সোমেন মন্ডল, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীতে এবার পুলিশের সোর্সকে পিটিয়ে হত্যা করলো মাদক ব্যবসায়ীরা।
এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা বলে জানা গেছে।সোর্স আব্দুর রাজ্জাক(৩৫) শিরইল কলোনি হাজরাপুকুর এলাকার মৃত নুরুল
ইসলামের ছেলে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সাত দিনের মাথায় মঙ্গলবার (৭ ই আগস্ট)রাত্রি সাড়ে নয়টার দিকে কলোনির আল আরাফা স্কুলের
সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,আব্দুর রাজ্জাক একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং পুলিশের সোর্স হিসেবে
কাজ করত। পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করায় রাজ্জাক এলাকায় পুলিশী প্রভাব খাটাতেন। পাশাপাশি
বিভিন্ন সময় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে মাসোয়াহারা (চাঁদা) তুলে
পুলিশকে দিতেন। এ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে রাজ্জাকের দন্ড চলে আসছিল।ওই এলাকার খায়রুল,তার জামাই সুমন,মানিক,মোহন,আক্কাশের
বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাদের বেশ কয়েকবার আটক করে জেল হাজতে পাঠায়।জেল থেকে জামিনে বের হয়ে
পুনরায় তারা ওই ব্যবসা অব্যাহত রাখে। মাদক ব্যবসার কারনে প্রায় পুলিশের হাতে আটক হয়।
তারা পুলিশের হাতে আটক হওয়ায় রাজ্জাক কে সন্দেহ করে শাসিয়ে আসছিলেন
বলে এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে। এ হত্যার বিষয়ে রাজ্জাকের ছোট ভাই সাহলম বলেন ৭ ই
আগস্ট মঙ্গলবার রাত্রি ৯টা ত্রিশ ঘটিকার সময় কলোনির মমিন ড্রাইভারের ছেলে মানিক(৩৪) অরফে (বান্দর মানিক) রাজ্জাক কে চা খাওয়ার নাম করে
বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় আল আরাফা স্কুলের গলিতে।এমতাবস্থায় সেখা অতপেতে থাকা মাদক
ব্যবসায়ী সদর উদ্দিনের ছেলে খায়রুল (৪০) খায়রুলের জামাই সুমন(২৮) মৃত চারুর ছেলে জেকি
(২২), মাসুম(২৬)মোহন(২৫) রাসেল(২৭)ও সাহবুদ্দিন তারা জি আই পাইপ, হাতুর,ও রড দিয়ে পায়ে,
বুকে, মাথায়,পিঠে, শরিলের বিভিন্ন স্থানে আঘাত
করে হত্যার উদ্দেশ্যে। সেখানেও খ্যন্ত হয়নি হত্যাকারীরা। তারা পরে হাত পা এবং মুখ বেধে
নির্বাচিত কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমনের চেম্বারের পাশে ফেলে দেয়, এবং পকেটে ৬০ পিস
ইয়াবা ভরে পুলিশে ফোন দেয় তারা। এই বিষয়ে এসএই আমিনুল ইসলাম বলেন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে
যায় এবং সেখানে রাজ্জাকের পকেট থেকে ৪৮ পিস ইয়াবা সহ আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এবং চিকিৎসার খোজ খবর নেওয়া ও তার নিরাপত্তার
জন্য দুইজন কনস্টেবল দেওয়া হয়। ঘটনার ১০ দিনের মাথায় আজ শুক্রবার সকাল ১০ টার সময় চিকিৎসাধীন
অবস্থায় মারা যায়।
এলাবাসি সূত্রে আরো জানা গেছে, সাধারণ মানুষদের কাছে বিভিন্ন সময়
পুলিশী মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে গোপনে চাঁদা আদায় করতো। সাধ্যমত টাকা দিতে না পারলে পুলিশে
ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে রাজ্জাকের বিরুদ্ধে।এই দিকে চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ
(ওসি) হুমায়ন কবির বলেন,রাজ্জাক পুলিশের সোর্স
হিসেবে কাজ করত কি না বা এলাকায় চাঁদা তুলতেন কিনা জানা নেই। তবে পুলিশের সাথে রাজ্জাকের
সখ্যতা ছিল।
তিনি আরো বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে
পারে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী
ও রাজ্জাকের লেখে যাওয়া বেশ কয়েকজনের নাম পেয়েছি। লাশের ময়নাতদন্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনারপর থেকে তারা পলাতক রয়েছে। আটকের চেষ্টা চলছে।

