বাসাইলে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন টার্কি খামারিরা - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৮

বাসাইলে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন টার্কি খামারিরা

জাহাঙ্গীর আলম, টাঙ্গাইল-বাসাইলে টার্কি পালন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ পর্যন্ত উপজেলায় প্রায় ২০টি টার্কি খামার গড়ে উঠেছে। আর চারটি খামারে বাণিজ্যিক ভাবে বাচ্চা উৎপাদন ও বিক্রি শুরু হয়েছে। ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগী পালনে লোকসান হওয়ায় খামারিরা টার্কির প্রতি ঝুঁকেছেন।

উপজেলার হাবলা পূর্বপাড়া গ্রামের জহিরুল ইসলাম জহির মাষ্টারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তিনি। চাকরি ছেড়ে টার্কি পালনে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন তিনি ।
স¤প্রতি বাড়িতে গড়ে তুলেছেন টার্কি খামার। এখন তার খামারে প্রায় একশত মা টার্কি আছে। বাচ্চাসহ এখন তার খামারে টার্কি আছে প্রায় দুইশত। প্রতিদিন ডিম পাচ্ছেন ৫০টির মত। প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪শ’ টাকা দরে। সব ধরণের খরচ বাদ দিয়ে মাসে লাভ থাকছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। শুধু ডিম নয়। ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদনও করছেন। এক জোড়া টার্কির বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৬শ’ টাকা করে। জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, নিজের ভাগ্যের পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশে আমিষের চাহিদা পূরণ করতে চাই। এজন্য টার্কির আবাদ করছি। আমাকে দেখে অন্যেরা উৎসাহিত হবে। এভাবে চলতে থাকলে দেশে বেকারত্ব দূর হবে।
ব্রয়লার ও লেয়ার পালনে নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। বাচ্চা ও ডিমের দাম উঠানামা করে। সব সময় অস্থিতিশীল থাকে বাজার ব্যবস্থা। কখনও বেশি লাভ । আবার কখনও মূলধনও চলে যায়। মাঝে মধ্যে নানারোগে আক্রান্ত হয়ে পুরো খামার ধ্বংস হয়ে যায়। এ কারণে অনেক খামারি খামার বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে টার্কি পালনে ঝুঁকি কম। টার্কিতে রোগ বালাই নেই বললেই চলে। রাণীক্ষেত ও বসন্ত এ দু’টি রোগের ভ্যাকসিন দিলেই অনেকটা নিরাপদ। বাজারজাতকরণেও কোন সমস্যা নেই। টার্কির মাংসের চাহিদাও অনেক বেশি। ৬ মাসে একেকটি টার্কির ওজন হয় ৬ থেকে ৮ কেজি। প্রতি কেজি মাংসের দাম মাত্র তিনশ’ টাকা। দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে টার্কির মাংসের চাহিদা বাড়ছে। টার্কির মাংসে কোন চর্বি নেই। অতি মাত্রায় প্রোটিন থাকায় মানব দেহে নানা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, টার্কি পালনে আমরা খামারিদের নানা ধরণের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি। রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন দিয়ে থাকি। প্রতি বৃহস্পতিবার বড় খামার গুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন করে খামারিদের পরামর্শ দিয়ে থাকি। স¤প্রতি উপজেলায় ব্যাপকভাবে গড়ে উঠছে টার্কির খামার।

Post Top Ad

Responsive Ads Here