কানাইপুর বাজার বণিক সমিতির নামে নির্বাচন স্থগিতাদেশ জারি-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে প্রার্থীরা - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২২

কানাইপুর বাজার বণিক সমিতির নামে নির্বাচন স্থগিতাদেশ জারি-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে প্রার্থীরা

 



স্টাফ রিপোর্টার:

ফরিদপুর সদরের ঐতিহ্যবাহী কানাইপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেছেন উপজেলা প্রশাসন। 


৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুদুল আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নির্বাচন স্থগিত করার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোঃ জুলফিকার আলী মিনুকে নির্দেশ দেন। কিন্তু এই স্থগিতাদেশকে অমান্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশে দিব্যি প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে প্রার্থীরা। 


স্থগিতাদেশে জানানো হয়েছে, করোনা ভাইরাস জনিত রোগ কোভিড-১৯ এর নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রণ এর প্রাদুর্ভাব ও বাংলাদেশে এ রোগের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সার্বিক কার্যাবলি/চলাচলে বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ফরিদপুর সদর উপজেলায় করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ৬/০২/২০২২খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠেয় ফরিদপুর সদর উপজেলাধীন কানাইপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে ব্যাপক জনসমাগম ঘটবে মর্মে প্রতীয়মান হয়, যা করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে। এমতাবস্থায় ফরিদপুর সদর উপজেলায় করোনার বিস্তার রোধকল্পে কানাইপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।


এদিকে শুক্রবার বিকালে কানাইপুর বাজার ঘুরে দেখা যায় ব্যাপকভাবে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে প্রার্থীরা। এছাড়া তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছে। 


এ বিষয়ে জানতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোঃ জুলফিকার আলী মিন’র মুঠোফোনে বার বার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব লক্ষণ চক্রবর্তীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বেড়াতে এসেছি। এই বলেই তিনি ফোন কেটে দেন। পরে বার বার চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।


পরে নির্বাচন কমিশনের তৃতীয় ব্যক্তি খোকন মাতুব্বরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ হলে তিনি জানান, তিনি চিঠির বিষয়টি জানেন না, আজ দুপুরে ফেসবুকে দেখেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হাতে চিঠি পৌঁছেছে বললে  এ বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি বলে তিনি জানান। প্রার্থীরা কেন এখনও প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে জানতে চাইলে খোকন মাতুব্বর বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার যদি তাদের প্রচার থামাতে না বলে তাহলে তারা থামবে না। 


তিনি আরও বলেন, চিঠিতে যে করোনা পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে সেই করোনা কি শুধু আমাদের এই নির্বাচনে? সাত তারিখে অনেক জায়গায় ইউপি নির্বাচন হবে তখন করোনা থাকবে না? এই নির্বাচন নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাতে কোন লাভ হবে না। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে।


অন্যদিকে কানাইপুরের এই নির্বাচন নিয়ে প্রার্থীরা ফেসবুকে নানা রকম উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার করছে। যা নির্বাচন বা পরবর্তী সময়ে সহিংসতায় রুপ নিতে পারে বলে আশংকা করছে অনেকে। স্থানীয় অনেকেই বলছেন এই প্রহসনের নির্বাচন বন্ধ করে নিয়মনীতি মেনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। 


উল্লেখ্য, কানাইপুর বাজার বণিক সমিতির নামে কোনো নিবন্ধন নেই বলে জানা যায়। নিবন্ধন ছাড়াই তারা একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে গতানুগতিকভাবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেন। এরপর থেকে তারা প্রার্থী যাচাই-বাছাই থেকে সকল কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকেন।

Post Top Ad

Responsive Ads Here