উজ্জ্বল অধিকারী, জেলা (প্রতিনিধি) সিরাজগঞ্জঃ- ফুটে গেছে শরত শোভন শুভ্র কাঁশ ফুল। বেপথু বাতাসে দুলছে শুভ্রত আর আকাশ আমাদের প্রাণ ও প্রকৃতির শোভন কাঁশ ফুল কাব্যে স্থান পেয়েছে হাজার ও প্রকৃতি প্রেমী । কাঁশ ফুল শোভন শুভ্র ফুল। ষড় ঋতুর বাংলাদেশে পহেলা ভাদ্র থেকে শরতের সূচনা। ভাদ্রের তালপাকা গরম, বৃষ্টি যখন তখন, রাস্তায় কাদা জল। এরপরও শরতের অপরুপ সৌন্দর্য উপেক্ষা করে সে কোন জনা ষড়ঋতুর দেশে বছর ঘুরে শরত এসেছে ফিরে নিয়ে নতুন বাসনা বদলাচ্ছে প্রকৃতি, নীল আকাশে চলছে সাদা মেঘের আনাগুনা। এমন প্রকৃতির দৃশ্য ভেঁসে উঠেছে সিরাজগঞ্জের ৫ উপজেলার যমুনা,করতোয়া ও ফুলজোড় নদীর চরাঞ্চল গুলোতে। যেন ঢেকে গেছে কাঁশ ফুলের দোলায়। নীল আকাশে সাদা মেঘ আর নদীর কূলে কাশবন মৃদুবায়ু দোলে শরতকে করছে অভিবাদন।
প্রিয় শরতের রং রূপে প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা নিজেকেই খুঁজছে শত অভিধায় যেমন খুঁজেছেন কবি ও শিল্পীগন শত গান কবিতায় শরতকে স্বাগত জানিয়ে রবীন্দ্রনাথ রচনা করেছেন কথামালা আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ, গেঁথেছি শেফালীমালা নবীন ধানের মঞ্জরি দিয়ে সাজিয়ে এনেছি ডালা। এসো গো শারদলক্ষ্মী, তোমার শুভ্র মেঘের রথে, নির্মল নীলপথে বকশালীকেরা গিয়েছে যে পথে।
শরতের সাথে মিলে যায় কবিগুরুর সব বর্ণনা এখন কাশফুল শেফালীমালা নবীন ধানের মঞ্জরি হয় দৃশ্যমান সিরাজগঞ্জে নদীর কূল হতে প্রান্তরে মাঠে ময়দানে সবখানে গ্রামে তো বটেই। আকাশেও সুন্দর নীল মেঘ গুচ্ছ ভাসে মৃদুমন্দ হাওয়ায় গাছে ফুটছে সুগন্ধী শিউলি যা দেখে প্রেমের কবি নজরুল হয়েছিলেন মুগ্ধ ।
সিরাজগঞ্জে নদীর কূলে কাঁশফুল দেখতে আসা এক শরনার্থী কবির ভাষায় বলেন, শরত দেখতে গিয়ে শিউলি আর শিউলি দেখতে গিয়ে শরত দেখেছেন কবি। মুগ্ধ হয়ে লিখেছেন এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো শিউলি-বিছানো পথে। এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে এসো অরুণ-কিরণ-রথে। শুধু কি তাই, বলেছেন তিনি শিউলিতলায় ভোর বেলায় কুসুম কুড়ায় পল্লী-বালা। শেফালি পুলকে ঝ’রে পড়ে মুখে খোঁপাতে চিবুকে আবেশ-উতলা।
প্রকৃতি প্রেমী সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে অর্নাস পড়ুয়া শিক্ষার্থী মোছাঃ সূবর্না মোস্তফা তানিয়া বলেন, এখানে আকাশেও শরতের রং রূপ কত বদলায় মাথা তুলে উপরের দিকে তাকালে চোখ মুগ্ধ হয়ে মন ভরে যায়। গ্রামের সবুজ বন চিরহরিত বৃক্ষের ফাঁক দিয়ে সুন্দর আকাশ শহড়ের ভিড়েও চোখে পরে নীল আকাশ সাদা মেঘের পাল । কবিগুরুর ভাষায় আজি ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি খেলা রে ভাই, লুকোচুরি খেলা নীল আকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা রে ভাই লুকোচুরি খেলা।
শরতে শুধু প্রকৃতি বদলায় না, মানুষের মনও বদলায় আর মনের পরিবর্তনের কথা জানালেন, আরেক প্রেমী তিনিও করি কন্ঠে বললেন,শরতে আজ কোন অতিথি এল প্রাণের দ্বারে। আনন্দগান গা রে হৃদয়, আনন্দগান গা রে। আনন্দের উপলক্ষ হয়ে আসে শরত মনকে দেয় ভরিয়ে । তবে কিছু লুকোনো বেদনাও হৃদয় খুঁড়ে তুলে আনে শরত তা না হলে নজরুল কেন লিখবেন শিউলি ফুলের মালা দোলে শারদ-রাতের বুকে ঐ এমন রাতে একলা জাগি সাথে জাগার সাথি কই।
শুধু কি তাই বিরহের প্রকাশ ঘটিয়ে কবি আরো লিখেছিলেন দূর প্রবাসে প্রাণ কাঁদে আজ শরতের ভোর হাওয়ায় শিশির-ভেজা শিউলি ফুলের গন্ধে কেন কান্না পায়।

