রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিডব্লিউডিবি) অধীন নদী খনন (ড্রেজিং) প্রকল্পে জবরদখলের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ঠিকাদার মো. আবুল হাসেম সুজন। বৈধভাবে টেন্ডার পাওয়ার পরও একটি মহল বেআইনিভাবে কাজ ‘হাইজ্যাক’ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে শহরের পান্না চত্বর পৌর নিউ মার্কেটের দোতলায় নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে সুজন জানান, মেসার্স রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং-এর পক্ষে দরপত্র দাখিল করে তিনি বৈধভাবেই কাজটি পান। কিন্তু কাজ শুরুর আগেই ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি প্রায় ছয় মাস কারাবন্দী ছিলেন। জামিনে মুক্ত হয়ে কাজে ফিরতে চাইলে তাঁর পার্টনার মাজাহারুল আলম চঞ্চল চুক্তি অনুযায়ী সহযোগিতা না করে বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন।
তিনি জানান, প্রায় ১ মাস ১১ দিন ধরে সামাজিকভাবে আপোষের চেষ্টা করেও সমাধান না পাওয়ায় ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তিনি রাজবাড়ী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরবর্তীতে প্রতিকার না পেয়ে চঞ্চলকে প্রধান আসামি করে আদালতে ফৌজদারি মামলা করেন। আদালত ২২ অক্টোবর ২০২৫ মামলাটি গ্রহণ করেন।
সুজন অভিযোগ করেন, তাঁর মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড বেআইনিভাবে চঞ্চলকে মেসার্স রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং-এর নামে চলতি বিলের দুটি কিস্তি প্রদান করেছে। এটি আইনবিরোধী ও অযৌক্তিক বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, মামলা দায়েরের পর ১১ নভেম্বর চঞ্চল আপোষের প্রস্তাব দেন এবং আলোচনার স্থান হিসেবে রাজবাড়ী ক্লিনিক নির্ধারণ করেন। সেখানে বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন সুমনের কাছে চঞ্চল প্রকল্পের বিনিয়োগ হিসাব দাখিল করেন। সুজনের দাবি—হিসাব যাচাই করে তিনি প্রায় ২ কোটি টাকার অনৈতিক খরচ শনাক্ত করেন। প্রকৃত বিনিয়োগের অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব দিলেও চঞ্চল তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং পুনরায় বেআইনিভাবে প্রকল্প দখলের চেষ্টা শুরু করেন।
সুজন আরও অভিযোগ করেন, “চঞ্চল কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সহায়তায় জোরপূর্বক নদী খনন কাজ দখলের চেষ্টা করছে। এমনকি প্রকল্প উদ্বোধনের নাটক সাজানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে।”
তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জবরদখল বন্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং প্রকল্প পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
প্রকল্পের বিবরণে তিনি জানান, সিএসএডব্লিউএম প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ী বালিয়াকান্দি উপজেলার গড়াই নদীর চর ড্রেজিং ১১.১৫৯ থেকে ১৩.৬৫০ পর্যন্ত মোট ২.৫০ কিলোমিটার, এবং ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গরিদহ খালের ৩.২৫০ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজের দায়িত্ব তাঁদের প্রতিষ্ঠানের। এ প্রকল্পের টেন্ডার আইডি: ১০১৭০২২।
