জেলা প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের ফুলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদ মাতুব্বরের আর এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না। রোববার তার পরীক্ষার হলে থাকার কথা ছিল, কিন্তু তিনি লাশ হয়ে গেলেন মর্গে। শনিবার রহস্যজনকভাবে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ বলছে তিনি বিষপান করেছেন আর পরিবার বলছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
আসাদ মাতুব্বর একই উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের বিষ্ণুদী গ্রামের আবুল কালাম মাতুব্বরের ছেলে। গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একটি বিষয়ে ফেল করেন। এবার সে ওই বিষয়ে রেফার্ড পরীক্ষার্থী ছিলেন।
জানা গেছে, শনিবার সকালে বাড়ির পাশে ক্ষেত থেকে ধান কেটে ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন আসাদ। তাকে প্রথমে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। এরপর তাকে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসক। ফরিদপুরে আনার পথে সশা গ্রামের ব্রিজের কাছে পৌঁছানোর পর তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, পরিবারের লোকেরা আসাদের মৃত্যুকে স্ট্রোকজনিত কারণ বলে লাশ বাড়িতে নিয়ে দাফনের সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে, সালথা থানার পুলিশ খবর পেয়ে শনিবার রাত ৮টার দিকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আসাদের মৃত্যুর পর প্রতিবেশীদের একটি পক্ষের মাঝে কানাঘুষা চলতে থাকে। তাদের ভাষ্য, সকালে ক্ষেতে যাওয়ার আগেই বিষ খায় আসাদ। এরপর ক্ষেত থেকে ফিরলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারা বলছে, আসাদ অপমান ও অভিমানে বিষ খেয়েছেন। ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে বল্লভদী ইউপি নির্বাচনে তার সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয়ের পর বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের উল্লাসে তার বাধা দেওয়ার কারণ।
তারা জানান, বৃহস্পতিবার ইউপি নির্বাচনে আসাদ ছিল বিষ্ণুদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা প্রতীক নুরুল ইসলামের পোলিং এজেন্ট। এ নির্বাচনে ২২ ভোটে হেরে যান নুরুল ইসলাম। পরের দিন আনারস প্রতীকে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী খন্দকার শাহিনের সমর্থকেরা বিজয় মিছিল বের করে আসাদের বাড়ির পাশের স্কুল মাঠে উল্লাস করতে থাকে। আসাদ তাদের পরীক্ষার সময় এমন হৈচৈ না করার অনুরোধ জানালে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও একপর্যায়ে গালিগালাজ করে। এতে ক্ষুব্ধ আসাদ পরেরদিন সকালে অভিমানে বিষ খায়।
তবে এ কথা অস্বীকার করে আসাদের বোন আম্বিয়া বেগম বলেন, আসাদের আগে থেকেই হৃদরোগের সমস্যা ছিলো। শনিবার সকালে সে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। আসাদ বিষ খায়নি জানিয়ে তিনি তার ভাইয়ের লাশটি কাটাছেঁড়া না করার অনুরোধ করেছিলেন।
আম্বিয়া বলেন, পুলিশের হাতেপায়ে ধরেছি লাশটি কাটাছেঁড়া না করার জন্য। তবু তারা শোনেনি। আমাদের কথা শোনার কেউ নেই।
এ বিষয়ে জানতে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কিছু বলেননি। একপর্যায়ে তিনি মোবাইল বন্ধ করে দেন।
সালথা থানার ওসি মো. আশিকুজ্জামান বলেন, বিষ পানে আসাদের মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। রোববার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
