খাবারের সন্ধানে থানায় এক বাবা - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

মঙ্গলবার, অক্টোবর ০৫, ২০২১

খাবারের সন্ধানে থানায় এক বাবা


 


জেলা প্রতিনিধিঃ



বাবা মানে বটবৃক্ষের ছায়া। বাবা মানে নির্ভরতা। অনেক দম্পত্তি সন্তানের মুখ দেখার জন্য বছরের পর বছর তপস্যা করে থাকেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে কারো নিজের সন্তানের মুখ দেখার সৌভাগ্য হয়। আবার কেউ সন্তান দত্তক নেন। সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের ভালোবাসা আজীবন। তবে মুদ্রার উল্টা পিঠও আছে।

বাবা-মা নিজেরা খেয়ে না খেয়ে বুকে-পিঠে সন্তানকে লালন-পালন করেন। কিন্তু এক সময় সে সন্তানই মুখ ফিরিয়ে নেন। একমুঠো খাবারের আশায় সন্তানের বিরুদ্ধে থানা ও আদালত পর্যন্ত যেতে হয় বাবা-মাকে। এমনই ঘটনা ঘটেছে নওগাঁর নিয়ামতপুরে।


শুধু দুমুঠো ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার আশায় ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ৮০ বছর বয়সী ময়েজ উদ্দীন। তিনি উপজেলার পাঁড়ইল ইউনিয়নের দিঘীপাড়া (পশ্চিম পাহাড়) গ্রামের বাসিন্দা। বার্ধক্যজনিত কারণে বর্তমানে তিনি কর্মহীনিন। সোমবার বিকেলে নিয়ামতপুর থানায় ৩৫ বছর বয়সী ছেলে মুনছের আলী ও পুত্রবধূ সুলতানা বেগমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।


অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ময়েজ উদ্দীনের স্ত্রী অনেক আগেই মারা গেছেন। তার ছেলে কৃষিকাজ করে সংসার চালান। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর নিজেই রান্না করে খেতেন। কিন্তু বার্ধক্যজনিত কারণে বর্তমানে তিনি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। একমাত্র ছেলে ভরণপোষণ দেন না। বেঁচে থাকার তাগিদে নিজেই রান্না করে খান। রান্না না করতে পারলে না খেয়ে থাকতে হয়।


স্থানীয় তাইজুল ইসলামসহ কয়েকজন জানান, বাবার প্রতি খুবই উদাসীন ছেলে মুনছের আলী। কোনো খোঁজখবর রাখে না। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মাঝেমধ্যেই বাবার সঙ্গে তুমুল ঝগড়া করে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেশীরা একাধিকবার মুনছেরকে বোঝানোর পরও কোনো প্রতিকার হয়নি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে ভরণপোষণের দাবিতে ছেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন বৃদ্ধ।


ভুক্তভোগী ময়েজ উদ্দীন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একা রান্না করে খাই। বয়সের ভারে এখন তেমন কিছুই করতে পারি না। অসুখ-বিসুখ প্রায়ই লেগে থাকে। কর্মক্ষম ছেলে থাকার পরও ভরণপোষণ বন্ধ করে দিয়েছে। পুত্রবধূর প্রতি কিছুটা ভরসা করলেও সেও ছেলের মতোই আচরণ করে। যেদিন শরীর খুব খারাপ থাকে রান্না করতে পারি না। প্রতিবেশীর কিছু দিলে খাই। সব মিলিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে এখন। শুনেছি সরকার নাকি বৃদ্ধ বাবা-মায়েন ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে আইন করেছে। সেই ভরসায় শুধু দুমুঠো ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার আশায় অভিযোগ করেছি।


ছেলে মুনছের আলী বলেন, বাবার বয়স হয়েছে। সব সময় হয়তো তার চাহিদা পূরণ করতে পারি না। বাবা যে অভিযোগ করেছেন তা ঠিক না।


নিয়ামতপুর থানার ওসি হুমায়ন কবীর বৃদ্ধার অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Post Top Ad

Responsive Ads Here