ফরিদপুরে স্থানীয়রা করোনা রুখতে নিজেদের এলাকা লকডাউন ঘোষনা - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, এপ্রিল ০৮, ২০২০

ফরিদপুরে স্থানীয়রা করোনা রুখতে নিজেদের এলাকা লকডাউন ঘোষনা

ফরিদপুর প্রতিনিধি ::

সারাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় ফরিদপুরের স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসী নিজেরাই নিজেদের এলাকাগুলোর প্রবেশ পথ গুলো বন্ধ করে লকডাউন ঘোষনা করছে। এপথ গুলোতে তারা পাহারা বসিয়ে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বাইরে বের হওয়া ও এলাকার ভিতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।  ফরিদপুর শহরের ওয়ারলেস পাড়া এলাকায় সচেতন এলাকাবাসী রাস্তার প্রধান ঘেটে বাঁশ দিয়ে বেধে দিয়েছে। এছাড়া ফরিদপুর সদর উপজেলার ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাংগী এবং হাফেজ ডাংগী গ্রামের যুবসমাজের উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে গ্রামবাসী লকডাউন ঘোষণা করেন।

অপরদিকে ভাঙ্গা উপজেলায় প্রবেশের আঞ্চলিক যেসব পথ ভাঙ্গা পৌরসভার চত্বর থেকে নওপাড়া, ভাঙ্গা শহরে প্রবেশ করার পশ্চিম হাসাম দিয়া, কুঠিবাড়ির চরকান্দা, বাইশাখালির ডাকবাংলা সড়ক ও পুরাতন বাসস্ট্যান্ড হয়ে মালো সম্প্রদায় জেলে পাড়ার সড়ক পথ গুলো হয়ে ভাঙ্গা উপজেলায় প্রবেশ করার তিনটি দ্বারমুখে বাঁশ দিয়ে আসা ও যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।  

এর ফলে আজ থেকে কোন প্রকার ভ্যানগাড়ি, অটো ভ্যানগাড়ি, ইজিবাইক সহ কোন ভারী যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না পৌর শহরে। এছাড়া প্রয়োজন ছাড়াও কোন পৌরবাসী বাজারেও আসতে পারবে না।

এভাবে জেলার বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসী তার এলাকাকে করোনা ভাইরাস মহামারি থেকে মুক্ত রাখতে নিজেরাই নিজেদের এলাকা অঘোষিত লকডাউন ঘোষনা করে যাওয়া আসা বন্ধ করে দিচ্ছে। 

এদিকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনী ফরিদপুরেকে করোনা মুক্ত রাখতে দিন রাত পরিশ্রম করে চলছেন। 

কোভিড-১৯ সংক্রামণ রোধে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক এর নির্দেশক্রমে সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অত্যাকবশীয় নিত্য প্রয়োজনীয় দোকান খোলা থাকবে। অন্য সকল দোকান যথারীতি বন্ধ থাকিবে। তবে চিকিৎসা কেন্দ্র এবং ওষুধের দোকান খোলা থাকবে। গণ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এক জেলার যানবাহন প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া অন্য জেলায় যাবে না এবং অন্য জেলার যানবাহনও প্রবেশ করতে পারবে না। 

 

অপরদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পাশে সক্রিয় রয়েছে পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা। তারা শহরের প্রবেশের প্রধান প্রধান সড়কগুলো মুখে ৩০টি স্থানে সকাল থেকে অবস্থান নেয় পুলিশ সদস্যরা।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জেলা সদরসহ অন্য উপজেলাগুলোতে টহল জোরদার করেছে জেলা পুলিশ।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান বলেন, আমরা সকলকে বারবার বুঝাচ্ছি যে আপনার অকারণে যেনো আপনার পরিবার সহ সমাজের সাধারণ মানুষ ঝুঁকিতে না পরেন আপনার কারনে। সকলকে বাড়িতে থাকতে বলছি। কারো একান্ত প্রয়োজন হলে তিনি হেটে গন্তব্যে যাবেন।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে সকাল থেকে রাত অবধি শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে দিনরাত কাজ করে চলছেন পুলিম সদস্যরা। এসময় শহরের সড়কদিয়ে যারা অযাচিত চলাফেরা করছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদসহ নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। এমনকি অনেক যানবাহনকে ট্রাফিক আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম বলেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে শহরের পুলিশের ৩০টি টিম সক্রিয় ভাবে সড়ক গুলোতে অবস্থান নিয়েছে। কোন ভাবেই একাধিক মানুষ অযাচিত চলাফেরা করতে না পারে সে বিষয়ে কাজ করছি।

তিনি বলেন জেলা পুলিশ সুপারের মহোদয়ের নির্দেশে দিনের সাথে সমান তালে রাতেও আমরা ডিউটি পালন করে চলছি। যাতে কোন ভাবে এই মহামারি প্রাদুর্ভাব বিস্তার না করতে পারে এ জেলায়। 


Post Top Ad

Responsive Ads Here