নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মানব সেবা পরম ধর্ম।সবচেয়ে বড় আনন্দ তখন হয়,যখন নিঃস্বার্থ ভাবে কারো মুখে হাসি ফোটানো যায়।সবকিছু থেকে সবচেয়ে বেশী আনন্দ তখনই
পাওয়া যায়,যখন আপনার জন্য কোন মুমূর্ষু রোগী প্রান ফিরে পায় ।
এরই ধারাবাহিকতায় মানব সেবার
লক্ষ্যে উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার
কিছু সাহসী শিক্ষার্থী, ও কিছু তরুণ তরুণী মিলে গড়ে তুলেছে "নবাবগঞ্জ অনলাইন ব্লাড ব্যাংক"।
২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসের ১০ তারিখ যাত্রা শুরু করলেও আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের ২ রা জানুয়ারি। মাত্র অল্প সংখ্যক কিছু সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে এখন তাদের সদস্য সংখ্যা দুই হাজারের বেশি।তিনজন সাহসী তরুণ তরুণী, আবির হাসান,আবদুল্লাহ আল মামুন ও ফারহানা হকের উদ্যেগে গড়ে উঠে এই মানব সেবা কেন্দ্র। নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাড়াও আশে পাশের বিভিন্ন থানা দিনাজপুরজেলা,রংপুর জেলা ও বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় মূমূর্ষ রোগীর সেবায় পৌছে যায় তাদের লাল ভালোবাসা। তাদের সেচ্ছাসেবীরা রাত দিন এক করে স্বার্থ ছাড়ায় ছুটে চলে জীবন বাঁচাতে।তাদের কাজের ধরায় উৎসাহিত হয়ে রক্ত দানে যাদের বয়স হয়েছে তারাও এগিয়ে আসছে, মানুষের জীবন বাঁচাতে।রক্তদানে উপযোগী কিশোর কিশোরীরা ক্লান্তিহীন ভাবে ছুটে চলে জীবন বাঁচিয়ে পরিবার গুলোর মুখে হাসি ফুটাতে।তাদের এই কাজে নিজেদের কোনো স্বার্থ নেই।সম্পূর্ণ মানব কল্যানে।
এই কাজের জন্য যা কিছু ব্যায় হয় সব তারা নিজে থেকেই খরচ করে।তাদের একটি একাউন্ট আছে যেখানে প্রতি মাসে তারা নিজে থেকে তাদের সাধ্য মত কিছু জমা রাখে।তাদের এই কাজের জন্য তারা কারো কাছে কোনো সাহায্য নেয়নি। তাদের কাজের গতি দেখে শিক্ষিত মানুষের ভুল ভেঙেছে, যারা রক্তদানে ভয় পেত, নিজের উপযুক্ত সন্তানকে এখন তারায় রক্ত দিয়ে রোগীর জীবন বাঁচতে নিয়ে যায়।
গ্রাম বাংলায় প্রবাদ আছে,ভালো কাজ কিছু মানুষের সহ্য হয়না।নিঃস্বার্থ এই কাজেও একই বিষয় ঘটেছে।কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থের জন্য তাদের এই প্রতিষ্ঠানটি ভেঙ্গে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল,কিন্তু পেরে উঠেনি। "নবাবগঞ্জ অনলাইন ব্লাড ব্যাংক" সব বাধা ডিঙিয়ে মুমূর্ষু রোগীর প্রাণের টানে,এগিয়ে আসুন রক্ত দানে"এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তাদের নিজের গতিতে।
নবাবগঞ্জ অনলাইন ব্লাড ব্যাংক সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।

