![]() |
| দেড় লাখ টাকার চাকরির প্রলোভনে ক্যাম্বোডিয়া, ফিরল লাশ -শৈলকুপায় ক্ষোভ |
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
উচ্চ বেতনের বিদেশি চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে ক্যাম্বোডিয়ায় পাঠানোর পর এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় চরম ক্ষোভ ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহত যুবক সোহাগ মোল্লা (২৫) শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্র-রয়েড়া গ্রামের বাসিন্দা ও বিল্লাল মোল্লার ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একই গ্রামের জামিরুল শেখের ছেলে রয়েল শেখ দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্বোডিয়ায় অবস্থান করে নিজেকে বৈধ বিদেশি কর্মসংস্থানের দালাল হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। তার দেওয়া দেড় লাখ টাকা মাসিক বেতনের প্রলোভনে পড়ে প্রায় আট মাস আগে সোহাগকে ক্যাম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। এ সময় সোহাগের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
কিন্তু ক্যাম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পরই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। ভুক্তভোগীদের দাবি, সেখানে সোহাগসহ একাধিক যুবককে জিম্মি করে অবৈধ কাজে বাধ্য করা হতো। ঠিকমতো খাবার ও বেতন না দিয়ে প্রতিবাদ করলে শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। একপর্যায়ে গুরুতর নির্যাতনের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েন সোহাগ।
পরিবারের ভাষ্যমতে, গত মাসে সোহাগের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ জানুয়ারি ক্যাম্বোডিয়ায় তার মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সোহাগের মরদেহ দেশে ফেরাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি অভিযুক্ত দালাল রয়েল শেখ—এ নিয়েই সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী।
এদিকে, একই সময়ে সোহাগের সঙ্গে ক্যাম্বোডিয়ায় যাওয়া তার চাচাতো ভাই ইব্রাহীম মোল্লা সম্প্রতি দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি সেখানে চলা নির্যাতন ও ভয়াবহ পরিস্থিতির বর্ণনা দিলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে। তারা সোহাগের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন।

