সময় সংবাদ ডেস্কঃ
রাজধানীর পল্লবীতে প্রকাশ্যে সন্তানের সামনে সাহিনউদ্দিন (৩৩) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগের মামলায় সাবেক এমপি এম এ আউয়ালসহ তিনজনের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শুক্রবার ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসীর আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রিমান্ড মঞ্জুরকৃত অপর আসামিরা হলেন-জহিরুল ইসলাম বাবু ও হাসান।
এদিন আসামি আউয়ালসহ আসামিদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তিন আসামির ১০ দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তিনজনের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার এ মামলায় ভৈরব এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি ও ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়ালকে গ্রেফতার করে র্যাব।
এর আগে একই দিনআসামি মো. সুমন বেপারী ও মো. রকি তালুকদারকে আদালতে হাজির করা হয়। একই সঙ্গে দুই দিনের রিমান্ড শেষে আসামি মুরাদকে আদালতে আনা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সুমন ও রকির ১০ দিন এবং মুরাদের সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সুমন ও রকির পাঁচদিন এবং মুরাদের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ১৬ মে হত্যাকাণ্ডের পর ওই রাতেই নিহতের মা আকলিমা বেগম বাদী হয়ে পল্লবী থানায় আউয়ালসহ ২০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর মামলাটি ডিবি পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সুমন, মো. আবু তাহের, মুরাদ, মানিক, মনির, শফিক, টিটু, কামরুল, কিবরিয়া, দিপু, আবদুর রাজ্জাক, মরন আলী, লিটন, আবুল, বাইট্যা বাবু, বড় শফিক, কালু ওরফে কালা বাবু, নাটা সুমন ও ইয়াবা বাবু।
মামলার এজাহারে আকলিমা বেগম উল্লেখ করেন, গত ১৬ মে বিকেল ৪টার দিকে সাহিনুদ্দিনকে জমির বিরোধ মেটানো হবে জানিয়ে ফোন করে ডেকে নেন সুমন ও টিটু নামের দুই যুবক। সাহিন উদ্দিন মোটরসাইকেলে পল্লবীর ডি-ব্লকের ৩১ নম্বর সড়কের ৪০ নম্বর বাসার সামনে গেলে সুমন ও টিটুসহ ১৪-১৫ জন মিলে তাকে টেনেহিঁচড়ে ওই বাড়ির গ্যারেজে নিয়ে যায়। এ সময় সাহিন উদ্দিনের ছয় বছরের ছেলে মাশরাফি গেটের বাইরে ছিল। গ্যারেজে ঢুকিয়ে তাকে সন্ত্রাসীরা চাপাতি, চায়নিজ কুড়াল, রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এরপর তাকে ওই গ্যারেজ থেকে বের করে ৩৬ নম্বর বাড়ির সামনে আবার কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সাহিনুদ্দিনের মৃত্যু হয়।
নিহতের মায়ের অভিযোগ, পল্লবীর সেকশন-১২ বুড়িরটেকের আলীনগর আবাসিক এলাকার ‘হ্যাভেলি প্রপার্টিজ’ ডেভেলপার লিমিটেডের এমডি এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এম এ আউয়ালের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাড়া করা স্থানীয় সন্ত্রাসীরা সাহিনুদ্দিনকে হত্যা করেছে। আনুমানিক পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের ১০ একর জমি জবরদখলে বাধা দেয়ায় তাঁকে খুন করা হয়েছে। নিহত সাহিনউদ্দিনের বাসা পল্লবীর ডি-ব্লকে।

