নাজমুল হাসান নিরবঃ
আসসালামু আলাইকুম? কেমন আছেন সবাই?আশা করি ভালো।আরেকটি বছরের সমাপ্তি।আমাদের প্রত্যেক জনের জীবন থেকে একটি বর্ষ হারিয়ে গেলো।বয়সেও এক বছর ছোট হয়ে গেলাম।তারপর নতুন একটি বর্ষ আসলো, ১৯ এর পরিবর্তে ২০ লিখতে হবে,তাই শুভ ইংরেজি নববর্ষ! বাড়ির পাশে দুড়ুম দুড়ুম সাউন সিস্টেম এর আওয়াজ হচ্ছে।দুপুরের দিকে বাড়ি থেকে শহড়ের দিকে গিয়েছিলাম। যাত্রাপথে তেমন চোখে পড়েনি তবে আসার পথে চোখে পড়ল মোড়ে মোড়ে আলোকসজ্জা আর সাউন্ড সিস্টেমে হিন্দি গানের বাজনা।কিন্তু তেমন কোন লোকজন নেই।সাথে থাকা ছোটভাইকে জিগ্যেস করলাম এতো আয়োজন লোকজন কই?সে জানালো লোকজন রাত্রে আসবে,তারপর নাচ-গান, খাওয়া-দাওয়া এছাড়া নাকি নানান নেশা জাতীয় দ্রব্য ও থাকে।
যাইহোক মূল কথায় আসি, নতুন বছর আসছে নতুন উদ্যোমে, উদ্যোগে ভূল গুলো সংশোধন করে নতুন করে শুরু করতে হবে?! সেরকমই তো হওয়ার কথা। কিন্তু সেটা কি হচ্ছে?শুরুইটা তো হচ্ছেই ভূল দিয়ে! অন্যায় দিয়ে!তাহলে সামনে কি করবেন?তাহলে কি সারা বছরটা অন্যায় করেই চলবে??..সিস্টেমেতো তাই আসে।
বন্ধুরা জন্মের পর থেকে সৃষ্টিকর্তা,পরিবার,সমাজ, দেশ থেকে আমরা কতই না পেয়েছি।একবার চিন্তা করেনতো এই পরিবার, সমাজ, দেশ যদি পাশে না থাকত তাহলে আমাদের আজকের এই অবস্থানে আসতে কি সম্ভব হতো?
এখন আসেন এই পরিবার, সমাজ, দেশ, জাতি এখান থেকে আমারা জীবন ব্যাবস্থার সবকিছু যদি পেয়ে থাকি তাহলে তার কাছে কি আমরা ঋণী নয়??
তাহলে আমাদের তো আমাদের ঋণ শোধ করতে হবে।
সেটা কিভাবে?
অবশ্যই একজন সুনাগরিক হয়ে।
একজন সুনাগরিক ই পারে পরিবার, সমাজ,দেশ, জাতির উপকারে আসতে।
আমরা যে ভাবে সুনাগরিক হতে পারি!
সুনাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ
সুনাগরিকের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত্য প্রকাশ করা। অর্থাৎ রাষ্ট্রের নির্দেশ মেনে চলা। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, অখন্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য প্রত্যেক সুনাগরিককে সর্বদা সজাগ এবং চরম ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন এবং সংবিধান মেনে চলা এবং আইনের প্রতি সম্মান দেখানো সুনাগরিকদের অন্যতম দায়িত্ব। কেউ আইন অমান্য করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। স্বাভাবিক জীবনের ব্যাঘাত ঘটে। তাই সুষ্ঠু জীবনযাপন, শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রত্যেক সুনাগরিককে আইন মেনে চলতে হবে।
সততা ও সুবিবেচনার সাথে ভোট দেওয়া সুনাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য। এর ফলে যোগ্য ও উপযুক্ত প্রার্থী জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হবে। অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ প্রার্থীকে ভোটদানে বিরত থাকা উচিত।
রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রধান উৎস সুনাগরিকদের প্রদেয় কর ও খাজনা, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক, প্রতিরক্ষা এবং উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদনের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। সুনাগরিকদের যথাসময়ে কর প্রদান করে রাষ্ট্রীয় কাজে সহযোগিতা করতে হবে।
রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা সুনাগরিকের কর্তব্য। সরকারের গৃহীত কোনো কাজ মানে হলো জনগণের কাজ। সরকারি কর্মকর্তা তদুপরি সুনাগরিকদের সততা ও কাজে একাগ্রতা ও নিষ্ঠার উপর সরকারের সফলতা, উন্নতি ও অগ্রগতি নির্ভর করে।
প্রতিটি শিশুই রাষ্ট্রের নাগরিক। পিতামাতা তার অভিভাবক হিসেবে কাজ করেন। তাই সন্তানদের জীবনরক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রতিষেধক টীকাদান, সুস্থসবল রাখা এবং নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে পাঠানো পিতামাতার দায়িত্ব। এতে করে সন্তান সুশিক্ষিত হয়ে সুনাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে অবদান রাখবে।
প্রত্যেক সুনাগরিককেই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থাকতে হবে। নিজস্ব সংস্কৃতি, রাষ্ট্রীয় অর্জন ও সফলতা এবং সবসময় দেশের মঙ্গল কামনা করা নাগরিকদের কর্তব্য। জাতীয় সংগীত, জাতীয় ইতিহাস, জাতীয় বীর ও মনীষীদের অবদানকে স্মরণ করতে হবে।
প্রত্যেক সুনাগরিককে একে অপরকে সহ্য করার ক্ষমতা থাকতে হবে। ভিন্নমতকে মূল্যায়ন করা এবং সম্মান করার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংহতি অর্জন করা সম্ভব। এটা প্রত্যেককেই বিশ্বাস করতে হবে যে বৈচিত্র্যের মধ্যেই সৌন্দর্য নিহিত।
প্রত্যেক সুনাগরিককেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হবে। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের এমনকি রাষ্ট্রের বেআইনী কোন কাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সুনাগরিকদের নৈতিক দায়িত্ব। তবে কোনক্রমেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না। তাহলেই সুশাসন এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে।
এছাড়া নিয়মিত সৃষ্টিকর্তার আনুগত্য প্রকাশ করা,মা-বাবার সেবা করা,পাড়া-প্রতিবেশীর খোজ খবর নেওয়া তাদের বিপদেআপদে পাশে থাকা,গরীব দুঃখীদের সাহায্য সহযোগীতা করা একজন সুনাগরিক এর নৈতিক দায়ীত্ব।
শেষকথাঃ আজকে আমার প্রীয় কিছু ব্যাক্তিবর্গ আমাকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাদেরকে ও আমার আন্তরিক শুভাচ্ছা।
তবে আপনাদের কাছে আমার একাটা চাওয়া আছে।আর সেটা হলো "আসুন আজকে আমরা প্রতিজ্ঞা করি এখন থেকে মৃত্যুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষের কোন ক্ষতি করব না"।।
আর যদি এটা করতে পারেন তাহলে পরিবার, দেশ, জাতি, সমাজ উপকৃত হবে।।

