![]() |
| আমতলীতে জলবায়ু প্রকল্প সভায় সন্ত্রাসী হামলা: ৭ জন আহত, কোটি টাকার খাল খনন বাধাগ্রস্ত |
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মতবিনিময় সভায় মাস্ক পরিহিত সন্ত্রাসীদের হামলায় নারী ও প্রকল্প কর্মকর্তাসহ সাতজন আহত হয়েছেন। হামলার কারণে কোটি টাকার খাল খনন কাজ বন্ধের মুখে পড়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চাওড়া চালিতাবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রকল্প পরিচালক মো. এনামুল কবির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বরগুনা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলীসহ দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সভা শুরু হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে মাস্ক পরিহিত ৩০-৩৫ জন সন্ত্রাসী সোহাগ, নাশির, অসীম, মিরাজ ও ইমন এর নেতৃত্বে আকস্মিক হামলা চালিয়ে প্রকল্প পরিচালক ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় সাতজন আহত হন। হামলাকারীরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সভা ভেঙে দেয় এবং প্রকল্প পরিচালকের নেতৃত্বে কর্মকর্তারা আশ্রয় নেন।
আহতরা আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যান্য আহতরা সন্ত্রাসীদের ভয়ে চিকিৎসা নিতে পারেননি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসীরা যুবদল নেতা রাকিবকে দাওয়াত না দেয়ার অভিযোগ এনে সভায় প্রবেশ করে মারধর শুরু করে এবং নারী-পুরুষদের অপমান করে। এতে সভার অঙ্গীকারকৃত খাল খনন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আমতলী উপজেলা যুবদল যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী জামান রাকিব বলেন, “সেই এলাকায় কিছু যুবলীগ নেতার সভা চলছিল, যা বাধা দেওয়া হয়েছে।”
আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী বলেন, “প্রকল্প পরিচালকের সামনে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে এলাকার উন্নয়ন ব্যাহত হবে।”
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করেছেন আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, “সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবের কারণে সভা শেষ না করে চলে আসতে বাধ্য হয়েছি। এমন ঘটনায় প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
প্রকল্প পরিচালক মো. এনামুল কবির বলেন, “এমন অরাজকতায় এলাকার জলবায়ু প্রকল্পের খাল খনন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা এলাকার উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।”

