ইতালিতে পাঠানোর নামে প্রতারণা, সালথায় মানবপাচারকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২৬

ইতালিতে পাঠানোর নামে প্রতারণা, সালথায় মানবপাচারকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

 

ইতালিতে পাঠানোর নামে প্রতারণা, সালথায় মানবপাচারকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
ইতালিতে পাঠানোর নামে প্রতারণা, সালথায় মানবপাচারকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন


সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং লিবিয়ায় নিয়ে জিম্মি ও নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।


শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।


মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বাহিরদিয়া গ্রামের বাদশা মোল্লার ছেলে এনামুল মোল্লা (২৫) ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে স্থানীয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা সংগ্রহ করেন। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাউকে ইতালিতে পাঠানো হয়নি বলে তারা দাবি করেন।


বক্তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট চক্রটি ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন ধাপে অর্থ আদায় করে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের একটি মাফিয়া চক্রের কাছে জিম্মি করে আরও মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এ সময় তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়। স্বজনদের দাবি, এখনও কয়েকজনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য মঞ্জুরুল মোল্লা চক্রটির দালাল হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।


ভুক্তভোগী হুসাইন সর্দার দাবি করেন, ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে তাকে লিবিয়ায় একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়। পরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য নির্যাতন করা হলে পরিবারের সদস্যরা টাকা পাঠানোর পর তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন।


আরেক ভুক্তভোগী ওসমান মোল্লা অভিযোগ করেন, তার কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা নেওয়ার পর লিবিয়ায় নিয়ে আরও ২৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। পরে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করে দেশে ফেরেন বলে জানান।


মানববন্ধন থেকে বক্তারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত এবং মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।


তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মঞ্জুরুল মোল্লা। তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। গ্রাম্য বিরোধের জেরে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ করছে। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে কিছু কথা হয়েছিল, তবে বর্তমানে তারা লিবিয়ায় কর্মরত। আমার ছোট ভাই এনামুলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। কার সঙ্গে তার কী লেনদেন হয়েছে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই।”


অভিযুক্ত এনামুল মোল্লা বর্তমানে লিবিয়ায় অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


এ বিষয়ে নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল ফাহাদ বলেন, “মানবপাচারের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মানুষ যেন দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে বিদেশে না যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে।”



Post Top Ad

Responsive Ads Here