![]() |
| ফাইল ছবি |
সোমেন মন্ডল, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ -রাজশাহী মহানগরীর কাটাখালীর চরক্ষিদিরপুর মধ্যচর এলাকায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)র সাথে কথিত বন্দুক যুদ্ধে আলমগীর হোসেন আলো (৪৫) নামের এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় বন্দুক যুদ্ধে আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন পুলিশের চারজন সদস্য। পুলিশের গুলিতে নিহত আলমগীর নগরীর মতিহার থানার ডাশমারি মহল্লার মোক্তার হোসেনের ছেলে।
নগর পুলিশের মূখপাত্র সিনিয়র সহকারি কমিশনার ইফতেখায়ের আলম জানান, রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, চরখিদিরপুর মধ্যচরে মাদক বেচা কেনা চলছে। খবর পেয়ে শনিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটায় তারা সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। পরে আহত অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখে। তাকে উদ্ধার করে কাটাখালী থানা পুলিশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত. ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি সার্টারগান, ১৯৮ বোতল ফেন্সিডিল ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। মাদক ব্যবসায়ী আলোর বিরুদ্ধে মতিহার থানায় রাসিক ২৯নং ওয়ার্ড যুবলীগ সাধারন সম্পাদক আনার হত্যা মামলা, পুলিশের উপর হামলাসহ অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে।
আলমগীর হোসেন আলো গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে লাটিম মার্কা নিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থীও ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর আগেও গত বছর প্রাইভেট কার ভর্তি ফেন্সিডিলসহ পুলিশ তাকে হাতে নাতে গ্রেফতার করে। সম্প্রতি মধ্যচরে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানের সময় মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের উপর হামলা চালায়। এতে দুই পুলিশ গুরুতর আহত হন। এঘটনার সঙ্গেও আলো জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ জানায়।
স্থানীয় শাহজাহান আলী বলেন, আলোকে এই ওয়ার্ডে সকলে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবেই চিনে। তার বিরুদ্ধে মতিহার থানায় ১১টির বেশি মাদকের মামলা রয়েছে। মতিহার থানা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ঢাকা নারায়নগঞ্জ ও যমুনা সেতুর থানাগুলোতেও একাধিক মামলা রয়েছে বলেই আমরা জানি।
এদিকে মতিহার থানার অফিস ইনচার্জ শাহাদত হোসেন বলেন, আলোর বিরুদ্ধে মতিহার থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। থানা চত্ত্বরে এখনও তার মাদক পাচারের জন্য ব্যবহৃত সবুজ রংএর একটি কার জব্দ করা রয়েছে।

