জেলা প্রতিনিধিঃ
ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে খুন গুম, সন্ত্রাস অপহরণ মাদকদ্রব্য পাচার, সাগরে জলদস্যুতাসহ রোহিঙ্গাদের নানা অপকর্মে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন কক্সবাজারের স্থানীয়রা। এমনকি রোহিঙ্গা অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণের ফলে অপরাধের মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কক্সবাজার পুলিশ প্রশাসন বলছে, আগস্ট ২০১৭ থেকে মে ২০২১ এর মধ্যে ৯৮ হাজার রোহিঙ্গাকে ক্যাম্প থেকে পালানোর সময় গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া এ সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৩ হাজার রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ বলছে, নানা অপরাধে আগস্ট ২০১৭ থেকে আগস্ট ২০২১ পর্যন্ত ২ হাজার ৬৬৪ জন রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে ১ হাজার ৭২৫টি মামলা হয় কক্সবাজারের বিভিন্ন থানায়। এছাড়া এ সময়ে নারীসহ ১৩৩ জন রোহিঙ্গা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো কক্সবাজার অঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ভাষাগত ও শারীরিক গঠনে মিল থাকায় ক্যাম্পের বাইরে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তারা মিশে যাচ্ছে। যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ মিশে যাওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বড় ধরনের একটি সংকট স্থায়ী হয়ে পড়বে।
সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে প্রতিদিন ১৩০ জন রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম নিচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিদিন রোহিঙ্গা সংখ্যা বাড়ছে। তার মানে মিয়ানমার প্রতি মাসে ৫ হাজার রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিলেও রোহিঙ্গার সংখ্যা ক্যাম্পে সমান থাকবে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে অধিক শিশু জন্মদানের প্রবণতা রয়েছে। কারণ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে তাদের মধ্যে ট্যাবু ধারণা রয়েছে। এছাড়া পরিবারের সদস্য সংখ্যার উপর নির্ভর করে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দেয়ার একটা পদ্ধতি রয়েছে। ফলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা, স্থানীয়দের সঙ্গে শরণার্থীদের মিশে যাওয়ার পাশাপাশি অধিক রোহিঙ্গা জন্মদানও একটা সংকট হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
