সময় সংবাদ ডেস্ক//
চার সন্তান ফেলে বাবা আরেক বিয়ে করে ছাড়েন পরিবার। মা শুরু করেন উপার্জন। কষ্টের জমানো টাকা দিয়ে বড় ছেলেকে পাঠান বিদেশে। এরপর থেকে বড় ছেলেই সংসারের দায়িত্ব সামলান। তিন বছর আগে লেবাননে যাওয়া মিজানুর রহমান বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে এখন লাশ।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে জোড়া বিস্ফোরণে নিহত চার বাংলাদেশিদের মধ্যে একজন তিনি। ২৭ বছরের মিজানুর সেখানে একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন।
জানা গেছে, মিজানুরের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার শিকারমঙ্গল ইউপিতে। চার ভাই-বোনের মধ্যে বড় তিনি।
নিহতের ছোট ভাই আব্দুর রহমান বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বড় ভাই আমার অভিভাবকের মতো ছিলেন। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে পরিবার ছেড়ে যাওয়ার পর আর খোঁজ-খবর নিতেন না। এখন বড় ভাইও চলে গেল।
তিনি আরো বলেন, আমার মায়ের দুটো কিডনিই প্রায় অকেজো। চলতে পারেন না, চোখেও দেখতে পান না। অসুস্থ মায়ের ওষুধ, পরিবারের খরচ, আমার ছোট ভাইয়ের পড়ালেখার খরচ সবই বড় ভাই চালাত। তার আড়াই বছর বয়সী মেয়েটার এখন কি হবে?
এদিকে বৈরুতের বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত অন্য বাংলাদেশিরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেহেদি হাসান ও রাসেল মিয়া, কুমিল্লার রেজাউল।
গত মঙ্গলবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতের সমুদ্র বন্দরের ১২ নম্বরে হ্যাঙ্গারে রাখা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। এতে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪ হাজারের বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও স্থাপনা।

