ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে নেপালিদের ভাগিয়ে দিলো পুলিশ - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯

ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে নেপালিদের ভাগিয়ে দিলো পুলিশ

সময় সংবাদ ডেস্ক//
রাজধানীর সেগুনবাগিচার ৬/৬ নম্বর বাসা থেকে এক এক করে বেরিয়ে আসছিলেন তিন ব্যক্তি। সময় তখন বুধবার রাত ১১টা ২৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ড। তাদের একজনের হাতে একটি ব্যাগ। সিসিটিভির ফুটেজে ধরা পড়েছে ওই দৃশ্যপট। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই বাসার পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়ায় ছিল ৬ নেপালি নাগরিক। বুধবার দিনের বেলায় র‌্যাব রাজধানীতে অভিযান শুরুর পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই বাসায় পুলিশ পরিচয়ে তিন ব্যক্তি ঢুকেছিলেন। এক ঘণ্টা ফ্ল্যাটে অবস্থানের পর সন্দেহজনকভাবে একটি ব্যাগ নিয়ে তারা ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে আসেন। 

সংশ্নিষ্ট সূত্র বলছে, টাকার বিনিময়ে বিদেশি জুয়াড়িদের তথ্য দিয়ে পালাতে সহায়তা করেছেন পুলিশের এই অসাধু সদস্যরা।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় ক্যাসিনো পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন ওই ৬ নেপালি নাগরিক। ক্যাসিনো পরিচালনায় কিছু পুলিশ সদস্যের যোগসাজশ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এবার অভিযানের মধ্যেও তাদের দেখা গেল প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকায়।

এদিকে পুলিশ সেগুনবাগিচার ওই বাসা থেকে বের হওয়ার রাতেই একে একে পালিয়ে যায় বিদেশি জুয়াড়িরা। ওই বাসায় র‌্যাবের অভিযানের আগে তারা সটকে পড়ে। সেগুনবাগিচার ওই বাসার পাশাপাশি রাজধানীর আরও দুটি ফ্ল্যাট থেকে মোট ১৯ বিদেশি জুয়াড়ি পালিয়ে গেছে। 

সেগুনবাগিচার ৬/৬ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলার যে ফ্ল্যাটে বিদেশি জুয়াড়িরা ভাড়া থাকত, ওই ফ্ল্যাটের মালিক সৈয়দা হাছনা আহম্মদ। তবে হাছনার ফ্ল্যাট দেখভাল করছিলেন তার ভাই সৈয়দ বেলায়েত হোসেন। বেলায়েত সাংবাদিকদের জানান, মোহামেডান ক্লাবের কর্মকর্তা পরিচয়ে মাস দুয়েক আগে মো. মাছুম নামে এক ব্যক্তি মাসে ৪০ হাজার টাকায় ওই ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। ভাড়া নেওয়ার সময় মাসুম জানান, সেখানে ছয় বিদেশি থাকবেন। মাসখানেক পরে বিদেশিদের সহধর্মিণীরা আসবেন। তবে মাসখানেক পরও কোনো বিদেশির স্ত্রী না আসায় তার সন্দেহ হয়। এরপরই তিনি বাসা ছেড়ে দিতে মাছুমকে নোটিশ দেন। এরই মধ্যে গত বুধবার হঠাৎ মধ্যরাতে কাউকে কিছু না জানিয়ে বিদেশিরা বাসা ত্যাগ করে। বিদেশি নাগরিকদের ওই বাসায় থাকার তথ্য আগেই রমনা থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছিল বলে জানান বেলায়েত।

বাসার নিরাপত্তারক্ষী উজ্জ্বল আলী বলেন, ছয়জন নিরাপত্তারক্ষী ওই বাসার গেটে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। বুধবার রাতে গেটের দায়িত্বে ছিলেন উজ্জ্বল ও মামুন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনজন সাদা পোশাকে বাসার গেটে এসে জানান, তারা পঞ্চমতলায় বিদেশিদের ফ্ল্যাটে যাবেন। পরিচয় জানতে চাইলে তারা পুলিশের লোক বলে জানান। তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। নাম জানতে চাইলে তারা বলেন, বিদেশিরা তাদের আগে থেকে চেনে, কোনো সমস্যা নেই। এরপর উজ্জ্বল তাদের তিনজনকে নিয়ে পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে যান। সেখানে যাওয়ার পর ওই তিনজন ভেতরে ঢোকেন। উজ্জ্বলকে ভেতরে ঢুকতে নিষেধ করেন। ঘণ্টাখানেক পর তারা বেরিয়ে আসেন। তখন তাদের একজনের হাতে একটি ব্যাগ ছিল। তবে ফ্ল্যাটে ঢোকার সময় তাদের হাতে কোনো ব্যাগ ছিল না। পুলিশ পরিচয়ে তিনজন বাসা থেকে বের হওয়ার পর ওই ফ্ল্যাটে ঢুকে উজ্জ্বল জানতে চান, তাদের কোনো সমস্যা হয়েছে কি-না। তখন তারা বলে, 'নো প্রবলেম।'

উজ্জ্বল আরও জানান, পুলিশ পরিচয়ে বাসায় আসা ব্যক্তিরা দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে আসে। তবে মোটরসাইকেল বাসার গেট থেকে অনেক দূরে রাখা হয়। বিদেশিরা যখন মধ্যরাতে বের হচ্ছিল, তখন উজ্জ্বলকে জানায় যে তারা আবার আসবে। কিন্তু তারা আর আসেনি।

ফ্ল্যাট মালিকের চুক্তিতে দেখা গেছে, যে নেপালি নাগরিকরা সেখানে থাকত তারা হলো- রাধাকৃষ্ণ নায়াজু, বচন রঞ্জিত, গৌতম নাকারমি, ইন্দ্র প্রসাদ, বিকাশ মান ডাঙ্গল, নিরোজ সিধি ও প্রবীন প্রসীন।

Post Top Ad

Responsive Ads Here