজ দুরেই চলছে এমন দখল কার্যক্রম। এতে উপজেলা প্রশাসন ও ভুমি অফিস কর্মকর্তারা পালন করছে নিরব ভুমিকা।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাপড়াভাঙ্গা খালের ওপর (শিববাড়ীয়া নদী) ব্রিজ হওয়ার সময় যখন বাইপাশ সড়ক করা হয় তখন কিছু বালু পুকুরে পড়ে পুকুর ভরাট হয়। এর পর বাজার ব্যবসায়ীকদের পয়ঃবর্জ্য, গ্রহস্থালি বর্জ্য, হোটেল ও বাজারের ময়লা, আবর্জনা ফেলার কারনে পুকুরটি ক্রমে ক্রমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ভূমি অফিসের এক শ্রেনির অসাধূ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশে চান্দিনা ভিটি দিয়ে দাখিলা দেয় ব্যবসায়ীদের।
হোটেল ও বাজারের ময়লা, আবর্জনা ফেলার কারনে দুর্গন্ধে দোকানদার ও ক্রেতারা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। অপর দিকে এক শ্রেনির প্রভাবশালী ব্যবসায়ী পুকুরের পাশের জমি রাতারাতি দখল করে নিচ্ছে। বাজার পুকুরটি প্রভাবশালী দখল করে নেয়ার খবরটি এখন সর্বত্র আলোচিত রয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ জেলা উপজেলা ভূমি প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাবে একমাত্র বাজার পুকুরটি সরকারি সম্পতি বেহাত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওই পুকুরের পানি এক সময় স্বচ্ছ টকবগে থাকতো ও গোসল এবং রান্নার কাজে ব্যবসয়ীরা ব্যবহার করতো। মৎস্য বন্দর মহিপুর হাজার হাজার জেলেরা ওই পুকুরের পানিতে গোসল দিত ও বঙ্গোপসাগরে ওই পানি নিয়ে যেত ও রান্নার কাজে ব্যবহার করতো।
ব্যবসায়ী দলিল উদ্দিন ব্যাপারী বলেন, ্ঐতিবাহী এ মহিপুর বাজারে প্রতি বৃহস্পতিবার হাট বসে। এদিন বাজারে হাজারো লোকের সমাগম ঘটে। আসে পাশের এলাকার লোকজন সাপ্তাহিক বাজার করে এ বাজার থেকে কিন্তু দু:খের বিষয় বাজারটি অনেক জায়গা নিয়ে বাজার মিলতো। দখদারদের প্রভাবে কারনে বাজারটি সংকুচিত হয়ে আসছে। শেষপর্যন্ত বাজারের পুকুরটি ভূমি অফিসের এক শ্রেনির অসাধূ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দখলে মেতে উঠেছে। গ্রহস্থালি বর্জ্য, হোটেল ও বাজারের ময়লা, আবর্জনা ফেলার কারনে রোড দিয়ে বাজার দিন চলফেরা করা যায়না। নাক হাত দিয়ে চেপে ধরে হাটতে হয় দুর্গন্ধে দোকানদার ও ক্রেতারা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
মহিপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ডা. মো. খলিলুর রহমান বলেন, আগামী বাজার সমিতি মিটিংয়ে অবৈধভাবে যারা দখল করে পুকুরে জায়গা দখল করে নিচ্ছে তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা শংকর চন্দ্র বৈদ্য বলেন, কেউ যদি অবৈধভাবে সরকারী এ খাস পুকুর জবর-দখল করে থাকে তাহলে প্রশাসনের পক্ষে থেকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
