লঞ্চে আগুনের ঘটনায় এগিয়ে এসেছিলো যারা - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শনিবার, জানুয়ারি ০১, ২০২২

লঞ্চে আগুনের ঘটনায় এগিয়ে এসেছিলো যারা

লঞ্চে আগুনের ঘটনায় এগিয়ে এসেছিলো যারা
এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুনের ঘটনায় ‘রিয়েল লাইফ হিরো’



নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে চলন্ত লঞ্চে আগুনের ঘটনায় যাত্রীদের বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন কয়েকজন ট্রলারমালিক ও চালক। তাদের বলা হচ্ছে- ‘রিয়েল লাইফ হিরো’। নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে তিন শতাধিক যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন তারা।

দুর্ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে আলোচনায় রয়েছেন মিলন খান, আলিম, রাকিব, জুয়েল হাওলাদার, দেলোয়ার হোসেন, সাইফুলের মতো মানবিকতার এই মূল নায়করা।



 

গত বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লাগার পর থেকে তিন শতাধিক যাত্রীকে নিরাপদে তীরে পৌঁছে দিয়েছেন তারা।


এমন মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গণমাধ্যমে পরিচিতি ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুরস্কার পেয়েছেন ট্রলারচালক মিলন খান। তিনিসহ বাকি ‘রিয়েল লাইফ হিরো’রা বলেন, এতগুলো মানুষের জীবন বাঁচানোর সুযোগ পেয়ে আমরা গর্বিত। নিজেরা স্বল্প আয়ে কোনোরকমে পরিবার নিয়ে বেঁচে আছি। ঐ রাতে এমন কোনো চিন্তাই করিনি। লঞ্চে আগুন লাগার পর একটাই ভাবনা মাথায় আসে- যেভাবেই হোক মানুষগুলোকে বাঁচাতে হবে।


তারা আরো বলেন, যাত্রীদের চিৎকার ও আগুন দেখে ট্রলার নিয়ে ছুটে যাই। দেখি আগুন থেকে বাঁচতে যাত্রীরা নদীতে ঝাঁপ দিচ্ছেন। কেউ সাঁতার কাটছেন, কেউ হাবুডুবু খেয়ে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছেন। এমন দৃশ্য দেখে নিজেদের ধরে রাখতে পারিনি। যাত্রীদের দ্রুত পানি থেকে তুলে তীরে নিয়ে গেছি। কারো কাছ থেকে ভাড়া নেইনি। বিপদে এতগুলো মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি, এটাই অনেক।


শুধুমাত্র ট্রলার চালক কিংবা মালিকরা নন, লঞ্চ দুর্ঘটনা কবলিত যাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন স্থানীয় তরুণরাও। ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাকিউর রহমান শাকিল বলেন, ঐ রাতে আহত যাত্রীদের জন্য স্থানীয় দোকান থেকে গরম চা, পানি ও খাবারের ব্যবস্থা করে অনেক তরুণ। যাত্রীদের উদ্ধারের জন্য ট্রলারের ব্যবস্থাও করেন তারা।


এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের ইঞ্জিনরুম থেকে লাগা আগুনে এখন পর্যন্ত ৪৪ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় শতাধিক। এছাড়া জ্বলন্ত লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণ বাঁচিয়েছেন অনেকে। এসব ঘটনায় হতাহতদের জন্য চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠন করা হয়েছে একাধিক তদন্ত কমিটি। এছাড়া লঞ্চে আগুনের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। আত্মসমর্পণ করেছেন এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের দুই মাস্টার।

মোঃসাইফুল্লাহ /সময় সংবাদ

Post Top Ad

Responsive Ads Here