আল্লাহ যাদের রক্ষা করেন, তাদেরকে কেউ ক্ষতি করতে পারে না - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০

আল্লাহ যাদের রক্ষা করেন, তাদেরকে কেউ ক্ষতি করতে পারে না


 হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী :

প্রিয় পাঠকের কাছে আজকে আমার আলোচনা হলো  আল্লাহ যাদের রক্ষা করেন, তাদেরকে কেউ কোন ক্ষতি করতে পারে না সেই সম্পর্কে আপনাদের কাছে আজকের আলোচনা হলো! আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে বসা ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, ‘হে বৎস! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে কয়েকটি বাক্য শেখাব। আল্লাহর বিধানগুলো যথাযথভাবে মেনে চলবে, আল্লাহ তোমাকে হেফা’জত করবেন। আল্লাহর দাবিগুলো (হুকুমকে) আদায় করো, তুমি আল্লাহকে তোমার সামনেই পাবে।

আর তোমার কারো কাছে কিছু চাইতে হলে আল্লাহর কাছেই চাইবে। সাহায্য চাইতে হলে আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে। জেনে রেখো! যদি সব সৃষ্টি একত্র হয়ে তোমার কোনো উপকার করতে চায়, তবে তারা আল্লাহর নির্ধারিত পরিমাণ ছাড়া কখনোই তোমার উপকার করতে পারবে না। আর যদি সব সৃষ্টি একত্র হয়ে তোমার কোনো ক্ষ’তি করতে চায়, তবে তারা আল্লাহর নির্ধারিত পরিমাণ ছাড়া কখনোই তোমার ক্ষ’তি করতে পারবে না। কলম তুলে নেয়া হয়েছে এবং পৃষ্ঠাগুলো শু’কিয়ে গেছে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৫১৬)

আলোচ্য হাদিসে মহানবী (সা.) উম্মতকে আল্লাহর দয়া, অনুগ্রহ ও সাহায্য লাভের উপায় শিখিয়েছেন। তা হলো, সব সময় এবং সব কাজে আল্লাহমুখী হয়ে থাকা এবং তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলা। তিনি আরো শিখিয়েছেন, আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে বান্দার কোনো কল্যাণ বা অকল্যাণ হতে পারে না। সুতরাং বান্দার উচিত সর্বতোভাবে আল্লাহর আনুগত্য করা এবং তার কাছেই সাহায্য চাওয়া। আল্লাহর সব বিধান মান্য করা বান্দার জন্য আবশ্যক। তবে এমন কিছু বিধান রয়েছে যেগুলো সংরক্ষণ করার প্রতি মহানবী (সা.) বারবার তাগিদ দিয়েছেন। যেমন-

ঈমান- ঈমান রক্ষা করা মুমিনের প্রথম কাজ। ঈমান তথা বিশ্বাস রক্ষার অর্থ হলো, ঈমানবিরো’ধী কথা ও কাজ পরিহার। ঈমানের পরিপ’ন্থী জীবন থেকে দূরে থাকা এবং পার্থিব জীবনে মুমিন হিসেবে জীবনযাপন করা। আর ঈমান দৃঢ় হয় এমন কাজ বেশি বেশি করা। ঈমান রক্ষার নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে এবং তার ওপর দৃঢ় থাকে, তিনি অবশ্যই তাদের তার দয়া ও অনুগ্রহে শামিল করবেন এবং তাদের সরল পথে পরিচালিত করবেন।’ (সুরা: নিসা, আয়াত: ১৭৫)

নামাজ- ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ। পবিত্র কোরআনের অসংখ্য স্থানে আল্লাহ নামাজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) জীবনের অন্তি’ম মুহূ’র্তে নামাজ সংরক্ষণের অসিয়ত করেন। নামাজ সংরক্ষণের অর্থ হলো, যথাসময়ে যথানিয়মে একা’গ্র চিত্তে নামাজ আদায় করা। নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নামাজের প্রতি যতœবান হও এবং বিশেষত মধ্যবর্তী নামাজের।’ (সুরা: বাকারা, আয়াত: ২৩৮)

পবিত্রতা- পবিত্রতা মুমিনজীবনের সৌন্দর্য। মুমিন দেহ ও মনের দিক থেকে সব সময় পবিত্র থাকার চেষ্টা করবে। অপবিত্রতা থেকে নিজের দেহ-মনকে র’ক্ষা করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) পবিত্রতা র’ক্ষায় মুমিনকে যতœবান হতে উদ্বু’দ্ধ করে বলেছেন, ‘প্রকৃত মুমিন ছাড়া আর কেউই অজুর প্রতি যতœবান হয় না।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২২৪৩৬)

মাথা ও পেট- মাথা সংরক্ষণের অর্থ হলো, সুচিন্তা করা এবং ভালো ও পুণ্যের কাজে নিজের বিবেক-বুদ্ধি ও মেধা ব্যবহার করা, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জ্ঞানার্জন করা। আর পেটের হেফাজতের অর্থ হলো, হারাম উপার্জন ও খাবার-পানীয় থেকে বির’ত থাকা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহকে যথাযথ ল’জ্জা করার অর্থ হলো মাথা ও তা যা কিছু ধারণ করে তার হেফা’জত করা এবং পেট ও তাতে যা প্রবেশ করে তা সংর’ক্ষণ করা।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৫৪)

ল’জ্জাস্থান- ল’জ্জাস্থা’নের সংরক্ষণের অর্থ হলো হারাম উপায়ে জৈবিক চাহিদা পূরণ না করা এবং আল্লাহর নির্দেশ মতে বৈধ উপায়ে তা পূরণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনি মুমিনদের বলুন! তারা যেন তাদের চোখ অবনত রাখে এবং তাদের ল’জ্জাস্থানের হেফা’জত করে।’ (সুরা: নুর, আয়াত: ৩০)
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে আল্লাহর আদেশ এবং নিষেধ গুলো মেনে চলার তৌফিক দান করেন আমিন।

Post Top Ad

Responsive Ads Here