নিজেকে করোনা রোগী দাবি করে বাঁচার আকুতি জানিয়ে জাতীয় সেবার নম্বরগুলোতে কল করত সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্র। তার নমুনা ও চিকিৎসার জন্য খোঁজ নিতে গেলেই পাওয়া যেত ভুল ঠিকানা। এভাবে ১৫ দিনে ৪৭৩ বার কল করে পুলিশ ও প্রশাসনকে হয়রানি করা স্কুলছাত্রকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় নাটোর সদরের লক্ষীপুর টলটলিয়া পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক সুমন মিয়া ওই পাড়ার মবিনুর মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আটকের পর তার শরীরে করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ পাওয়া যায়নি।
নাটোরের এসপি লিটন কুমার সাহা জানান, আটক স্কুলছাত্র ৬ এপ্রিল থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি টোল ফ্রি ৩৩৩ নম্বরে ৩১৬ বার ফোন করেছে। আবার ১৬২৬৩ নম্বরে ৬৩ বার ফোন করে। তারপর ১০৬৫৫ নম্বরে ৪০ বার, ১০৯ নম্বরে ৩১ বার ও ৯৯৯ নম্বরে ২৩ বার কল করে।
ফোনে নিজেকে শহরের আলাইপুর মহল্লার বাসিন্দা আব্দুল করিম বলে জানায়। রাজশাহী মেডিকেল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পালিয়ে আসার পর তার শ্বাসকষ্ট বেড়েছে। তাই জরুরি চিকিৎসার অনুরোধ করলে দ্রুত জেলা পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে যোগাযোগের চেষ্টা করে।
তবে উদ্ধারকারী দল চার বার তার দেয়া সঠিক নাম ও ঠিকানা পায়নি। তাই তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত হলে ভুয়া ঠিকানা বলার বিষয়টি খোলাসা হয়। সে ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশ ও প্রশাসনকে হয়রানি করছিল। পরে নাটোরের অতিরিক্ত এসপি (সদর সার্কেল) আবুল হাসনাতের নেতৃত্বে মোবাইল ফোনসহ তাকে আটক করা হয়।
এসপি আরো জানান, হয়রানি ও নিজে মজা নেয়ার লক্ষ্যে মিথ্যা তথ্য দিত সে। এসআই শামসুজ্জোহা বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সময়/জেলা/রাজ

