হবিগঞ্জ থেকে নিখোঁজ খোকন হত্যাকান্ডে প্রেমিকাসহ ৩ জন আটক - SHOMOYSANGBAD.COM

শিরোনাম

Monday, April 19, 2021

হবিগঞ্জ থেকে নিখোঁজ খোকন হত্যাকান্ডে প্রেমিকাসহ ৩ জন আটক



হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ


হবিগঞ্জ থেকে নিখোঁজের ১০ দিন পর আইয়ুবুর রহমান খোকন নামে হবিগঞ্জ আলীয়া মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর ছাত্রের লাশের সন্ধান নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পাওয়া গেছে। তবে অজ্ঞাত লাশ হিসেবে সেখানে দাফন করা হয়েছে। 

এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত নিহতের প্রেমিকাসহ ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার করেছে বলে স্বীকার করেছে। 


নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, হবিগঞ্জ শহরতলীর দক্ষিণ তেঘরিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের পুত্র আইয়ূবুর রহমান খোকন (১৮) ১০ দিন পূর্বে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে সন্ধান পাননি। 

গত শনিবার বিকেলে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ছোট বহুলা গ্রামের ফারজানা আক্তার নামের এক যুবতী নিহত খোকনের পাশ্ববর্তী বাড়ির এক ছেলের কাছে ফোনে জানায়, খোকনকে নারায়ণগঞ্জে খুন করা হয়েছে। ওই যুব এ বিষয়টি খোকনের বাবা আব্দল হেকিমকে অবগত করেন। গতকাল দুপুরে নিহত খোকনের বাবা এ বিষয়টি অবগত করার জন্য হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় যান। থানায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করার পরও পুলিশের কোন ধরণের সাড়া পাননি তিনি। পরে তিনি হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যার কাছে যান। সেখানে গিয়ে তিনি তার ছেলে নিখোঁজের বিষয়টি পুলিশ সুপারকে অবগত করেন। এবং হত্যার সংবাদটিও পুলিশ সুপারকে জানান। তাৎক্ষণিক পুলিশ সুপার ওমাহাম্মদ উলল্যার’র নির্দেশে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ডিবি অফিসার ইনচার্জ আল-আমিনকে নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ সুপার নিজেই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবগত করেন। নায়ারাগঞ্জ থেকে পুলিশ সুপারকে জানানো হয় ১২ এপ্রিল রূপগঞ্জের এক ভাড়াটিয়া বাসা থেকে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয়েছে। পুলিশ সুপার নারায়নগঞ্জে লাশ দাফনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ডিবি’র ওসি আল-আমিন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ছোট বহুলা গ্রামে অভিযানে পাঠান। ছোট বহুলা গ্রামে পুলিশ প্রথমে ফারজানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ফারজানা জানান, একই গ্রামের শাবনুরের কাছ থেকে তিনি খোকন খুন হওয়ার বিষয়টি জেনেছেন। পরবর্তীতে পুলিশ শাবনুরকে গ্রেফতার করে। শাবনুরের স্বীকারোক্তিতে তার বান্দবী শহরতলীর সুলতান মামদপুরের ভাড়াটে বানিয়াচঙ্গের শান্তিপুরের আব্দুল মালেকের কন্যা সাবিনাকে (১৪) ও হবিগঞ্জ পৌর সভার পোদ্দার বাড়ি এলাকার সোহেল মিয়ার পুত্র সুমন (১৮) কে গ্রেফতার করা হয়।

পলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, খোকনের সাথে শাবনুরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আর সাবিনা আক্তারের সাথে সুমনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা কয়েক দিন পূর্বে এক সাথে ৪জন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গিয়ে স্বামী স্ত্রী পরিচয় দিয়ে একটি বাসা ভাড়া নেয়। এর মধ্যে সাবিনা উপর কুনজর পড়ে খোকনের। খোকন কৌশলে জোর পূর্বক সাবিনার দৈহিক সম্পর্ক করে। এ বিষয়টি সাবিনা জানায় শাবনুর ও সোহেলকে। এরপর তারা ৩জন বিশ্বাস ঘাতকতার অপরাধে খোকনকে দুনিয়া থেকে শেষ করে দেয়ার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা প্রথমে নুডসর সাথে ঔষধ মিশিয়ে খোকনকে খাইয়ে অজ্ঞান করে। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

ডিবি’র ওসি আল-আমিন জানান, আটককৃত নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। তারা ৩ জনেই বয়স ১৮ চেয়ে কম। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার জানান, নিহতের পিতা কাছ থেকে বিষয়টি অবগত হওয়ার পরই এর রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেই। নির্দেশনা মোতাবেক কয়েক ২/৩ ঘন্টা কাজ করে পুলিশ এর রহস্য উদঘাটন করে। খোকন হত্যার ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। রাতেই রূপগঞ্জ থানা পুলিশ তাদের হবিগঞ্জ থেকে নিয়ে যাবে।





No comments:

Post a Comment