মাহদী হাসান জাবি প্রতিনিধি:
উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ কেলেঙ্কারি ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দেয়ার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে ঝাড়ু মিছিল করেছেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে কয়েকটি সড়ক ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবন ঘুরে পরিবহন চত্বরসংলগ্ন সড়কে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারেক রেজা বলেন, বর্তমান ভিসির আমলে বিশ্ববিদ্যালয় যেন দুর্নীতির মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিসির মদদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আর একজন আত্মস্বীকৃত হামলাবাজকে অপসারণের জন্য তদন্তের প্রয়োজন পড়ে না। ভিসির অপসারণের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কমুক্ত করার জন্য আমরা আজ ঝাড়ু হাতে নিয়েছি। ক্রমান্বয়ে আমাদের এ আন্দোলন আরও জোরালো হবে।
ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হক রনি বলেন, টাকা ভাগ-বাটোয়ারার বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের স্বীকারোক্তি, পত্রিকার খবর ও ভিসির মদদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা প্রমাণ করে তিনি দুর্নীতিবাজ। একজন হামলাবাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির মতো পদে কীভাবে থাকেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা থেকে এই দুর্নীতি যে কতদূর বিস্তৃত সেই প্রশ্ন জাগে। বর্তমান ভিসি নিজের পদে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা কতটা সুষ্ঠুভাবে ব্যয় হবে তা নিয়ে সবাই সন্দিহান। তাই অবিলম্বে এই ভিসিকে অপসারণ করতে হবে।
ভিসির অপসারণ দাবিতে আগামী বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভ ও সমাবেশের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জাবি শাখার সদস্য সচিব আবু সাঈদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ছাত্র ফ্রন্টের জাবি শাখার সদস্য কনোজ কান্তি রায়, ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত দে, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সোহানুর রশিদ মুন ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের জাবি শাখার আহ্বায়ক শাকিল উজ জামান।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে চার মাস ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। একই দাবিতে বিক্ষোভ, ধর্মঘটের পর গত ৪ নভেম্বর ভিসির বাসভবন অবরুদ্ধ করেন তারা।
পরদিন ৫ নভেম্বর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের পিটিয়ে সরিয়ে দেন। এ অবস্থায় গত ৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ এক মাস পর গত ৫ ডিসেম্বর থেকে আবার ক্যাম্পাস সচল হয়। তবে ভিসির অপসারণের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

