চট্টগ্রামের ‘দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার’ ম্যাক্সন ভারতে গ্রেফতার - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২২

চট্টগ্রামের ‘দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার’ ম্যাক্সন ভারতে গ্রেফতার

মো. নুরনবী ম্যাক্সন: ছবি সংগৃহীত
মো. নুরনবী ম্যাক্সন: ছবি সংগৃহীত


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

চট্টগ্রাম পুলিশ তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার’ মোঃ নুরনবী ম্যাক্সনকে ভারতে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনার বরানগর থানার ডানলপ এলাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তমাল চৌধুরী নামে ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী। ম্যাক্সন চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার জাহানপুর এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।


ম্যাক্সন এবং আরেক কুখ্যাত সন্ত্রাসী, সারওয়ার, 31 আগস্ট, 2016-এ জামিনে মুক্তি পেয়ে কাতারে পালিয়ে যায়। চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে তারা মানিকজোড় নামে পরিচিত। তারা কাতারে বসে তাদের অনুসারীদের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করত। ২০২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে ফেরার পর ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সারোয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়।


ম্যাক্সন বায়েজিদ বোস্তামীর বিষয়ে জানতে চাইলে থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, তিনি ভারতে ম্যাক্সনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পুলিশ সদর দফতরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ৭ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নূর নবী ওরফে ম্যাক্সন এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকা থেকে সারোয়ার ও গিট্টু মানিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে AK-47 রাইফেল ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। সারোয়ার ও ম্যাক্সন একসময় সাজ্জাদ হোসেন খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিল, যারা মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ক্যাম্পের 'ক্যাডার'। পরে তাদের সম্পর্কের অবনতি হলে তারা জেল ক্যাম্পের আরেক সন্ত্রাসী নাসিরের অনুসারী হয়।


২০১৩ সালে সাজ্জাদ কারাগারে থাকা অবস্থায় সারওয়ার ও ম্যাক্সনের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে নাসিরকে চট্টগ্রাম থেকে কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয় এবং সারওয়ারকে চট্টগ্রাম কারাগারের আলাদা ওয়ার্ডে রাখা হয়। প্রায় ছয় বছর কারাগারে থাকাকালীন সারোয়ার ও ম্যাক্সন তাদের অনুসারীদের নিয়ে বায়েজিদ এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করেন।


সারওয়ার এবং ম্যাক্সন 2016 সালে জামিনে মুক্তি পেয়ে কাতারে চলে যান। চট্টগ্রামের স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যা মামলার আসামি হয়ে কাতারে পাড়ি জমান ইমতিয়াজ সুলতান ওরফে একরামও। ২০১৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের এক গাড়ির যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ীর কাছে টাকা দাবি করেন সারোয়ার, ম্যাক্সন ও একরাম। তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করত তার অনুসারীরা। বকেয়া পরিশোধ না করায় একই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর বায়েজিদের নয়া হাটে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়।


ব্যবসায়ী থানায় কোনো অভিযোগ না করলেও পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। একই সময়ে উজ্জ্বল দেওয়ানজী নামে আরেক ব্যবসায়ী শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের নামে চাঁদা দাবি করেন। কাতারে সারোয়ার, ম্যাক্সন ও একরামের নির্দেশে উজ্জ্বলের কাছে তার অনুসারীরা টাকা চেয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। 24 অক্টোবর, 2019-এ পুলিশ পাঁচ সারওয়ার-ম্যাক্সন অনুসারীকে গ্রেপ্তার করে। পরে সারওয়ার দেশে ফিরে আসেন এবং গ্রেপ্তার হন। সেখান থেকে ম্যাক্সন ভারতে চলে আসেন।

 মোঃসাইফুল্লাহ /সময় সংবাদ 

Post Top Ad

Responsive Ads Here