ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী:
স্থানীয় সরকার এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নেতাদের একাংশ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। প্রভাবশালীদের সিন্ডিকেট অবৈধভাবে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা জেলার পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন চলমান রয়েছে। যার দরুন আবাসন ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাঁধ ও ফসলি জমির জমি ভাঙ্গনের হুমকি মূখে।
স্থানীয় অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে প্রচুর কৃষিজমি এবং বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি অনেক স্থাপনা ধ্বংসের আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাজশাহী নগরীর তালিমারী, গোদাগাড়ী, মথীহার, শাহাপুর,ইউসুফপুর, মুক্তারপুর, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার ড্রেজার দিয়ে নদীতে পাইপ ডুবিয়ে বালু অবৈধ্য ভাবে বালু উত্তোলন করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অভিযুক্ত বালু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেচটর কারনে বালু উত্তোলনকারীদের কারও সাক্ষাতকার নেয় সম্ভব হয়নি। গত বছর বর্ষার সময় অনেক কৃষক তাদের আবাসন ঘর এবং ফসলি জমি হারিয়েছে এবং সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। মোবাইল কোর্টের চালনার কারণে বালু উত্তোলনকারীরা কিছু সময় তাদের কার্যক্রম আড়াল করলেও পূনরায় অবৈধ্য বালু উত্তোলন করে। বালু উত্তোলনের ফলে ফসলি জমি, আবাসন ঘর এবং অন্যান্য কাঠামো ভাঙ্গনের হুমকির মধ্যে রয়েছে।
রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে আধা কিলোমিটার এবং চারঘাট উপজেলার বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে ড্রেজার বা উত্তোলন বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা সেখানে শক্তিশালী ড্রেজার ব্যবহার করছে, শহর স্থাপনার জন্য হুমকিস্বরূপ। স্থানীয় সূত্র জানায়, সংবেদনশীল জায়গাগুলির নিকটে বালু উত্তোলন কিছুদিনের জন্য থেমেছিল, স্থানীয় প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এই স্পটগুলি বালু উত্তোলন করে দেয়া হয়।
কিন্ত ক্ষমতাসীনদের প্রভাবশালী প্রভাবশালী সিন্ডিকেটরা আবার একই দাগ থেকে নগদ অর্থের বিনিমিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে। ক্ষমতাসীন দলের শক্তিশালী নেতাদের একাংশকে তারা এই অর্থের অংশ দেয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। তবে বালু উত্তোলনকারীরা দাবি করেছেন অন্যত্র থেকে তোলা বালু সংগ্রহের জন্য ওই জায়গাগুলি ব্যবহার করছে।
সাম্প্রতিক সংবাদ সংগ্রহের সময় দেখা যায, বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলনের কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজশাহীর গোদাগাড়ী, মতিহার, শাহাপুর, ইউসফপুর, মুক্তারপুর, চারঘাট এবং বাঘা উপজেলায় একটি বালু উত্তোলন চলমান রয়েছে।
এবিষয়ে বিভিন্ন এলাকার সচেতন নাগরীকরা বলেন, প্রায়শই তারা ড্র্রেজার মেশিন দিয়ে গভির রাতে অবৈধ বালু উত্তোলন করে। এ বালু গুলি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবৈধ্য মটরযান ব্যবহারের মাধ্যমে বিক্রি করছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, টেন্ডারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন এবং বিক্রয় করার অনুমতি দেয়া আছে। তবে নদীর সীমান্তের বাইরে স্থানীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ১ কিঃ মিটার দূরে বালু উত্তোলন করতে হবে। অবৈধ্য বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।


