![]() |
| বিএনপির সপ্তাহব্যাপী শোক চলাকালেই ইবি প্রশাসনের ভূরিভোজ |
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত সপ্তাহব্যাপী শোক কর্মসূচির মধ্যেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসনের আয়োজনে প্রক্টরের জন্মদিন উপলক্ষে ভূরিভোজ অনুষ্ঠিত হওয়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসকর্ণারে প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামানের নেতৃত্বে এ আয়োজন করা হয়। একই সময়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত সপ্তাহব্যাপী শোক কর্মসূচি পালিত হচ্ছিল।
এ ভোজে অংশ নেন ইবি প্রক্টর ড. শাহীনুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট, মুখ্য সংগঠক গোলাম রাব্বানী, ছাত্রদলের আনোয়ার পারভেজ গ্রুপের নেতারা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান, দপ্তর সম্পাদক রাফি ও জাকারিয়া। এছাড়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সেক্রেটারি জুয়েল রানা, দপ্তর সম্পাদক জিসানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বিএনপিপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত হলেও দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইবি প্রক্টর ড. শাহীনুজ্জামানের বিরুদ্ধে জামায়াতপন্থী ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ উঠে আসছে। গত মাসে বিজয় দিবসে এক হল প্রশাসনের কর্মসূচির দিন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ প্রকাশ্যে তাকে ‘জামাতি-বিএনপি’ বলে কটাক্ষ করেন।
এছাড়াও গত বছর রেজিস্ট্রার নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কট্টর বিএনপিপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত প্রো-ভিসি প্রফেসর ইয়াকুব আলীর সঙ্গে তর্কে জড়ান প্রক্টর শাহীনুজ্জামান। সে সময় প্রো-ভিসিও তাকে ‘জামাত’ বলে অভিহিত করেন বলে জানা যায়।
শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের একাংশ মনে করছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে এখনো দেশজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। জাতীয় পর্যায়ের শোক কর্মসূচি চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন ভূরিভোজ আয়োজন সংবেদনশীলতার অভাবকেই তুলে ধরে।
তারা আরও বলেন, নিজেকে জাতীয়তাবাদী আদর্শের শিক্ষক পরিচয় দিয়ে দল ঘোষিত শোক কর্মসূচির সময় ঘটা করে জন্মদিন উদযাপনের মাধ্যমে প্রক্টর কী বার্তা দিতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আয়োজনটি বাতিল বা স্থগিত না করার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

