বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের বড়াইগ্রামের জোয়াড়ি ইউনিয়নে খালখনন নিয়ে টাকা আত্মসাত উল্লেখ করে সম্প্রতি কয়েকটি দৈনিক ও ফেসবুকে ভুল তথ্য প্রচার করায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলার জোয়াড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ। উদ্দেশ্য প্রণেদিত হয়ে কিছু কুচক্রি মহল সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দেয়ার ফলে অসঙ্গতিপূর্ণ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে পরিষদের সকল সদস্যের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে পরিষদের সদস্যরা দাবি করেন। ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব চাঁদ মাহমুদ তার ফেসবুকে সঠিক তথ্যটি তুলে ধরে জানিয়েছে খালখননের জন্য সরকারের কোন প্রকল্প তারা পাননি। মূলত রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রকল্প বরাদ্দ হয়েছিলো যা যথারীতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয়দের সহায়তায় নিয়ে ভবানীপুরের বিল থেকে জলাবদ্ধতা দূর করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নালা পরিস্কার করায় এই বিপত্তি ঘটেছে। অনেকেই ধারণা করেছে খালখননের জন্যই এই প্রকল্প বরাদ্দ হয়েছে এবং সামান্য কয়েকটি নালা পরিস্কার করে চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা সব টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে আত্মসাত করেছে। ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব চাঁদ মাহমুদ সঠিক তথ্য প্রচারে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছেন।
ইউপি মেম্বার আব্দুল জলিল, কামাল হোসেন, খন্দকার ওয়ালিউল ইসলাম, মনোয়ারা বেগম সহ অন্যান্যরা জানান, খাল খননের নামে টাকা আত্মসাত নিয়ে অপপ্রচার করায় স্থানীয় জনগণ নানাভাবে তাদেরকে প্রশ্ন করছেন। এতে তারা বিব্রতবোধ করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অপবাদের শিকারও হতে হচ্ছে। দ্রুত সঠিক তথ্য প্রচার করে এই বিব্রতকর অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে মেম্বাররা স্থানীয় সাংবাদিক ও ফেসবুক ব্যবহারকারীগণদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী জানান, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচীর আওয়তায় ভবানীপুর কারিকর পাড়া আবু তালেবের জমির মাথা হতে ওয়ালিয়া ব্রিজের পার্শ্বে ছালামের বাড়ি অভিমুখে মাটি দ্বারা রাস্তা সংস্কারের জন্য ৯ মে. টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের সভাপতি ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. কামাল হোসেন। সময় মতো ওই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করাও হয়েছে। কিন্তু কয়েকটি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ভবানীপুর বিল থেকে ওয়ালিয়া বড়নদী অভিমুখে খাল খনন নামে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৯ মে.টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যা আদৌ সঠিক নয়। তিনি আরও জানান, এই অর্থবছরে খালখননের জন্য কোন প্রকল্পই বরাদ্দ দেয়া হয় নাই।
ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ বসাক জানান, বিষয়টি জানার পর আমি খোঁজ নিয়েছি। খাল খননের জন্য কোন প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয় নাই। মাটি দ্বারা রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রকল্প দেয়া হয়েছে যা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তাকে ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

