জেলা প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইল জেলায় অপারেশন কোভিড শিল্ডের (পর্ব-২) আওতায় সেনাবাহিনী পরিচালিত টহল কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, ওএসপি, এনডিইউ, পিএসসি।
মঙ্গলবার কর্তব্যরত সেনাসদস্যদের টহল কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে সেনাবাহিনী প্রধান কর্তব্যরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সেনাসদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
সেনাবাহিনী প্রধান কোভিড-১৯ মোকাবিলায় টাঙ্গাইল জেলায় সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহের ভূমিকা ও কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
তিনি চলমান করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট সংকটময় পরিস্থিতিতে সবাইকে সরকার প্রদত্ত বিধিনিষেধ যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কোভিড-১৯ মহামারিসহ যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের দিকনির্দেশনায় অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ১৯ পদাতিক ডিভিশন এবং এরিয়া কমান্ডার (ঘাটাইল এরিয়া) মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেনসহ সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং উক্ত এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ৯৮ সংমিশ্রিত ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম আসাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।
টহল পরিদর্শন ছাড়াও ময়মনসিংহে সদর দফতর আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড এবং টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯ পদাতিক ডিভিশন পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান। ১৯ পদাতিক ডিভিশনে তিনি সব পদবীর উদ্দেশ্যে দরবারে বক্তব্য প্রদান করেন এবং অফিসারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ রোধে অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তার উদ্দেশ্যে ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন জেলাসমূহে মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যগণ নিয়মিত টহল পরিচালনা করছে। টহল পরিচালনার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী করোনা মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দুঃস্থ পরিবারদের মাঝে নিজ উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছে এবং বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা সহায়তা ও ওষুধ প্রদান করছে।
করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জারি রেখেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মৌলিক দায়িত্ব পালনে সব সেনাসদস্যদের উৎকর্ষতা অর্জনের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে সেনাবাহিনী প্রধান বিভিন্ন ফরমেশনসমূহে নিয়ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণের ছয়খণ্ড মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার তিনজনের মধ্যে আসামি রবিউল ইসলাম রবি ও মো. আ. রহিম বাদশা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ঢাকার দুই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ জবানবন্দি রেকর্ড করেন। একই সঙ্গে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আশরাফ উজজামান অপর আসামি মো. আবু মোতালেবের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিন তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় আসামি রবিউল ইসলাম রবি ও মো. আ. রহিম বাদশা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব হাসান আসামি রবিউল ইসলাম রবির এবং ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান শিকদার আসামি রহিম বাদশার জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অপর আসামি আবু মোতালেবের সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে রোববার মধ্যরাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ঢাকার আব্দুল্লাহপুর, আশুলিয়া এবং গাইবান্ধা থেকে তাদের গ্রেফতার করে র্যাব। এরপর তাদের নিয়ে সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও তৎসংলগ্ন এলাকা এবং আশকোনায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। এসময় রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকা থেকে ভুক্তভোগীর দেহের পাঁচটি খণ্ডিত অংশ এবং পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শাবল ও জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়।মিত প্রশিক্ষণ পরিদর্শন অব্যাহত রেখেছেন।

