জেলা প্রতিনিধিঃ
শ্বশুরবাড়িতে স্বপ্নের নীড় গড়ে তোলা সম্ভব হলো না। বিয়ের মাত্র ৯ মাসের মাথায় লাশ হতে হলো শারমিন আক্তারকে। গত শুক্রবার রাতে কোনো একসময় তাকে হত্যা করে বসতঘরের পাশে গোয়াল ঘরের মেঝেতে রেখে দেওয়া হয় তার লাশ। নরসিংদী বেলাব উপজেলার সল্লাবাদ ইউনিয়নের সররাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
শারমিনের পরিবারের অভিযোগ তাকে হত্যা করা হয়েছে। অপরদিকে শারমিন ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
৯ মাস আগে ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের টান কৃষ্ণনগর গ্রামের গোলাপ মিয়ার মেয়ে শারমিন আক্তারের সঙ্গে পরিবারিকভাবে বিয়ে হয় বেলাব উপজেলার সল্লাবাদ ইউনিয়নের ফিরোজ মিয়ার ছেলে প্রবাসী নাদিম মিয়ার। বিয়ের কয়েক মাস পর নাদিম আবার প্রবাসে চলে যান।
শারমিনের পরিবার জানায়, তার স্বামী নাদিম বিদেশ চলে যাওয়ার পর থেকে শারমিনের সঙ্গে তার শাশুড়ি সাহেরা খাতুন ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। যৌতুকের জন্য প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করে। এসব কারণে তাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক মোটেও ভালো যাচ্ছিল না। প্রায়ই তার শাশুড়ি ছেলের বউয়ের কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হতো। একপর্যায়ে এসব ঝগড়ার জেরে শারমিনকে হত্যা করেছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
পরিবারের আরো অভিযোগ, শারমিন গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ায় ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলে তার শাশুড়ি সাহেরা খাতুন প্রচার করলেও বাস্তবে শারমিনের লাশ গোয়াল ঘরের মাটিতে হাত-পা ছড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
শারমিনের মামা জসিম উদ্দীন জানান, তার ভাগনির লাশ হাত-পা ছড়ানো ও বিবস্ত্র অবস্থায় গোয়াল ঘরে পড়েছিল। তাকে হয়তো ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে।
শারমিনের বাবা গোলাপ মিয়া জানান, তিনি গরিব আর শারমিনের শ্বশুরবাড়ির লোকজন ধনী। এ কারণে তাদের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না। সম্প্রতি শারমিনের স্বামী বিদেশ চলে যাওয়ার পর যৌতুক হিসেবে টাকা দিতে তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়। ওই টাকা দিতে না পারায় তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এর বিচার চান।
