![]() |
| মিরিঞ্জা ভ্যালি: মেঘের রাজ্যে ভ্রমণপ্রেমীদের নতুন স্বর্গ |
মো: নাজমুল হোসেন ইমন, স্টাফ রিপোর্টার:
বান্দরবানের লামা উপজেলায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মিরিঞ্জা ভ্যালি বর্তমানে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনস্পট হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। পাহাড়, মেঘ ও আকাশের মিশেল এখানে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য তৈরি করেছে এক স্বপ্নিল পরিবেশ।
প্রকৃতির অপরূপ সাজে ঘেরা এই ভ্যালিতে যেকোনো সময়েই মেঘ ছুঁয়ে দেখার অভিজ্ঞতা মিলতে পারে। কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টি—আবহাওয়ার এই বৈচিত্র্যই মিরিঞ্জাকে করে তুলেছে আরও রহস্যময়। ভোরে পুরো ভ্যালি সাদা মেঘের চাদরে ঢেকে যায়। সাজেক ভ্যালির মতোই এখানে পর্যটকদের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে।
সমৃদ্ধ পর্যটন এলাকা:
মিরিঞ্জা ভ্যালি ছাড়াও আশপাশের পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য রিসোর্ট। কাছেই রয়েছে সুখিয়া ভ্যালি ও মাতামুহুরী নদী তীরের সুন্দর দর্শনীয় স্থান। ফলে পর্যটকদের কাছে এই অঞ্চল এখন একাধিক ভ্রমণস্পটের সমন্বিত গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।
মিরিঞ্জা ভ্যালি যাওয়ার উপায়:
ঢাকা থেকে আলীকদমগামী বাসে উঠে মিরিঞ্জা বাজারে নামা যায়। সেখান থেকে ট্রেকিং বা মোটরসাইকেলে কয়েক মিনিটের পথেই মিরিঞ্জা ভ্যালি।
যদি আলীকদমের বাস না পাওয়া যায়, তবে দেশের যেকোনো স্থান থেকে কক্সবাজারগামী বাসে চকরিয়া নেমে জিপ, চান্দের গাড়ি, বাস বা সিএনজিতে মিরিঞ্জা যাওয়া সম্ভব।
-চকরিয়া–মিরিঞ্জা: সময় ৪০–৫০ মিনিট
-জিপ/বাস ভাড়া: ৬০–৮০ টাকা
-সিএনজি: ৯০–১০০ টাকা
-বাজার থেকে রিসোর্ট: হাঁটায় ১০ মিনিট / মোটরসাইকেল ১০০–৩০০ টাকা
![]() |
| মিরিঞ্জা ভ্যালি: মেঘের রাজ্যে ভ্রমণপ্রেমীদের নতুন স্বর্গ |
দূরত্ব হিসেবে:
-ঢাকা–মিরিঞ্জা ভ্যালি: ৩৭০ কিমি
-চট্টগ্রাম–মিরিঞ্জা: ১১৫ কিমি
-কক্সবাজার–মিরিঞ্জা: ৬৪ কিমি
মিরিঞ্জা ভ্যালির রিসোর্ট ও থাকার ব্যবস্থা:
বর্তমানে এখানে ৪০টিরও বেশি জুমঘর ও রিসোর্ট রয়েছে। জনপ্রিয়তা বাড়ায় প্রতিনিয়ত নতুন রিসোর্ট গড়ে উঠছে।
ভাড়া:
-জুমঘর: ১,৫০০–৩,০০০ টাকা (৪–১০ জন ধারণক্ষমতা)
-প্রিমিয়াম রুম/কটেজ: ৩,০০০–৬,০০০ টাকা
-তাবু: জনপ্রতি ৩০০–৯০০ টাকা
জনপ্রিয় রিসোর্ট সমূহ:
-মিরিঞ্জা হিল রিসোর্ট – জুমঘর ২,০০০ টাকা (৬/৭ জন)
-মারাইংছা হিল রিসোর্ট – পড/কটেজ ৩,০০০–৫,০০০ টাকা, তাবু ৯০০ টাকা
-লামা হিল স্টেশন – পড/কটেজ ২,৫০০–৪,৫০০ টাকা, জুমঘর ২,০০০, তাবু ৫০০
-চুংদার বক রিসোর্ট – পড/রুম ৪,৫০০–৬,৫০০ টাকা, জুমঘর ২,৫০০
-মিরিঞ্জা মেঘ মাচাং রিসোর্ট – কটেজ ৩,৫০০–৬,০০০ টাকা, জুমঘর ২,৫০০, তাবু সহ তিন বেলা খাবার ১,১০০ টাকা
-এ ছাড়াও ডেঞ্জার হিল রিসোর্ট, আগারং রিসোর্ট, মেঘকুঞ্জ, মিরিঞ্জা হ্যাভেন, হাফং রিসোর্টসহ বেশ কিছু রিসোর্ট রয়েছে।
-ছুটির মৌসুমে আগেভাগে বুকিং দেওয়া উত্তম।
রিসোর্ট বুকিং টিপস:
-মেঘ দেখার সেরা মৌসুম জুন–নভেম্বর।
-মিরিঞ্জা প্রবেশপথের ডান দিকের রিসোর্টগুলো থেকে ভ্যালির দৃশ্য সবচেয়ে সুন্দর দেখা যায়।
-পাহাড়ি রাস্তা বৃষ্টিতে পিচ্ছিল থাকে—ভিতরের রিসোর্টে যেতে সমস্যা হতে পারে।
-জুমঘরে সাধারণ বেড, বালিশ, কমন ওয়াশরুম—লাক্সারি চাইলে কটেজ নিতে হবে।
-অনেক রিসোর্টে বিদ্যুৎ নেই, সোলার বা জেনারেটরের ওপর নির্ভর করে। তাই পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখা জরুরি।
খাবার ব্যবস্থা:
মিরিঞ্জা ভ্যালির প্রায় সব রিসোর্টেই তিন বেলা খাবারের প্যাকেজ রয়েছে—
-সকালের নাশতা: খিচুড়ি/ডিম
-দুপুর: ভাত, ডাল, মুরগি, সবজি
-রাত: বারবিকিউ/চিকেন/পরোটা
-খরচ: জনপ্রতি ৭০০–১২০০ টাকা।
![]() |
| মিরিঞ্জা ভ্যালি: মেঘের রাজ্যে ভ্রমণপ্রেমীদের নতুন স্বর্গ |
দর্শনীয় স্থান:
মিরিঞ্জা ভ্যালির নিকটবর্তী প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলো—
-সুখিয়া ভ্যালি
-মাতামুহুরী নদী
-মারাইংতং পাহাড়
-আলীর গুহা
-ডিম পাহাড় হয়ে বান্দরবান ট্রেইল
-কক্সবাজারও খুব কাছাকাছি, ভ্রমণের সাথে যুক্ত করা যায়।
ভ্রমণ টিপস:
-পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখুন।
-জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন কপি অবশ্যই রাখুন—চেকপোস্টে প্রয়োজন হয়।
পর্যটন নিরাপত্তা:
মিরিঞ্জায় পর্যটক নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, লামা থানা ও স্থানীয় নিরাপত্তাকর্মীদের সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক টহল ডিউটি চলছে।
মিরিঞ্জা সানসেট রিসোর্টের মালিক এন ইসলাম জিসান জানান, “ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় থানার সাথে সবসময় যোগাযোগ রাখা হয়, পর্যটকদের জন্য জায়গাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ।”
ট্যুরিস্ট পুলিশ বান্দরবান রিজিয়নের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার হাসান ইকবাল চৌধুরী বলেন, জেলা পুলিশের সাথে সমন্বয় করে নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে।


.jpg)
