![]() |
| কালীগঞ্জে ‘গ্যাংস্টার’ স্টাইলে হোটেল মালিককে পিটিয়ে নগদ টাকা লুট |
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে খাবারের বিল চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক হোটেল মালিককে হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে নগদ টাকা লুটের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার রাতে কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত ‘নিউ থ্রি স্টার দধি ভান্ডার’-এ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের ব্যস্ত সময়ে কয়েকজন যুবক দোকানে ঢুকে খাবার খাওয়ার পর বিল দিতে অস্বীকৃতি জানায়। বিল চাইলে তারা হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে হোটেল মালিক সুমন মিয়াকে হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, হামলাকারীদের আচরণ ছিল সংঘবদ্ধ ও ভয়ংকর। দেশীয় অস্ত্রের ভয়ে শুরুতে কেউ এগিয়ে যেতে সাহস পাননি। পরে তারা ক্যাশ কাউন্টার থেকে নগদ টাকা লুট করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সিসিটিভি ক্যামেরার একাধিক ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা বিশ্লেষণ চলছে। প্রাথমিকভাবে আব্দুল্লাহ ও ইব্রাহিম নামের দুই যুবকের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের সঙ্গে আরও ৩–৪ জন বহিরাগত যুবক হামলায় জড়িত ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “একজন ব্যবসায়ীকে মারধর ও টাকা লুটের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না।”
এ ঘটনার প্রতিবাদে কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করা হলে দোকানপাট বন্ধ রেখে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলছেন—“খাবার খেয়ে বিল চাওয়াই কি এখন অপরাধ?” অনেকেই বলছেন, একজন পরিশ্রমী ব্যবসায়ীর ওপর এমন নৃশংস হামলা শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্থানীয় এক দোকানদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যদি একজন ব্যবসায়ী ন্যায্য পাওনা চাইতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?”

