জেলা প্রতিনিধিঃ
মেয়ে আর ভাগ্নিকে নিয়ে মোটরসাইকেলে গ্রামে যাচ্ছিলেন আরিফুর রহমান। পথে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান তারা। এরপর মুহূর্তেই মেয়ে ও ভাগ্নির প্রাণ কেড়ে নেয় দ্রুতগতির একটি ট্রাক। দুই মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায় পরিবার। এ যেন হঠাৎ ঝড় নেমে এলো। স্বজনদের বিলাপ আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাতাস।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুর-রামগঞ্জ সড়কের সদর উপজেলার পালেরহাট এলাকায়। এ ঘটনায় আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধরা। পরে অবরোধ তুলে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন- জেলার রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের মধ্য কেরোয়া গ্রামের বাসিন্দা আরিফুর রহমানের মেয়ে সানজিদা ও আলমগীর হোসেনের মেয়ে ফাহমিদা। এর মধ্যে সানজিদা লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ও ফাহমিদা ঢাকার সেগুনবাগিচা গার্লস হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। তারা সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো বোন।
স্থানীয়রা জানায়, পরিবার নিয়ে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে ভাড়া বাসায় থাকেন আরিফুর রহমান। সকালে মেয়ে সানজিদা ও ভাগ্নি ফাহমিদাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে কেরোয়া গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন তিনি। পালেরহাট এলাকায় পৌঁছালে তারা দুজন মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। এ সময় রামগঞ্জ থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সানজিদা ও ফাহমিদা নিহত হন।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার এসআই আবদুল হান্নান বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধ তুলে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুজনকেই দাফনের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
