জেলা প্রতিনিধিঃ
মাদারীপুরের শিবচরে রেজাউল করিম নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। চাকরির কথা বলে ডেকে এনে তাকে হত্যার পর আগুনে মুখ ঝলসে দেন তার বন্ধু রোলাস মালিথা রনি। আদালতে ১৬৪ ধারায় এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন রনির সহযোগী এমদাদ মুন্সি।
মঙ্গলবার বিকেলে শিবচর থানার ওসি মো. মিরাজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এমদাদ মুন্সিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ওসি বলেন, বগুড়ার সদর উপজেলার চকসূত্রাপুর গ্রামের মো. রেজাউল করিম ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চরআমলা গ্রামের রোলাস মালিথা রনি কর্মসূত্রে কয়েক বছর আগে নেপাল থাকতেন। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব। আড়াই বছর আগে দেশে আসার পরও তাদের যোগাযোগ ছিল। ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে রেজাউলকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে কাজ দেওয়ার কথা বলে রনি শিবচরের মাদবরচরে তার শ্বশুরবাড়িতে আসতে বলেন।
ওসি মিরাজ হোসেন বলেন, ১০ সেপ্টেম্বর রেজাউল তিন হাজার টাকা নিয়ে শিবচরের মাদবরচর আসেন। রনি তার সহযোগী এমদাদ মুন্সিকে প্রকল্পের বস সাজিয়ে রেজাউলকে নিয়ে রাতে মাদবরচরের কালাই হাজী কান্দির একটি নির্জন এলাকার পরিত্যক্ত ঘরের কাছে নিয়ে যান। সেখানে রেজাউলকে পেছন থেকে গলায় ফাঁস দেন। গোঙানোর কণ্ঠ নকল করে রেজাউলের ছবি তুলে তার পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন রনি। কিন্তু দরিদ্র পরিবারটি দিতে অসমর্থ হয়। এরপর এমদাদ ও রনি দুজনই সটকে পড়েন।
ওসি আরো বলেন, ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পরিত্যক্ত ওই ঘর থেকে দুর্গন্ধ পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত-পা বাঁধা ও মুখ ঝলসানো অবস্থায় রেজাউলের মরদেহ উদ্ধার করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ সোমবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের কবুতরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমদাদুল হক মুন্সিকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যে ঘটনাস্থল থেকে রেজাউলের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আদালতের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে মাদারীপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
