সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর থেকে।
উন্নয়নের অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ এই শ্লোগান ধারন করে ফরিদপুরে তিনব্যাপী ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে।
মেলার শেষ দিন শনিবার সন্ধ্যায় সমাপনী আলোচনা সভা ও পুরুস্কার বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশারফ হোসেন এমপি।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক বেগম উম্মে সালমা তানজিয়ার সভাপতিত্বে এসময় অন্যদের মধ্যে ছিলেন ফরিদপুরের জেলা জজ মোঃ হেলাল উদ্দিন, ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ লোকমান হোসেন মৃধা, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোাঃ জাকির হোসেন খানঁ, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. সুবল চন্দ্র সাহা, থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ রাজ্জাক মোল্লা, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি খন্দকার নাজমুল হাসান লেভী, সাধারন সম্পাদক চৌধুরী বরকত ইবনে সালাম, জেলা যুবলীগের আহবায়ক এ এস এম ফুয়াদ, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেল প্রমুখ। এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যাতে মঞ্চ মাতাতে আসেন বাংলাদেশের ফোক গানের জননী বিখ্যাত শিল্পি মমতাজ, মাহতিম সাকিব, রোদেলা রঙ্গন।
এবারের ফরিদপুরের উন্নয়ন মেলা ছিলো অন্য যে কোন সময়ের থেকে সাজে গোজে অভূতপূর্ব এক সম্মিলন। মেলায় ১২০টি স্টলে সরকারের উন্নয়নের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরার পাশাপাশি জনগণকে বিভিন্ন ধরনের সরকারি সেবা প্রদান করে। যাতে মেলার মাঠে উপকৃত হয় সাধারন মানুষ।
এবারের উন্নয়ন মেলায় বাড়তি নজর কেড়েছে ব্যাতিক্রমধর্মী আয়োজন নিয়ে সাজানো সদর উপজেলা প্রশাসনের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প ও আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের সাজানো গোছানো টিনের বাড়ী দুটি। ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে ১২০টি ষ্টলের মধ্যে মাঠে অবস্থিত এই বাড়ী দুটি যেন সব কিছু ছাপিয়ে অন্য রকম করে তুলেছে মেলার আয়োজনকে।
এছাড়া সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সেবার দেওয়ার ব্যবস্থা দেখে মনে হবে মানুষের দোড়গোড়ায় ভূমি অফিসের সেবা ছিলো উন্নয়ন মেলায় একটি অন্যরকম প্রয়াস। ফরিদপুর সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) পারভেজ মল্লিক জানান মেলার শেষ দিনে ৩০জনকে ভূমিহীন মানুষের মাঝে ভূমিহীন সনদ তুলে দেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মোঃ সাইফুল হাসান।
এছাড়া ফরিদপুর এলজিইডি, গনপূর্ত বিভাগ, জেলা পুলিশ, পাসপোর্ট অফিস, রেলওয়ে, ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারন অফিস, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর ষ্টল গুলো ছিলো চোখে দেখার মতো।
তিন দিনব্যাপী এই মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে রচনা, চিত্রাঙ্কন, কুইজ প্রতিযোগিতা, যাদু প্রদর্শনীসহ নানা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সব মিলিয়ে এবারের মেলা ছিলো জমকালো আয়োজনের সম্মিলনে গড়া।


