সময় সংবাদ ডেস্ক//
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর ও তার অনুসারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতাকর্মীরা। আজ রোববার বেলা পৌনে ১টার দিকে এ হামলা চালানো হয়। এতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ডাকসু ভবনের মূল ফটক বন্ধ করে নুরের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করা হয়। এছাড়া বাইরে থেকেও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা ইট-পাটকেল ছুঁড়ছেন।
এদিকে হামলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় আইন বিভাগে অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলকে মূর্খ ও জামায়াতপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। তথ্যমতে, সনজিত আসিফ নজরুলের নিজ বিভাগ তথা আইনের শিক্ষার্থী।
আসিফ নজরুলের দেয়া পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়ে পাল্টা স্ট্যাটাসে সনজিত লিখেছেন, ‘মূর্খ জামাতি স্যার আমি ডাকসু থেকে মনোনীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর সিনেট সদস্য এটা ভুলে গেছেন? আজ কি দিনেই খেয়ে ফেলেছেন! আপনার মতো রাজাকারদের দোসর,দালাল যে কেমনে আইন বিভাগের শিক্ষক হলেন, লজ্জা!’
এর আগে আসিফ নজরুল তার ওয়ালে লিখেন, ‘‘একপর্যায়ে নুরুল সনজীতকে বলেন, ‘আপনি তো ডাকসুর কেউ না। আপনি কেন এখানে এসেছেন।’ সনজীত তখন বলেন, ‘আমি কে, তা কিছুক্ষণ পরেই বুঝবি।’ এ বর্বরতার শেষ কোথায়!’’
প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি
এদিকে নুরুল হক নুরসহ তার সহপাঠীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে সন্ত্রসীদের প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগ এনে প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর পদত্যাগ দাবি করেছেন তারা।
রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-কেন্দ্র থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডাকসু ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। পরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে বিক্ষোভ শেষ হয়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসে যারাই প্রতিবাদ করে আসছে তাদের ওপর ছাত্রলীগ বারবার আক্রমণ করে আসছে। তাদের আক্রমণের ব্যাপারে প্রক্টরিয়াল বডি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে বারবার জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এই প্রশাসনের প্রশ্রয়ে সন্ত্রাসীরা আজকে ক্যাম্পাসকে রক্তাক্ত করার সাহস পেয়েছে।
এ সময় শিক্ষার্থীদের ওপরে সন্ত্রাসী হামলা ও প্রক্টরের ভূমিকা নিয়ে ডাকসুর এই নেতা বলেন, এ ব্যর্থ প্রশাসন, মদদপুষ্ট প্রশাসন, প্রশ্রয়দাতা প্রশাসন বিশেষ করে প্রক্টরিয়াল বডির প্রধান প্রক্টর তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। এমন প্রক্টরকে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখতে চাই না। অবিলম্বে প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে। ডাকসুর ভিপিকে নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব প্রক্টরের ওপর থাকলেও তার কাছে বিচার দিলে তিনি বলেন নুরের দায়িত্ব নাকি তার নিজের। আমরা বলতে চাই যিনি এমন কথা বলেন তার কি নৈতিকভাবে পদে থাকবার কোনো অধিকার আছে?
সন্ত্রসীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, যখনই আমাদের ওপর, নুরের ওপর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর ওপর হামলা করা হবে, তাকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করা হবে তখন সারা দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী আপামর জনসাধারণ কেউ কিন্তু আর মাঠে বসে থাকবে না। এ সময় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তিনি।

