শায়েস্তাগঞ্জে বোনের কারসাজির শিকার আপন ভাই শামীম - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৩, ২০২১

শায়েস্তাগঞ্জে বোনের কারসাজির শিকার আপন ভাই শামীম

ফাইল ছবি 


হবিগঞ্জ প্রতিনিধি


হবিগঞ্জের‌শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় মা-বড়ো ছোট বোনেরা আজিজুল এর সরলতার সুযোগে নিরীহ এক ভাই এখন মাতা-পিতার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত। কেন এই 

বিষয়টি নিয়ে তিনি ঘুরছেন 

স্থানীয় সমাজপতিদের দ্বারে-দ্বারে। 

পাশাপাশি হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত আবেদনও করেছেন। এ অবস্থায় সচেতনমহল, মানবাধিকার কর্মী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তিনি।

অভিযোগে প্রকাশ, শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকার পূর্ব লেঞ্জাপাড়ার মৃত হাজী ফুল মিয়ার পুত্র মোঃ শামীম আহমেদ প্রায় ২০ বছর পূর্বে নিজের উপার্জিত টাকায় জীবিকার সন্ধানে সৌদী আরব গমন করেন। সেখানকার জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজে মোটা অংকের বেতনে স্ব-স্ত্রীক শিক্ষকতার চাকুরী লাভ করেন। প্রায় ১৯ বছর চাকুরীরত অবস্থায় ভাই, বোন ও পিতা-মাতার ভরন-পোষণের জন্য দেশে প্রায় ১ কোটি টাকা প্রেরণ করেন তিনি। প্রবাস জীবনের অর্জিত সকল টাকাই ইসলামি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলে পিতা-মাতার কাছে প্রেরণ করেন। যার অধিকাংশের প্রমান সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে দাপ্তরিকভাবে সংরক্ষিত আছে। প্রবাস জীবনে তিনি বোন ফাহিমা জাহান ও সালমা জাহানকে পড়াশোনা, বিয়ে ও ভাই ইনজামামুল হক নাইমকে বিদেশে নিয়ে পড়াশোনা করান। শুধু তাই নয়, পিতা হাজী ফুল মিয়াকে দুইবার, মাতা রাশেদা বেগম ও নানী সিদ্দিকা খাতুনকে পবিত্র হজ্বব্রত পালন করান। 

২০১৮ সালে সৌদী আরবে দূর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রায় শূন্যহাতে দেশে ফিরেন তিনি। নিজের উপার্জিত টাকায় কেনা এক খন্ড ভিটে-মাটি ছাড়া বর্তমানে তার আর কোন স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ নেই। নেই কোন আয়ের উৎস। 

বর্তমানে তার পিতা বেঁচে নেই। এ সুযোগে অপর বোন নাসিমা আক্তার মা রাশেদা বেগমকে ভুল বুঝিয়ে মাতা-পিতার প্রায় কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি নিজের ও অপর বোন-ভাইদের নামে লিখে নিয়েছে। 

এ অবস্থায় পিতা ও মাতার সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শামীম আহমেদ। বিষয়টি নিয়ে তিনি স্থানীয় সমাজপতিদের দ্বারে-দ্বারে ঘুরলেও কোন সুরাহা হয়নি। পরে তিনি হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত একটি মানবিক আবেদন করেন।

শামীম আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছোট বোন নাসিমা আক্তার পড়াশোনা করারত অবস্থায় গোপনে বিয়ে করে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়। স্বাভাবিক কারনে বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারিনি। যে কারনে আমার সাথে তার দূরত্ব তৈরি হয়। ফলে সে প্রতিহিংসাবশতঃ মাকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করায়। ওইসব মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আমি নিস্কৃতি পাই। তবে সে মাকে প্রভাবিত করে ছলে-বলে কৌশলে আমাকে পিতা-মাতার ভিটে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে। তারপরও ক্ষান্ত হয়নি সে। পরবর্তীতে আমাকে বঞ্চিত করার হীন উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মায়ের প্রায় ১০০ শতক ভূমি নিজের নামে ও অন্যান্য ভাই বোনদের নামে লিখে নেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রবাসে থাকাবস্থায় ভিটে-বাড়ির জন্য একখন্ড জমি ক্রয় করতে মা-বাবার কাছে টাকা পাঠাই। তখন আমার বড় ভাই সেলিম আহমদ ও নাঈম আহমদের কাছ থেকে ৩ শতক ভূমি আমার নামে ক্রয় করা হয়। কিন্তু দখল বুঝিয়ে দেয়া হলেও বোন নাসিমার ষড়যন্ত্রে আজও পর্যন্ত ওই ভূমির একাংশের রেজিস্ট্রি দলিল করে দেয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, আমার বোন ফাহিমার বিয়ে বাবত খরচ করা টাকার বিনিময়ে আমাকে আমার মায়ের সম্পত্তি থেকে ২৬ শতক জায়গা দেয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা দেয়া হয়নি। বর্তমানে আমার নিজের উপার্জিত টাকায় কেনা ভিটে-বাড়ি ছাড়া আর কোন সম্পদ নেই। নেই অন্য কোন আয়ের উৎস। প্রবাস জীবনে উপার্জিত সকল টাকাই আমি মাতা-পিতা ও ভাই-বোনদের ভরণ পোষণে ব্যয় করেছি। এ অবস্থায় আমি আমার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছি। অতি মানবিক কারনে আমার পিতা-মাতার সম্পত্তির ন্যায্য অংশ পেতে সচেতনমহল, মানবাধিকার কর্মী ও প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

Post Top Ad

Responsive Ads Here