বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি:-নাটোরের বড়াইগ্রামের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আজ বুধবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে ১৪ দলের মহাসমাবেশ।
এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন ১৪ দলের সমম্বয়ক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। উপস্থিত থাকবেন প্রধান বক্তা আ’লীগ কেন্দ্রীয় কার্য্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, রাজশাহী সিটি মেয়র এইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, নাটোরের চার এমপি-তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী এ্যাড. জুনাইদ আহমেদ পলক, অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, শফিকুল ইসলাম শিমুল ও এ্যাড. আবুল কালাম আজাদ। এছাড়া ১৪ দলের শরীক বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়–য়া, জাসদের শিরিণ আক্তার এমপি, ওয়ার্কাস পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির শেখ শহীদ, গণতন্ত্র পার্টির ডা. শাহাদত হোসেন সহ ডজেন খানেক নেতা বক্তব্য প্রদান করবেন।
এই মহাসমাবেশকে সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ১৪ দল থেকে যারা মনোননয়ন প্রত্যাশী তারা স্ব স্ব অবস্থান তুলে ধরার প্রয়াসে সমাবেশে নিজের পক্ষে জনসমাবেশ ঘটাতে ব্যাপকভাবে তৎপর হয়ে উঠেছেন। তবে এই সমাবেশ বড়াইগ্রামে আয়োজন করায় খুশী আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় ভোটাররা। বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলা নিয়ে নাটোর-৪ আসন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বছর দুয়েক আগে থেকে বড়াইগ্রামে শুরু হয়েছে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। আর এই আলোচনা-সমালোচনার মূলে রয়েছে ‘কে পাবেন নৌকা প্রতীকে মনোননয়ন’ তা নিয়ে। স্বাধীনতার পর এই আসনের নৌকা প্রতীকে ৫ বার মনোনয়ন পান বর্তমান সংসদ সদস্য গুরুদাসপুর উপজেলার সন্তান অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস। এই আসনে ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় নির্বাচনে বড়াইগ্রামের রফিকউদ্দিন সরকার নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন। ২য় জাতীয় নির্বাচনে গুরুদাসপুরের সন্তান এড. দিল মোহাম্মদ (বিএনপি), ৩য় ও ৪র্থ নির্বাচনে একই উপজেলার আবুল কাশেম সরকার (জাতীয় পাটি), ৬ষ্ঠ নির্বাচনে বড়াইগ্রামের অধ্যক্ষ মো. একরামুল আলম (বিএনপি), ৮ম নির্বাচনে গুরুদাসপুরের মোজাম্মেল হক (বিএনপি), ৫ম, ৭ম, ৯ম ও ১০ম নির্বাচনে অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস (আওয়ামীলীগ) নির্বাচিত হন। গত ১০টি জাতীয় নির্বাচনে শুধুমাত্র প্রথম বার আওয়ামীলীগ থেকে বড়াইগ্রামের প্রার্থী মনোনয়ন পান। বাকী নির্বাচনে বরাবরই গুরুদাসপুরের প্রার্থী আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এসেছে। কিন্তু এবারের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বড়াইগ্রামের ভোটাররা ‘বার বার গুরুদাসপুর, এইবার বড়াইগ্রাম’ শ্লোগানে নিজ উপজেলার প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার জোর দাবি তুলেছে। গত ৬/৭ মাস ধরে বড়াইগ্রামের আ’লীগের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বড়াইগ্রামের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন করেছে। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই দাবিতে বিপুল সংখ্যক পোস্টার, ব্যানার টাঙ্গানো হয়েছে।
বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আ’লীগের স্বাস্থ্য-জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী এই দাবির সাথে একাতœতা প্রকাশ করে জানান, গুরুদাসপুরের ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৯ হাজার ১২ জন পক্ষান্তরে বড়াইগ্রামের ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ১২ হাজার ৪১। ভোটার সংখ্যা ৪৩ হাজার ২৯ জন বেশী থাকা সত্তে¡ও বারবার বড়াইগ্রামের আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতারা মনোনয়ন লাভে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে তিনি আশাবাদী দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ও মনোনয়ন বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা বড়াইগ্রামবাসীর এই যৌক্তিক দাবিটি মেনে নিবেন।
মাঝগাঁও ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মো. খোকন মোল্লা জানান, ভৌগলিক কারণে বড়াইগ্রাম উপজেলা গুরুদাসপুরের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার খ্যাত বড়াইগ্রামের বনপাড়া নামক স্থানটি দেশখ্যাত। নাটোর জেলার মধ্যে এই উপজেলাতেই রয়েছে দুইটি পৌরসভা। এই উপজেলার রাজনৈতিক নেতৃত্বে বড় কোন কোন্দল বা দ্বিধাবিভক্তি নাই। যার ফলে এই উপজেলা থেকে মাত্র একজনই (ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী) আ’লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। পক্ষান্তরে রাজনৈতিক আন্তঃদ্বন্দের পরিচিত স্থান গুরুদাসপুরে আ’লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ৪ জন। সে দিক বিবেচনায় আ’লীগের নীতি নির্ধারকেরা বড়াইগ্রামের ওই একজন প্রার্থীকেই মনোনয়ন দিলে এই আসনের রাজনৈতিক অস্থিরতা তথা আ’লীগের আন্তঃকোন্দল নিরসন হবে বলে তিনি মনে করেন।
স্থানীয় প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা ও পৌর ওয়ার্ড সভাপতি সোবাহান প্রামাণিক বলেন, বড়াইগ্রামে এমপি পদে আওয়ামীলীগের যোগ্য নেতা নাই এতোদিন এমন প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু এই এলাকার ডা. সিদ্দিকুর রহমান একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনরকম অভিযোগ নেই। তাকেই বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুরবাসী এবারে এমপি হিসেবে দেখতে চায়।
এমপি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, জনগণ আমাকে ভালো না বাসলে আমি কি করে বার বার এমপি হই। ভোট দিয়েইতো আমাকে এমপি বানানো হয়। এবারেও জনগণ আমাকেই এমপি হিসেবে দেখতে চায়।
উল্লেখ্য, নাটোর-৪ আসনে আওয়ামীলীগ থেকে ৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে ৪ জনই গুরুদাসপুরের। তারা হলেন, অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, তার মেয়ে কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি, শাহনেওয়াজ আলী মোল্লা ও আহমেদ আলী মোল্লা। বড়াইগ্রাম থেকে একজনই মনোনয়ন প্রত্যাশী। তার নাম ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী।

