| রাঙামাটির জনপ্রিয় ‘পাহাড়ি কলা’ যাচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে |
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাঙামাটিতে স্থানীয় কৃষকরা খালি পাহাড়ের ঢালে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জাতের কলা চাষ করে আসছেন। পাহাড়ি জমির মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধীরে ধীরে কলাবাগান গড়ে উঠেছে। এই স্বাদের কারণে জনপ্রিয় এই 'পাহাড়ি কলা' যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এ থেকে বার্ষিক আয় হয় ৩৫০-৪৫০ কোটি টাকা।
স্থানীয় কলা চাষিদের মতে, পাহাড়ি জমিতে চম্পা, বেঙ্গল, সাগর ও সূর্যমুখী জাতীয় কলা জন্মে। তবে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক না হওয়ায় তারা তেমন চাষাবাদ করতে পারছেন না। প্রয়োজনীয় সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কলা চাষ থেকে আয় বাড়বে। পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিতে অর্থনীতির নতুন দুয়ার খুলবে, আসবে অভাবনীয় সাফল্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা কলা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। দেশীয় উন্নত জাতের কলা চাষ করে আশাতীত ফলন পাওয়া যাচ্ছে। নৌকাভর্তি কলা নিয়ে জেলার প্রতিটি বাজারে ভিড় জমাচ্ছেন তারা। প্রতিদিনই বাজারে ভিড় বাড়ছে। দাম নাগালের মধ্যে থাকায় পাইকাররা প্রতিদিন ট্রাকে ভরে বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করছেন। রাঙামাটিতে কোনো হিমাগার না থাকায় কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে এসব কলা। ফলে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কলা চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমান মন্টু জানান, রাঙামাটির বাংলা ও চম্পা কলা সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর। চট্টগ্রামে এর ভালো চাহিদা রয়েছে। তাই প্রতি মাসে ৩-৪ ট্রাক কলা নিয়ে যাই। শীতে লোকসানে চলছে ব্যবসা। তবে গরম আবহাওয়ায় কলার চাহিদা বেশি থাকে। সে সময় ভালো লাভ করা যায়।
| স্বাদ ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এ পাহাড়ি কলার দাম হাতের নাগালেই |
বনরূপা এলাকার সমতা ঘাটে কলা বিক্রি করতে আসা কৃষক রবি মোহন চাকমা ও রিতিশ চাকমা জানান, পাহাড়ে চাষ করা কলা বাজারে আনা কষ্টকর ও ব্যয়বহুল। করোনার পর থেকে আগের বছরগুলোর মতো ভালো দাম পাচ্ছি না। জেলায় হিমাগার না থাকায় কম দামে কলা বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায় না।
রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে রাঙামাটি জেলায় ১১ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে কলার চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৬২৩ মেট্রিক টন। ওজনে উৎপাদিত কলা বিক্রি হয় ২০ টাকায়। কান্দি প্রতি 150 টাকা।
জেলা কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. সেলিম মিয়া বলেন, রাঙামাটি জেলায় ৫০ শতাংশ বাঙালি কলা ও ৫০ শতাংশ চম্পা কলা বিক্রি হয়। যে বছর উৎপাদন সঠিক হয়, সে বছর ৫০ টাকা মূল্যের কলা। বিক্রি হয় 350-450 কোটি টাকা।
রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তপন কুমার পাল বলেন, বিভাগ কলা চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়। এছাড়া পাহাড়ে উচ্চ ফলনশীল জাতের ফলের চাষ বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাঙামাটিতে বিভিন্ন মৌসুমে কলা, আনারস, কাঁঠাল, আমসহ বিভিন্ন ধরনের ফল উৎপন্ন হয়। এসব ফল সংরক্ষণের জন্য জেলায় কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।
মোঃসাইফুল্লাহ /সময় সংবাদ
