রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রব মনা’র বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন একই ইউপি’র মৃত কোকিল প্রামাণিক এর ছেলে ভুক্তভুগী সাঈদ প্রামানিক। রাজবাড়ী ২ নং আমলী আদালতে দঃবিঃ ৩৮৫/১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মনা চেয়ারম্যানকে ১ নং আসামী করে মোট ৯জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী ও এজাহার সূত্রে জানাগেছে, গত ১১ই জুন শুক্রবার রাত আনুমানিক পৌনে ৮ টার সময় বাদীর বাড়ীর অদূরে সন্তোষ মণ্ডলের পুকুর চালায় লোক মারফত ডেকে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে ৪লাখ( চার লাখ) টাকা দাবী করে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা না দিলে মামলার বাদী সীদ প্রামাণিক ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খুন করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি প্রদান করে আসামীরা।
মামলার অন্যান্য আসামীরা হলো- মনা চেয়ারম্যানের সহযোগী মোঃ রবিউল ইসলাম, চেয়ারম্যানের ভাই ডাবলু বিশ্বাস, চাচাতো ভাই গোলাম মোস্তফা, বকুল, ফোরকান বিশ্বাস, অতুল বিশ্বাস, লতিফ শেখ ও সিদ্দিকুর রহমান।
প্রভাবশালী মনা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তার বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। উপরের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে তার এ ক্ষমতার অপব্যাবহার চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
১৬ই জুন বুধবার পাংশার পাট্টা ইউনিয়নের জোনা পাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে খোজ নিইয়ে প্রমান মিলেছে তার কিছু অপকর্মের আর ক্ষমতার অপব্যাবহারের চিত্র।
পাট্টা ইউপি’র জোনা এলাকার শামসু শেখের ছেলে আলিফ শেখ জানান, প্রায় বছর দুই আগে আমি আমার আগের স্ত্রী রেখে পরবর্তীতে ২য় বিয়ে করি । আমার স্ত্রীর সম্মতি কিছুটা ছিলো। এ নিয়ে গ্রাম্য শালীশে জনসম্মুখে মনা চেয়ারম্যান আমাকে অপমান করে। আমার পুরুষাঙ্গে ইট বেধে অত্যাচার করে ,পরে দেড় লাখ টাকা আমাকে জরিমানা করে।
একই এলাকার জয়ধর এর ছেলে কালাম জানান, বিনা কারনে মনা চেয়ারম্যানের নির্দেশে চৌকিদার আমাকে ধরে নিয়ে যায় ইউনিয়ন পরিষদে। কি কারনে নিয়েছে জানিনা। আমাকে আটকে রাখে রুমে। আমার ছেলেরা কান্নাকাটি করতে থাকে । পরে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে আমি ছাড়া পাই। তবে কি কারনে আমাকে আটকে রেখেছিলো আর কি জন্য টাকা নিয়েছিলো আজও তা আমি বলতে পারবো না।
এ বিষয়ে সাক্ষাৎকার নিতে পাট্টা ইউপি চেয়ারম্যান আন্দুর রব মনার সাথে দেখা করতে চাইলে তিনি তিনি সুকৌশলে সাক্ষাৎকার এড়িয়ে যান ।
মামলার বাদী সাঈদ প্রামানিক জানান, আমি সৌদি প্রবাসী ছিলাম। দেড় বছর ধরে আমি এলাকায় এসেছি। এ সময়ের মধ্যে চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমাকে ৪ বার মারধর করা হয়েছে। গত রোজার প্রথম রোজায় আমি রোজা ছিলাম। তখন তারা আমাকে মারধোর করেছে। আমি সরকারের কাছে এর সঠিক বিচার চাই।

