দুই গাছের জমকালো বিয়ে, অতিথি ৫ শতাধিক । সময় সংবাদ - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২

দুই গাছের জমকালো বিয়ে, অতিথি ৫ শতাধিক । সময় সংবাদ

দুই গাছের জমকালো বিয়ে, অতিথি ৫ শতাধিক । সময় সংবাদ
 দুই গাছের জমকালো বিয়ে, অতিথি ৫ শতাধিক । সময় সংবাদ


 বগুড়া:

জমজমাট বিয়ের আসর। অতিথি পাঁচ শতাধিক মানুষ। তবে এ বিয়ের বর-কনে কেউ মানুষ নয়। ‘বর’ বট গাছ ও ‘কনে’ পাইকড় (পাকুর) গাছ! শুধু তা-ই নয়, বিয়ের আগে বটগাছেন নাম রাখা হয় ‘অন্তর’ ও পাইকড় গাছের নাম রাখা হয় ‘রুপালি’।


হিন্দুরীতি অনুসারে কলাগাছ দিয়ে সাজানো হয় বিয়ের আসর ও ছাদনাতলা। দিনভর চলে গান-বাজনা। উৎসবে মেতে ওঠে বর ও কনেপক্ষ। পুরো শ্মশানঘাট সাজানো হয় রঙিন কাগজে, টাঙানো হয় সামিয়ানাও। পাশেই ব্যস্ত রাঁধুনিরা। বিয়ের অতিথিদের খেতে দেওয়া হয় পোলাও, সবজি, ঘণ্ট, পায়েস এবং জলপাইয়ের আচার।


এমন ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার সদর উপজেলার মগলিশপুর করতোয়া সার্বজনীন শ্মশানঘাটে। গ্রামের মঙ্গল কামনায় দুই গাছের বিয়ে দেয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বিয়েতে অন্তরের (বটগাছ) বাবা-মা হয়েছিলেন ঐ গ্রামের সুশীল চন্দ্র দাস ও প্রতিভা রানী দম্পতি। আর রুপালির (পাইকড় গাছ) বাবা-মা হয়েছিলেন নাথু রাম সরকার ও মা হয়েছিলেন চপলা রানী দম্পতি।


শুক্রবার সকাল থেকে ছাদনাতলায় মঙ্গলঘট বসিয়ে শুরু হয় বিয়ের আয়োজন। বট-পাকুরের বিয়ে দেখতে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। দুপুরে নারায়ণ পূজার মধ্য দিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎসবে মেতে ওঠে গ্রামবাসীরা। বিয়ে দেখতে ভিড় করে হাজারো মানুষ। এদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে চলে বট-পাকুরের বিয়ে।



হিন্দুধর্ম মতে বট-পাকুরের বিয়ে হলে গ্রামের মঙ্গল হয়। অনেক আগে থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে দুই গাছের মধ্যে বিয়ের রীতির প্রচলন আছে। পুরনো রীতি মেনে গাছ দুটির বিয়ে দেওয়া হয়। বট-পাকুরের বিয়েতে পুরোহিত ছিলেন প্রদীপ চন্দ্র। গোধূলি লগ্নে (সন্ধ্যা) মন্ত্র পড়ে বিয়ের কাজটি সম্পন্ন করেন তিনি।


বটগাছের (বর) বাবার দায়িত্বে থাকা সুশীল চন্দ্র দাস ও পাইকড় গাছের (কনে) গাছের বাবার দায়িত্বে থাকা নাথু রাম সরকার জানান, বটগাছ ও পাকুর গাছ একসঙ্গে থাকলে বিয়ে দিতে হয়। এতে গ্রামের মঙ্গল হয়। এটি পুরোনো রীতি ও বিশ্বাস। বিয়েটা বট-পাকুরের মধ্যে হলেও দুই পরিবারের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট থাকবে।


সার্বজনীন শ্মশানঘাট কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৈলাস চন্দ্র দাস কার্তিক জানান, শাস্ত্রমতে বট-পাকুর পাশাপাশি থাকলে গাছ দুটির বিয়ে দিতে হয়। তা-ই করা হয়েছে।


বগুড়া শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাজু হোসেন পাইকার জানান, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পুরোনো রীতি অনুসারে বট-পাকুরের বিয়ে দিয়েছে। মানুষের বিয়েতে যেমন আয়োজন করা হয় ঠিক তেমন আয়োজেনেই দুটি গাছের বিয়ে দেওয়া হয়েছে।





Post Top Ad

Responsive Ads Here