ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিলেন চাঁদনী বেগম, একজনের মৃত্যু - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, জুলাই ০২, ২০২৬

ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিলেন চাঁদনী বেগম, একজনের মৃত্যু

ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিলেন চাঁদনী বেগম, একজনের মৃত্যু
ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিলেন চাঁদনী বেগম, একজনের মৃত্যু

 


নাজমুল হাসান নিরব, ফরিদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া গ্রামের ২০ বছর বয়সী চাঁদনী বেগম একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। বিরল এই ঘটনায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও স্বজনদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


 তবে আনন্দের মধ্যেই নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। জন্মের কিছুক্ষণ পরই পাঁচ নবজাতকের মধ্যে একটি কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে মা ও জীবিত চার নবজাতক আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চাঁদনী বেগমের স্বামী মাহামুদুল হাসান। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে প্রসববেদনা নিয়ে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তিনি তিন ছেলে ও দুই মেয়ের জন্ম দেন।


চিকিৎসকরা জানান, সন্তানগুলো নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১২ সপ্তাহ আগেই জন্ম নেওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। জীবিত চার নবজাতকের ওজন যথাক্রমে ৩৪০ গ্রাম, ৬০০ গ্রাম, ৭২০ গ্রাম ও ৮১৫ গ্রাম। অকালপ্রসবের কারণে শিশুদের শারীরিক গঠন সম্পূর্ণ বিকশিত হয়নি। কয়েকটি নবজাতকের চোখও এখনো পুরোপুরি ফোটেনি। এ কারণে তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


হাসপাতালের স্টাফ নার্স মিনতি সরকার জানান, সাধারণত ৪০ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার পর সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু চাঁদনী বেগমের সন্তানগুলোর জন্ম হয়েছে মাত্র ২৮ সপ্তাহে। এ কারণে তাদের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম এবং শারীরিক জটিলতার ঝুঁকিও বেশি।


নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসক পৃথ্বীরাজ পাল চৌধুরী বলেন, “আমাদের শিশু ওয়ার্ডে পাঁচ নবজাতকের মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। বাকি চার নবজাতকের অবস্থাও সংকটাপন্ন। তাদের এনআইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন, কিন্তু আমাদের এখানে এনআইসিইউ নেই। আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। তবে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারটি এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এরপরও আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।”


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও প্রসব-পরবর্তী জটিলতার কারণে চাঁদনী বেগমের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। একই সঙ্গে জীবিত চার নবজাতকের অবস্থারও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


চিকিৎসকদের মতে, একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম বা কুইন্টুপলেট অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এ ধরনের গর্ভধারণ ও প্রসবের ক্ষেত্রে মা ও নবজাতকদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা এবং নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন হয়। তবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনআইসিইউ সুবিধা না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নবজাতকদের ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।


হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মা ও জীবিত চার নবজাতকের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। তাদের সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।



Post Top Ad

Responsive Ads Here