ফরিদপুর মহাসড়কে বন বিভাগের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজী | সময় সংবাদ - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, মার্চ ৩০, ২০২২

ফরিদপুর মহাসড়কে বন বিভাগের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজী | সময় সংবাদ

ফরিদপুর মহাসড়কে বন বিভাগের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজী | সময় সংবাদ


নিজস্ব প্রতিনিধি:

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। দেশের প্রতিটি সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থাকবে দুর্নীতি মুক্ত। কিন্তু সরকার প্রধানের এমন ঘোষণার কোনো তোয়াক্কাই করছেন না ক্ষোদ ফরিদপুর বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী।


দেশের দক্ষিণ বঙ্গের অন্যতম একটি জেলা ফরিদপুর। ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ও ঢাকা বরিশাল মহাসড়কের প্রবেশ পথ এই ফরিদপুর। এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করে বিভিন্ন জেলার গাছের গুড়ি ও জ্বালানী কাঠ বহনকারী অর্ধ শতাধিক ট্রাক। আর এই ট্রাক গুলো নিয়মিত যাতায়াতে অবৈধ ভাবে নিজেদের পকেট ভারী করে যাচ্ছেন ফরিদপুর বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী।


নিয়মিত গাছের গুড়ি ও জ্বালানী বহনকারী বেশ কয়েকজন ট্রাক চালক মৌখিক অভিযোগে  সাংবাদিকদেরকে জানান, ঢাকা খুলনা মহাসড়ক ও ঢাকা বরিশাল মহসড়কের ফরিদপুরের রাজবাড়ী রাস্তারমোড় দিয়ে আমাদের গাড়ী চালানো খুবই সমস্যা। বন অফিসের লোকজন নিয়মিত রাস্তায় দাড়িয়ে থাকে, জ্বালানী কাঠের গাড়ী হতে ২শ থেকে ৫শ টাকা দিতে হয়। আর টিপির জন্য (চলাচল পাশ)  ১ হাজার থেকে ১৫শত টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে গাড়ী আটকে রাখে, পরে গাছের বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে দশ বিশ হাজার টাকা জরিমানা করে।


এমন অনেক অভিযোগকে একত্রিত করে শুরু হয় সাংবাদিকদের অনুসন্ধান। অনুসন্ধানে জানা যায়, টিপি বা চলাচল পাশে রয়েছে বিশাল অনিয়ম ও দুর্নীতি। এই টিপি বা চলাচল পাশে  সরকারী ভাবে কোনো রাজস্ব না থাকলেও চালকদের নিকট হতে নেওয়া হয় ১ হাজার থেকে ১৫শত টাকা। আর এই টাকা না দিলে মিলে না টিপি বা চলাচল পাশ। তাই চালকরা প্রতিনিয়ত বাধ্য হয়েই দিয়ে যাচ্ছেন এই টাকা।


গাছের গুড়ি বহনের জন্য ট্রাকের চলাচল পাশ আছে কিনা ও অবৈধ কোন গাছ বহন করা হচ্ছে কিনা, এটা দেখার দায়িত্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর সাঈদুর রহমানের থাকলেও তিনি তা করছেন না, এই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন এফ.জি (ফরেষ্ট গার্ড) জাহিদুল ইসলাম সহ সাধারন কর্মচারী ও অফিসের দুই জন বাগান মালি।


কোন প্রকার প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া একটি মহাসড়কের জনশুন্য স্থানে রাত্রে মটর সাইকেল যোগে একটি ট্রাক কে আটকানো নিয়ম বহির্ভূত ও ঝুকিপূর্ণ কাজ হওয়া সত্তেও গত ২৩ শে ফেব্রুয়ারী-২০২২, কোন অফিসারকে সঙ্গে না রেখে  দিবাগত  রাত একটার সময়ে দুই বাগান মালী, মোঃ ইসমাইল ও মোঃ নান্নু মটরসাইকেল যোগে নড়াইল হতে আসা একটি ট্রাককে পূর্বগঙ্গাবর্দী হতে আটক করে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যান, পরদিন সকালে জানাজানি হয় এই ঘটনা, তখন প্রাথমিক ভাবে তারা জানান গাড়ীর কোনো চলাচল পাশ নেই তাই আটক করা হয়েছে।

ফরিদপুর মহাসড়কে বন বিভাগের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজী | সময় সংবাদ


অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, প্রতিদিন সন্ধা হতে মধ্যরাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধু স্কোয়াড বা রাজবাড়ী রাস্তার মোড়, বাইপাস সড়ক, বদরপুর বাজারের স্পীড ব্রেকার,  কানাইপুর হলপট্টি, মাইজকান্দি বাজার ও কোমরপুর ফিলিং স্টেশনে অবস্থান নেয় তারা।


গত ১লা মার্চ ২০২২ শীতের পোশাক পরিধান করে মোটরসাইকেল সহ কোমরপুর ফিলিং স্টেশনে অবস্থান নেন দুই বাগান মালী। রাত তখন আনুমানিক ১০টা। বাইপাস সড়ক দিয়ে আসা জ্বালানী কাঠ বহনকারী চারটি ট্রাক কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে তারা সিগন্যাল দেয়, ট্রাক চালকরা না দাড়ালে মটরসাইকেল যোগে তাদের ধাওয়া করে এবং গাড়ীর গতীরোধ করে সামনে গিয়ে মটরসাইকেল ব্রেক করে, তখন চালকরা গাড়ী থেকে নেমে জিজ্ঞাসা করেন গাড়ী থামালেন কেনো, উত্তরে তারা বলেন, আমরা বন বিভাগের লোক বন অফিসের টাকা দিয়ে যেতে হবে, পরে চারটি গাড়ী হতেই ২শ টাকা করে ৮শ টাকা দেয় চালকরা, যা সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ভিডিও ধারন করা হয়েছে। পরবর্তীতে ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে, এই ভাবে রসিদ বিহীন টাকা আদায়ের বেপারে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তারা জানান, এফ.জি (ফরেষ্ট গার্ড) জাহিদুল ইসলাম তাদের কে এই কালেকশন করতে বলেছেন। এবং জাহিদুল ইসলামের নির্দেশেই নিয়মিত তারা এই অর্থ কালেকশন করেন।


এদিকে চলাচল পাশ না থাকার কারনে ২৩শে ফেব্রুয়ারী আটককৃত ট্রাকটি আটকই রয়েছে ১লা মে পর্যন্ত। অপর দিকে রাতে রাস্তার চাঁদাবাজীর ভিডিও সাংবাদিকদের নিকট চলে আসায় বিভ্রান্তিতে পরে যায় সবাই। তখন অফিসে কোনো প্রকার ঝামেলা রাখবেননা বিধায় ২৩ তারিখের আটককৃত ট্রাকটিকে ছেড়ে দেওয়ার পায়তারা  শুরু হয় সকলের মাঝে।  সারারাত গাছের মালিককে অফিসে বসিয়ে রেখে ২রা মে ভোর চারটার সময় চলাচল পাশ দেওয়া হয় ট্রাকের। চলাচল পাশ না থাকার জন্য ট্রাকটি এই এক সপ্তাহ আটক থাকার পর অফিস জানায় ট্রাকে অবৈধ গাছ বহন করা হয়েছে। আর এর জন্য ২০ (বিশ) হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। পরে জরিমানা আদায় করে অফিস চত্ত্বর থেকে ট্রাকটিকে ফজরের আজানের আগেই ছেড়ে দেন। অবশ্য ট্রাকটি আটকের এক দিন পরেই গাছের মালিক মোশাররফ হোসেন কে টাকা গুছিয়ে রাখতে বলেছিলেন এফজি জাহিদুল ইসলাম, কত টাকা গুছিয়ে রাখতে হবে জিজ্ঞাসা করায় এফজি জানিয়েছিলেন ১৫ হাজারের বেশিই লাগবে, এর কমে স্যার কাজ করবেন না।


বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি ও মহাসড়কে চাঁদাবাজীতে এফ.জি জাহিদুল ইসলামের সম্পৃক্ততা থাকায় , এই বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা, আমি কাওকে কোথাও পাঠাইনি। আমি পাঠানোর কে?


এফ.জি জাহিদুল ইসলামের এমন উত্তরে প্রশ্ন থেকেই যায়, যদি তিনি এমন কাজ না'ই করেন, কাওকে চাঁদাবাজী করতে নির্দেশই না দেন, তাহলে কার নির্দেশে এই কাজ গুলো করে চলেছেন তারা, নির্দেশ কি তাহলে আরো উপর থেকে!


প্রশ্নের উত্তর খুজতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর সাঈদূর রহমানের নিকটে জানতে চাইলে তিনি জানান, অফিস চালাতে অনেক খরচ, একটু আকটু এদিক সেদিক না করলে অফিস চালাবো কি ভাবে।


ফরিদপুর বিভাগীয় বনকর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগদানকৃত নব্য বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ গোলাম কুদ্দুস ভুইয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান-টিপির জন্য কোন রাজস্ব নেই, টাকা সব যায়গায় বিভিন্নখাতে নেওয়া হয়, তবে এটা ভালো কাজ করছেনা। তবে যিনি দেন, তিনি দেন বলেই ইনি নেন।


একটা টিপির বইয়ে ৩০০ পাতা থাকে ৩ পাতা করে।, যা আমাদেরকে ফ্রিতে দেওয়ার কথা, কিন্তু বিজি প্রেস থেকে তা ১ হাজার টাকা দিয়ে আনতে হয় আমাদের। আর কিছু টাকা পয়সা নেয়া হয় তা সিসিএফ সচিব ও জানে, তাই  বলে কারো উপর জুলুম করে নয়। যে কোন অনিয়মের বিষয়ে আমাকে অবগত করবেন, আমি ব্যবস্থা গ্রহন করবো।



মিয়া সৈকত/ফরিদপুর/সময়


Post Top Ad

Responsive Ads Here