চুরি হওয়া গাড়ির ভাগ্যে কি আছে নির্ধারণ করে তারা ৫ জন - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শনিবার, আগস্ট ২৮, ২০২১

চুরি হওয়া গাড়ির ভাগ্যে কি আছে নির্ধারণ করে তারা ৫ জন


  


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ



প্রথমে চালকদের সঙ্গে ভাব জমিয়ে কিংবা অন্য কোনো কৌশলে গাড়ি চুরি করে একটি চক্র। এরপর গাড়িটির ভাগ্যে কী আছে, তা ঠিক করে তারাই! কখনও টাকার বিনিময়ে তা ফিরে পান গাড়ির মালিক, আবার কখনও শেষ ঠিকানা হয় রাজধানীর ধোলাইখাল। সবমিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়ায় কাজ করে পাঁচটি দল।

শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাড়ি চোরদের এই চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় মোবাইল, চাকু, দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল। উদ্ধার করা হয় বেশ কয়েকটি চোরাই গাড়ি। 


গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আজিম উদ্দিন (৩৮), রফিক উল্লাহ (২৬), সেলিম (৫০), কামরুল হাসান (২৬) এবং ওমর ফারুক (৩৫)।


সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন খান জানান, গত ১১ অগাস্ট রাজধানীর দারুস সালাম এলাকা হতে গাড়ি ছিনতাই চক্রের ৫ জন সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এই চক্রের সন্ধানে অনুসন্ধান শুরু করেন তারা। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ থেকে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এই সংঘবদ্ধ গাড়ি ছিনতাইকারী চক্রে ১৫ থেকে ২০ জন জড়িত। এই চক্রের হোতা আজিম উদ্দিন।




















র‌্যাব বলছে, তারা জানতে পেরেছেন, এসব চোরাই গাড়ি কেনাবেচার সঙ্গে ধোলাইখালের ১৫ থেকে ২০টি দোকান জড়িত। এসব বিষয় খতিয়ে দেখে অভিযান চালানো হবে।


চোরাই গাড়ি যায় ধোলাইখালে। ছবি: সংগৃহীত

চোরাই গাড়ি যায় ধোলাইখালে। ছবি: সংগৃহীত



যে কৌশলে চুরি-ছিনতাই হয় গাড়ি


মূলত ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে গাড়ি চুরি করে চক্রটি। এছাড়া কেরানীগঞ্জ ও গাজীপুরেও সক্রিয় তারা। এখন পর্যন্ত প্রায় শতাধিক গাড়ি চুরি করেছে তারা। চুরির আগে সদস্যরা ছদ্মবেশে গাড়ি সম্পর্কে, চালক-মালিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দল গাড়ি ছিনতাই বা চুরি করে। ক্ষেত্র বিশেষে চালকদের প্রলুব্ধ করে ছিনতাই নাটক সাজানো হয় বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তারা।


র‌্যাব বলছে, চক্রের মূলহোতা আজিমের তিনজন ঘনিষ্ট রয়েছের, যারা চোরাই গাড়ির নকল কাগজপত্র তৈরি, ভূয়া নম্বর প্লেট তৈরি, চোরাই গাড়ি মালিকদের সঙ্গে দাবিকৃত অর্থ আদায়ের সমন্বয় করার দায়িত্ব পালন করেন। চক্রটির এক সদস্য গাজী মেকানিক হওয়ায় তিনি গাড়ির লক খোলা এবং গাড়ি স্টার্ট দিতে সক্ষম। এছাড়া তাদের কাছে এক ধরনের মাস্টার কি থাকে, যে কোনো গাড়ি স্পটেই তারা স্টার্ট করতে পারে।


চক্রের অন্য একটি গ্রুপ চুরি হওয়া গাড়ির মালিকের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। পরবর্তী সময়ে মালিকের সঙ্গে অনিবন্ধিত মোবাইল সিম দিয়ে মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অনেক সময় টাকার বিনিময়ে মালিক গাড়ি ফিরে পান। অনেক সময় টাকা দিয়েও ফেরত পান না।


গাড়ি রূপ পরিবর্তন ও বিক্রি


চোরাই গাড়ি বিভিন্ন ওয়ার্কশপে পাঠায় আরেক দল। ধোলাইখালের ১৫ থেকে ২০টি দোকান রয়েছে তাদের কাজ করে থাকে। সেখানে গাড়ির রং পরিবর্তন করা হয়। ক্ষেত্র বিশেষে গাড়ির যন্ত্রাংশ বিচ্ছিন্ন করা হয়ে থাকে। যা পরবর্তীতে বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। র‌্যাব কর্মকর্তারা বলেন, চোরাই গাড়ি যন্ত্রাংশ এক গাড়িরটা অন্য গাড়িতে লাগানো হয় এবং ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেট দেওয়া হয়, যাতে ধরা না পড়ে।


ভুয়া কাগজপত্র তৈরিতে পঞ্চম দল ভূমিকা রাখে বলে র‌্যাব জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাধারণত পঞ্চম দল বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম যুক্ত করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে থাকে। চক্রের হোতা এই কাজটি করেন। ওই সব গাড়ি পরে বিক্রি বা ভাড়া দেওয়া হয়ে থাকে। কমমূল্য হওয়ার কারণে এই চোরাই বা ছিনতাইকৃত গাড়ির একটি চাহিদা রয়েছে। এই যানবাহনসমূহ মাদক পরিবহনেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

Post Top Ad

Responsive Ads Here