ব্রি ধান৮৪ (উচ্চ জিংক এবং আয়রন সমৃদ্ধ) : পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের পথে আশীর্বাদ নাকি অন্তরায় - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২০

ব্রি ধান৮৪ (উচ্চ জিংক এবং আয়রন সমৃদ্ধ) : পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের পথে আশীর্বাদ নাকি অন্তরায়


                                          লিটন চন্দ্র সেন


সম্প্রতি বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (ইজজও) বিজ্ঞানীরা ইরানি ধানের জাত নিয়ামত থেকে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে (পরাগধানী ব্যবহার করে) জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ ব্রি ধান৮৪ নামক একটি নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন। এ ধানের জাতটি প্রধানত বাংলাদেশের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে বিশেষ করে জিংক ও আয়রনের অভাব পূরণ করার জন্য উদ্ভাবন করা হয়েছে। এমন একটি জাতের উদ্ভাবন নিঃসন্দেহে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীদের জন্য গৌরবের এবং প্রশংসনীয়। বর্তমানে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচিত। সকল কৃষিবিদেরা আজ আনন্দে বগল বাজায় এই ভেবে যে, এবারে এমন একটি ধানের জাত বের হলো যা কেবল উৎপাদনই বাড়াবে না, পুষ্টিহীনতাও দূর করবে। কেবল ভাত খেলেই অনেক পুষ্টি। পুষ্টিহীনতা দূরীকরণে বাংলাদেশ অনেকটা এগিয়ে গেল। কিন্তু আসলেই কি আমরা এগিয়ে গেলাম, নাকি পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের পথকে আরও কণ্টকিত করলাম সে বিষয়টি ভেবে দেখা খুব প্রয়োজন। এমন যুগান্তকারী একটি উদ্ভাবন বাংলাদেশের পুষ্টিহীনতার দূরীকরণে কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। সে বিষয়ে সকলকে সম্যক ধারণা দেওয়ার জন্য আজকের এই লেখাটি। লেখার প্রারম্ভেই নতুন উদ্ভাবিত ধানের জাত সম্পর্কে একটু জেনে নেয়া বাঞ্ছনীয়।     


ব্রি ধান৮৪ উচ্চ জিংক এবং আয়রন সমৃদ্ধ একটি উচ্চ ফলনশীল বোরো ধানের জাত। বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান (ইজজও) গবেষণা মাঠে হোমোজাইগাস কৌলিক সারি নির্বাচনের পর ব্রি এর বিভিন্ন আঞ্চলিক কার্যালয় এবং কৃষকের মাঠে ২ বছর যাবত ফলন পরীক্ষা করে। এরপর ২০১৭ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড এর মূল্যায়ন দল কৃষকের মাঠে ধানের ফলন মূল্যায়ন করেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফলন পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়ায় জাতীয় বীজ বোর্ড ২০১৭ সালেই কৃষকের মাঠে বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য ছাড়করণের অনুমতি দেয়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান গত দুই বছরে পর্যাপ্ত বীজ উৎপাদন করার পরে ২০২০ সালে মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই জাতটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- চালের রং হালকা লালচে এবং প্রতি কেজি চালে ২৭.৬ মিলিগ্রাম জিংক ও ১০.১ মিলিগ্রাম আয়রন রয়েছে। এছাড়াও এর চালে শতকরা ৯.৭ ভাগ আমিষ এবং ২৫.৯ ভাগ অ্যামাইলোজ রয়েছে। এর ফলন হেক্টরপ্রতি ৬.০-৬.৫ টন যা  ব্রি ধান৮৪ এর তুলনায় ০.৫ টন বেশি।          


এখন ধানের জাতটি উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপট ও বিদ্যমান পুষ্টিগুন বিশ্লেষণ করা দরকার। জিংক একটি খনিজ উপাদান যা মানব দেহে অতি অল্প পরিমাণে প্রয়োজন। এটি মানবদেহে প্রধানত ডিএনএ তৈরি, কোষের বৃদ্ধি, প্রোটিনের গঠন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কাজেই এটা দেহের বৃদ্ধির জন্য অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হলেও অতি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। এজন্য দৈহিক বৃদ্ধির কাল বিশেষ করে- শৈশব, বয়ঃসন্ধিকাল এবং গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত জিংকের সরবরাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জিংকের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করলে দৈনিক প্রাপ্তবয়স্ক একজন পুরুষের ১১ মিলিগ্রাম এবং একজন মহিলার ৮ মিলিগ্রাম জিংক প্রয়োজন। তবে গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মহিলাদের দৈনিক ১২ মিলিগ্রামের বেশি প্রয়োজন। এজন্য খাবারের মাধ্যমে প্রতিদিন জিংক গ্রহণ অপরিহার্য। কেননা, জিংকের ঘাটতি শিশুদের দৈহিক বৃদ্ধি এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। উৎকৃষ্ট মানের জিংকের উৎস হলো- ঝিনুক, কাকড়া, গলদা চিংড়ি, সামুদ্রিক মাছ, পোল্ট্রি, গরুর মাংস, অন্যান্য মাছ এবং ডিম। অপরপক্ষে, আয়রন এর প্রধান কাজ হলো রক্তে অক্সিজেন পরিবহন করা। এটি হিমোগেøাবিন এর সাথে যুক্ত হয়ে লোহিত রক্তকণিকা গঠন করে। এর অভাবে রক্তস্বল্পতা বা এনিমিয়া হয়। প্রাকৃতিকভাবে আমাদের দৈনন্দিন খাবার গুলোতে মূলত দুই ধরনের আয়রন পাওয়া যায়- ১) হেম (ঐবসব) আয়রন যা প্রধানত প্রাণীজ আমিষ (মাছ, মাংস ও ডিম) থেকে পাওয়া যায়, ২) নন হেম (ঘড়হ-ঐবসব) আয়রন যা উদ্ভিজ উৎস (লিগিউম, পাতাযুক্ত শাক এবং বাদাম) থেকে পাওয়া যায়। প্রতিদিন গড়ে বিভিন্ন খাবার থেকে যে পরিমাণ আয়রন আমাদের শরীর গ্রহণ করে তার শুধুমাত্র ১০% হেম আয়রন (প্রাণীজ উৎস)  যা মানবদেহে খুব সহজে এবং ভালোভাবে ২৫% পর্যন্ত শোষিত হয়। কিন্তু বাকি ৯০% নন হেম (উদ্ভিজ উৎস) থেকে আসে যার মাত্র ৫-১২% আমাদের শরীরে শোষিত হতে পারে। মার্কিন গবেষকদের মতে, ১০০০ ক্যালোরির খাবারের মধ্যে ৭ মিলিগ্রাম আয়রন গ্রহণ করলে তা মানবদেহে মাত্র ১-২ মিলিগ্রাম শোষিত হয়। কাজেই মানবদেহের গৃহীত মোট আয়রনের প্রাণীজ আমিষ থেকে ৪ ভাগের ১ ভাগ এবং উদ্ভিজ উৎস থেকে ৮ ভাগের ১ ভাগ পরিমাণ শোষিত হয়। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি কেবল উদ্ভিজ্জ উৎসের খাবার হতে আয়রন গ্রহণ করলে তার দৈনিক আয়রনের চাহিদা প্রাণীজ আমিষ থেকে আয়রন গ্রহণকারীর দ্বিগুণ হয়।

   
জিংকের অভাব জনিত কারণে প্রধানত শিশুরা খর্বকায় (ঝঃঁহঃবফ ঈযরষফ) এবং আয়রনের ঘাটতিতে এনিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা হয় যা বাংলাদেশের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের পথে প্রধান দুটি অন্তরায়। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী মোট শিশুদের ৩৬% খর্বকায় এবং ৫১.৬% কিশোরী ও ৩৯.৯% (১৫-৪৯ বছর) প্রজননক্ষম মহিলা রক্তস্বল্পতায় ভুগছে। কাজেই বিষয়টাকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিয়ে মোকাবেলা করা অতি জরুরী। আর সে কারণেই হয়তো কৃষিবিজ্ঞানীরা বাংলাদেশের প্রধান শস্য ধানের মধ্যে জিংক ও আয়রন সংযোজন করে একটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের প্রধান খাদ্যে (ধান, গম, ভুট্টা ও লিগিউম) ফাইটেট (চযুঃরপ অপরফ) থাকে যা মানব শরীরে জিংক ও আয়রন শোষণে বাঁধা দান করে। ফলে ভাত থেকে প্রাপ্ত জিংক ও আয়রনের অতি অল্প পরিমাণই আমাদের শরীরে কার্যকর হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে জিংক শোষণ পুরোপুরি নির্ভর করে খাবারে ফাইটেট ও জিংকের মোলার অনুপাতের (চযুঃধঃব: তরহপ সড়ষধৎ ৎধঃরড়) উপর। অনুপাত যদি <৫, ৫-১৫ এবং >১৫ হয় তবে শরীরে গৃহীত জিংকের শতকরা যথাক্রমে ৫০, ৩০ ও ১৫ ভাগ শোষিত হয়। অর্থাৎ দৈনন্দিন খাবারে ফাইটেট যত বেশি থাকবে জিংক তত কম শোষিত হবে। এ ব্যাপারে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি বিভাগের অধ্যাপক বো লোনারডাল তার প্রকাশিত প্রবন্ধে বলেছেন, খাবারে আমিষের পরিমাণ জিংকের শোষণ সরাসরি প্রভাবিত করে। খাবারে প্রাণীজ আমিষের পরিমাণ জিংকের প্রধান উৎস যা এর শোষণকে ত্বরান্বিত করে। কাজেই শুধুমাত্র উদ্ভিজ্জ উৎস তথা শস্যদানা থেকে জিংকের যোগান কোন কার্যকরী পন্থা নয় যতক্ষণ না ফাইটেট পুরোপুরি দূর করা যায়। যদিও ব্রিডিং এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিযারিং এর মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত কম ফাইটেট সম্বলিত ধানের জাত উদ্ভাবন করা যায়। ব্যাপারটি আয়রন শোষণের ক্ষেত্রেও একই রকম। এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, খর্বকায় শিশু কেবলমাত্র জিংকের অভাবে হয় এমন নয়। আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে- ১) মায়ের গর্ভাবস্থা থেকে শিশুর দুই বছর বয়স (প্রথম ১০০০ দিন) পর্যন্ত পর্যাপ্ত খাবার ও যতœ না করলে, ২) খাবারে অপর্যাপ্ত অথবা আদৌ প্রাণীজ আমিষ না থাকলে, ৩) কিশোরী অবস্থায় গর্ভবতী হলে, ৪) বাচ্চাকে অপর্যাপ্ত এবং সময়মত খাবার না খাওয়ালে।        


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োক্যামেস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ এবং ব্রি (ইজজও) এর একদল গবেষক ২০১৩ সালে বাংলাদেশের ১৯ টি জনপ্রিয় ব্রি ধানের জাতে জিংক ও আয়রনের পরিমাণ এবং ফাইটেট এর পরিমাণের সাথে মোলার অনুপাত নির্ণয় করেন। তাদের পরীক্ষায় বিভিন্ন জাতে ফাইটেট এর সাথে জিংক ও আয়রনের গড় মোলার অনুপাত যথাক্রমে ১৮ ও ১৫ পাওয়া যায়। উল্লেখ্য যে, মোলার অনুপাত যদি ১৫ এর বেশি হয় তবে খনিজ উপাদানের শোষণ তীব্রভাবে বাধাগ্রস্থ হয়। কাজেই তাদের পরীক্ষিত সবগুলো জাতেই জিংক ও আয়রন শোষিত হতে তীব্রভাবে বাধাগ্রস্থ হয় এবং খুবই অল্প পরিমাণে কার্যকর থাকে। যদিও বলা হয় মোলার অনুপাত <০.৪ হলে শরীরে পর্যাপ্ত খনিজ উপাদান শোষিত হয়। সেজন্য খনিজ উপাদানের শোষণের মাত্রা বুঝতে যেকোনো ধানের জাতের মধ্যে ফাইটেট এর উপস্থিতির পরিমাণ জানাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ব্রি ধান৮৪ সম্পর্কে যে বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে তাতে কোথাও ফাইটেট এবং অন্য কোন এন্টি নিউট্রিশনাল ফ্যাক্টর এর উপস্থিতি আছে কিনা সে সম্পর্কিত কোন তথ্য নেই। সুতরাং উদ্ভাবিত নতুন ধানের জাতটি কমিউনিটি পর্যায়ে সম্প্রসারিত হলেও জিংক ও আয়রনের ঘাটতি জনিত পুষ্টি সমস্যা সমাধানে কতটা কার্যকর হবে তা প্রশ্নবিদ্ধ। নির্দিষ্ট কোন বৈশিষ্ট্য সংযোজন করে নতুন কোন জাত উদ্ভাবন তখনই যুক্তিযুক্ত যখন ঐ নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের যোগান অন্য কোন উৎস থেকে নিরাপদ উপায় পাওয়া সম্ভব নয়। যেহেতু জিংক ও আয়রন এর উৎকৃষ্ট যোগান প্রাণীজ আমিষ আমাদের পরিবেশে উপস্থিত ও সহজলভ্য, সেহেতু ধানের মধ্যে উক্ত খনিজ উপাদানের সংযোজন কোনো কার্যকর সমাধান নয়। বরং ভাতপ্রিয় বাঙালি জাতিকে অতিরিক্ত ভাত খেতে উদ্বুদ্ধ করবে যা পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের পথে আশীর্বাদ না হয়ে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। কেননা এতে করে মানুষের খাবারে বৈচিত্রতা (উরবঃধৎু উরাবৎংরঃু) হ্রাস পেতে পারে। এমনিতেই আমরা ছোটবেলা থেকেই ভাত খেতে অভ্যস্ত। খাবার সময় হলে মা বলতো ভাত খেতে এসো। আমাদের ক্ষুধা পেলে আমরাও বলি ভাত খাব। এভাবেই পরিবার থেকে গড়া অভ্যাসে আমাদের দৈনিক খাবার থেকে প্রয়োজনীয় মোট শক্তির ৭৮% ভাত থেকে গ্রহন করি। সেই থেকেই আমরা খাবার না খেয়ে শুধু ভাতই খেয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রতিদিন ১৩০ গ্রাম প্রানিজ আমিষ (মাছ, মাংস ও ডিম) খাওয়া দরকার। কিন্তু বাংলাদেশে গড়ে ৫৭ গ্রাম আমিষ খাওয়ার রেকর্ড আছে যার সিংহভাগই আসে শস্যদানা (প্রধানত ভাত ও আটা) থেকে। অর্থাৎ আমরা নিন্মমানের আমিষ (চড়ড়ৎ য়ঁধষরঃু ঢ়ৎড়ঃবরহ হড়ঃ যধারহম ধষষ বংংবহঃরধষ ধসরহড় ধপরফং) গ্রহন করছি। ফলশ্রæতিতে আমরা পুষ্টিহীনতায় ভুগছি। অধিক ভাত এবং কম প্রানীজ আমিষ, শাক-সবজি ও ফল গ্রহনই এর প্রধান কারন। বাংলাদেশে যে অতিপুষ্টি দেখা যায় তাও প্রধানত অধিক ভাত খাওয়ার জন্য।একইভাবে ইরি (ওজজও) কর্তৃক ভিটামিন এ (বিটা ক্যারোটিন যুক্ত) সমৃদ্ধ গোল্ডেন রাইচ উদ্ভাবন করা হয়েছিল, কিন্তু বিশ্বের কোন দেশেই তেমন জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি।    

     
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বর্তমানে নির্দিষ্ট খাদ্য উপাদানের পরিমাণ হিসাব অপেক্ষা গুণগত মানসম্মত খাদ্য কিংবা খাদ্যে বৈচিত্রতা (উরবঃধৎু উরাবৎংরঃু) এর উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। মানুষের খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন প্রতিবেলায় কমপক্ষে চার ধরনের খাবার (ভাত, ডাল, মাছ/মাংস/ডিম এর যেকোন একটি এবং শাক-সবজি) থাকলে মোটামুটি সকল পুষ্টি উপাদানের যোগান নিশ্চিত হয়। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান দেশের সর্বত্র এই নীতিই অনুসরণ করছে। কাজেই ভাত আমাদের প্রধান খাদ্য বলে তার ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে খাবারের বৈচিত্রতা আনায়নে গুরুত্ব দেয়া অতি জরুরী। আজ ধানের মধ্যে জিংক ও আয়রন সংযোজনের সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে হয়তো কৃষিবিজ্ঞানীরা আরও ভিটামিন মিনারেল সংযোজন করে নতুন জাত উদ্ভাবন করবেন। শুধুমাত্র ভাতের মাধ্যমেই যদি অনেকগুলো ভিটামিন মিনারেল পাওয়া যায় এবং এমন প্রচারণা চলতে থাকে যে “এই চালের ভাত, খান অধিক পুষ্টি পান” তাহলে খাবারের বৈচিত্রতা হারিয়ে পুষ্টিহীনতার পথকে আরও ত্বরান্বিত করবে। বরং কৃষি বিজ্ঞানীরা দেশের দ্রæত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে হেক্টর প্রতি অধিক উৎপাদনশীল এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সহিষ্ণু ধানের জাত উৎপাদনে মনোযোগী হলে সময় উপযোগী সমাধান পাওয়া যাবে। পাশাপাশি মাছ ও পোলট্রি উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে এবং তাদের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পুষ্টিহীনতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোন একক নেতৃত্ব নয়, চাই সকল বিভাগের (কৃষি, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও গ্রামীণ সমাজ উন্নয়ন বিভাগ) সমন্বিত প্রচেষ্টা।           

লেখক : 

লিটন চন্দ্র সেন
সহযোগী অধ্যাপক
কমিউনিটি হেলথ এন্ড হাইজিন বিভাগ,
নিউট্রিশন এন্ড ফুড সায়েন্স অনুষদ,
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।


Post Top Ad

Responsive Ads Here