ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী:
সারদেশের ন্যায় সরকারী ঘোষনায় লকডাউনে ১ জনের জন্য প্রণোদনা প্রাপ্তি ৪৫০ টাকা। একজন দিনমজুরের সকাল ৮টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অন্যের প্রয়োজনে কাজ করছে বিনিময়ে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা দৈন্দিন আয় করছে। যা থেকে তার পরিবারের এক দিনের খাবারের ব্যবস্থাসহ কিছু সঞ্চয় হচ্ছে। বর্তমান সরকারের অপরিকল্পিত সিন্ধান্ত বাস্তবায়নে দিনমজুর, নিন্মবৃত্ত ও মধ্যবৃত্ত পরিবারের পেটে ক্ষুদা কিন্ত চোখে লজ্জা, এমনটাই মন্তব্য করেছে বিভিন্ন সমাজের মানুষ।
জনগনের ট্যাক্স ভ্যাট থেকে আয়ের উৎস এই প্রণোদনার অর্থ। একটি নিন্মবৃত্ত বা দিন মজুরের পরিবারের অভিভাবকের পরিকল্পনায় সরকারী এই বরাদ্দ অপরিকল্পিত। দেশ ও জনগনের সংকটময় সময়ে সরকার যে কোন সিন্ধান্ত নেয়া সাংবিধানিক অধিকার। তবে জাতিকে ধ্বংস করে নই। জাতির সুরক্ষা না থাকলে দেশের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে অনেক।
করোনার ২য় বারের ছোঁবলের কারণে দেশের ৬৪ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে লকডাউন চলমান রয়েছে। যার কারণে প্রত্যেক শ্রেনীর পেশা মানুষের আয়ের চাকা থমকে গেছে। সরকারী নির্দেশে সকল প্রকার সরকারী ও বেসরকারী কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। করোনা মোকাবেলায় সরকার প্রধানের এমন সিন্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। তবে লাগাতার লকডাউনে একটি পরিবারের প্রয়োজনিয় খাদ্যের অভাব মেটাবে কে এমন প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের আলোচনায়।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম গঞ্জের সাধারন মানুষের সাথে আলোচনায় নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সংবাদ সংগ্রহ করে বিভিন্ন ভঙ্গিতে সকল মানুষের কাছে পরিবেশন করছে গনমাধ্যম কর্মীরা। কিন্ত প্রকৃত কথা কেউ বলছে না। আদৌ এদেশের মানুষ কোন গ্রহে বসবাস করছে তানিয়েও প্রশ্ন উঠে। অন্যথায় চরম সভ্যতার যুগে একটি পরিবারের লকডাউনের প্রণোদনা ৪৫০ টাকা দিয়ে কার প্রয়োজন মেটাবে সরকার।
সম্প্রতী, রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য মতে লকডাউনের প্রণোদনার বরাদ্দ ৯ কোটি টাকা। যার অংশ বিশেষ জেলার ৯টি উপজেলা ও ১২টি পৌরসভায় বন্টন করে দেয়া হয়েছে। বর্তমান প্রণোদনার প্রাপ্তির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। যার প্রমান স্বরূপ চারঘাট ও বাঘা উপজেলা ও পৌর সভার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএম শামিম হোসেন জানান, বাঘা উপজেলায় ৮ হাজার ৮০০ জনকে ৪৫০ টাকা করে ভিজি এফ অর্থ প্রণোদনা দেয়া হবে, দুটি পৌরসভায় ৭ হাজার ৭০২ জনকে ৪৫০ টাকা, একইভাবে চারঘাট উপজেলায় ১৪হাজার ৩৪৭জনকে ৪৫০ এবং পৌরসভার ৪ হাজার ৬২১জনকে ৪৫০ টাকা করে দেয়া হবে। এই ধারাবাহিকতায় পবা, মোহনপুর, তানোর, গোদাগাড়ি, বাগমাড়া, দূর্গাপুর এবং পুঠিয়া উপজেলা ও পৌরসভায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
সরকার জনগন ও দেশের সার্বিক চিন্ত বা উন্নতি করনের কাজ করে যাচ্ছে তা প্রমান বহন করছে। কিন্ত অপরিকল্পি অনেক সিন্ধান্ত সরকারের কার্যকলাপকে প্রশ্ন বিদ্ধ করছে। অথচ মালোশিয়ার লকডাউনের চিত্র নিয়ে আলোচনা করলে দেখা যায়, এদশের চেয়ে অনেক কঠোর লকডাউন দেয়া হয় বা হচ্ছে। কিন্ত ওই দেশের সরকার দিন হিসাব করে সার্বিক প্রয়োজনিয় রশদ ও অন্যান্য দ্রব্যাদি প্রত্যেকের বাড়িতে পৌছে দিচ্ছে মালোশিয়ান সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এছাড়া পরবর্তিতে রূটিন মাফিক প্রত্যেকের প্রয়োজনের তালিকাও লিপি বদ্ধ করা হয়। এদেশ অন্য দেশের অনুকরন করবে এবং উন্নয়নের গল্প বলবে, তবে বাস্তবায়ন কেন অভাব হচ্ছে এমনটাই বক্তব্য আলোচনায় উঠে এসেছে। জনগনের ট্যাক্স ও ভ্যাটের টাকায় সকল এমপি মন্ত্রী, সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চিন্তা মুক্ত জীবন যাপন করছে। অথচ সংকটময় সময়ে সাধারন মানুষের পাশে এক মুঠো মুড়ি ছিটিয়ে ভাতের অনুভতি নিতে বাধ্য করছে সরকার। কিন্ত বঙ্গবন্ধুর আর্দশে কখন এমন আচঁর পরেনি। সর্বদা তিনি দেশ ও জনগনের একটু ভাল থাকার জন্য নিরলস কাজ করে গেছেন।

